ইস্তেহাজা হতে পবিত্রতা

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4592
Questioner: Taslima Islam
Question Asked: 29 Aug 2026, 01:11 AM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 04:35 AM
Views: 17
Tokens: 2,722
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইস্তেহাজা অবস্থায় কন্টিনিউ ব্রিডিং হলে যে পট্টি ব্যবহার করা হয় সেটা কি প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজে এবং অন্যান্য নফল নামাজ পড়ার পূর্বে চেইঞ্জ করতে হবে? কিংবা মাঝে কখনও ইস্তিঞ্জায় গেলে তখনও সেটা চেইঞ্জ করতে হবে যদিও ব্লাড বেশি না হয়?

Answer

ইস্তেহাজা অবস্থায় পট্টি পরিবর্তনের বিধান

উত্তর

ইস্তেহাজা (استحاضة) হলো এমন রক্ত যা হায়েজ বা নিফাসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে নির্গত হয়। ইস্তেহাজা অবস্থায় মহিলার জন্য নামাজ, রোজা, তাওয়াফ ইত্যাদি বৈধ, তবে তাকে প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্য অজু করতে হয় এবং রক্ত যেন বের না হয় সেজন্য পট্টি বা কাপড় ব্যবহার করতে হয়।

পট্টি পরিবর্তনের বিধান:

১. প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের পূর্বে পট্টি পরিবর্তন করা:

ইস্তেহাজা অবস্থায় প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন করে অজু করা ফরজ/ওয়াজিব। আর পট্টি পরিবর্তন বা ধৌত করা সম্পর্কে হানাফি মাযহাবের বিধান হলো:

  • ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাজের জন্য অজু করা ওয়াজিব, আর পট্টি পরিবর্তন করা বা ধৌত করা সুন্নত (মুস্তাহাব)।
  • তবে পট্টিতে যদি নাপাকি (রক্ত) এমন পরিমাণে লেগে থাকে যা মাফের পরিমাণের (দিরহাম পরিমাণ) বেশি হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা বা ধৌত করা ওয়াজিব

২. ইস্তিঞ্জায় গেলে পট্টি পরিবর্তন:

মাঝে মাঝে ইস্তিঞ্জায় গেলে পট্টি পরিবর্তন করা জরুরি নয়, তবে যদি পট্টিতে নাপাকির পরিমাণ মাফের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

হানাফি ফিকহের দলিল:

রদ্দুল মুহতার (শামী) -এ উল্লেখ আছে:

"المستحاضة إذا توضأت للصلاة، فإنها تصلي بوضوئها ما شاءت من الفرائض والنوافل ما لم يحدث حدثاً آخر، ولا يلزمها تغيير الخرقة لكل صلاة، لكنه مستحب"

"ইস্তেহাজা মহিলা যখন নামাজের জন্য অজু করে, তখন সে ঐ অজু দ্বারা যত খুশি ফরজ ও নফল নামাজ আদায় করতে পারে, যতক্ষণ না অন্য কোনো হাদাস (নাপাকি) সংঘটিত হয়। প্রত্যেক নামাজের জন্য পট্টি পরিবর্তন করা আবশ্যক নয়, তবে তা মুস্তাহাব।"

ফতোয়ায়ে শামী, ১/৩০৫

বাদায়েউস সানায়ে -এ উল্লেখ আছে:

"وأما المستحاضة فحكمها حكم صاحب العذر في الوضوء لكل صلاة، ولا يجب عليها غسل الثوب ولا تغيير الخرقة إلا إذا جاوز الدم قدر الدرهم"

"ইস্তেহাজা মহিলার বিধান হলো উযরগ্রস্ত ব্যক্তির মতো—প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করা। তার জন্য কাপড় ধৌত করা বা পট্টি পরিবর্তন করা ওয়াজিব নয়, তবে রক্ত দিরহাম পরিমাণের বেশি হলে ভিন্ন কথা।"

বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪২

ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরি) -এ আছে:

"المستحاضة تتوضأ لكل صلاة ولا يجب عليها غسل ما على بدنها من الدم إلا إذا كان فاحشاً"

"ইস্তেহাজা মহিলা প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করবে। শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধৌত করা তার ওপর ওয়াজিব নয়, তবে যদি তা অত্যধিক হয় (দিরহামের বেশি) তাহলে ভিন্ন কথা।"

ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৮

সংক্ষিপ্ত বিধান:

| অবস্থা | বিধান | |--------|--------| | পট্টিতে রক্ত দিরহাম পরিমাণের কম | প্রত্যেক নামাজে পট্টি পরিবর্তন করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয় | | পট্টিতে রক্ত দিরহাম পরিমাণের বেশি | পট্টি পরিবর্তন বা ধৌত করা ওয়াজিব | | ইস্তিঞ্জায় গেলে | পট্টি পরিবর্তন করা জরুরি নয়, তবে রক্ত বেশি হলে পরিবর্তন করা ভালো | | প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজে | নতুন অজু করা ওয়াজিব, পট্টি পরিবর্তন মুস্তাহাব |

নফল নামাজের বিধান:

ইস্তেহাজা মহিলা এক অজু দ্বারা একাধিক ফরজ এবং যত খুশি নফল নামাজ আদায় করতে পারবে, যতক্ষণ না অজু ভঙ্গ হয় (যেমন: পেশাব-পায়খানা, বায়ু নির্গমন ইত্যাদি)। রক্ত বের হওয়া ইস্তেহাজা মহিলার জন্য অজু ভঙ্গের কারণ নয়, কারণ সে উযরগ্রস্ত (মা'যুর)।

উল্লেখ্য:

ইস্তেহাজা মহিলা যদি মা'যুর (উযরগ্রস্ত) হন—অর্থাৎ পুরো ওয়াক্তে এমন সময় থাকে যখন রক্ত বের হয় না বা বন্ধ থাকে—তাহলে সেই সময়ে অজু করে নামাজ পড়বে। আর যদি পুরো ওয়াক্তেই রক্ত বের হতে থাকে, তাহলে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য নতুন অজু করবে এবং সেই অজু দ্বারা ঐ ওয়াক্তের ফরজ ও নফল নামাজ আদায় করবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.