মাকামাত ও মেয়েদের কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বিষয়ে
Halal and Haram · Hanafi
Question
১. মাকামাত সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ আছে কিনা?
২. যদি জায়েজ হয় তাহলে মাকামাতের কোন পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ হবে?
৩. ১০ বছরের নাবালক মেয়েদের মাকামাত সহ আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা জায়েজ আছে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া প্রয়োজন—মাকামাত (মাকাম) হলো আরবি সংগীতের সুর ও ধারা, যা কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে "তাজবিদ" ও "তরতীল" এর সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামি ফিকহে কুরআন তিলাওয়াতের সুর-ঢং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
১. মাকামাত সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, জায়েজ আছে, তবে শর্তসাপেক্ষে। কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সুর বা মাকামাত ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা তাজবিদের নিয়ম (মাখরাজ, হরকত, মাদ, গুন্নাহ) ঠিক রেখে করা হয় এবং এমনভাবে করা হয় যাতে কুরআনের অর্থ বা উচ্চারণে কোনো বিকৃতি না ঘটে।
- কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর তিলাওয়াত করুন কুরআনকে ধীরে ধীরে (তরতীলের সাথে)।" (সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪)। তরতীল মানে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়া, যা তাজবিদের সাথে সম্পৃক্ত।
- হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নন, যে কুরআন তিলাওয়াত করে সুর করে না (তাহসিনে সাওত বা সুন্দর কণ্ঠে পড়ে না)।" (সহিহ বুখারি: ৭৫২৭; আবু দাউদ: ১৪৬৯)। এই হাদিসে "সুর করে পড়া" অর্থাৎ সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে, তবে তা তাজবিদের সীমার মধ্যে থেকে।
- হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং অন্যান্য হানাফি ফকিহগণ (যেমন: ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) বলেন, কুরআন তিলাওয়াতে সুর ব্যবহার করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো—সুরের কারণে যেন কোনো হরফের উচ্চারণ বিকৃত না হয়, মাদ বা গুন্নাহর জায়গায় যেন বেশি-কম না হয়, এবং অর্থের পরিবর্তন না ঘটে। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৭)।
সারমর্ম: মাকামাত সহ তিলাওয়াত জায়েজ, তবে তা অবশ্যই তাজবিদের নিয়ম মেনে হতে হবে। যদি সুরের কারণে উচ্চারণ বিকৃত হয় বা তাজবিদ লঙ্ঘিত হয়,বা গানের সুর এসে যায়, তাহলে তা হারাম বা মাকরুহ হবে।
২. মাকামাতের কোন পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ হবে?
উত্তর: মাকামাতের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসলামি স্কলারদের মত হলো—যে পদ্ধতিতে তাজবিদের নিয়ম (মাখরাজ, সিফাত, মাদ, গুন্নাহ) ঠিক থাকে এবং কুরআনের মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকে, সেটিই জায়েজ।
- বিশেষত:
- সুরের কারণে যেন হরফের উচ্চারণ (মাখরাজ) ঠিক থাকে। যেমন: "ق" ও "ك" এর উচ্চারণে পার্থক্য বজায় থাকে।
- মাদ (দীর্ঘ স্বর) যেন সঠিক পরিমাণে থাকে। যেমন: মাদ্দে তাবি'ঈ (২ হরকত), মাদ্দে মুত্তাসিল (৪-৫ হরকত) ইত্যাদি।
- গুন্নাহ (নাসালা) যেন ঠিক থাকে।
- সুরের কারণে যেন অর্থের পরিবর্তন না ঘটে। যেমন: কোনো শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ না পড়া।
- তিলাওয়াত যেন গানের সুরের মতো না হয়, বরং কুরআনের মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকে।
- হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে, "কুরআন তিলাওয়াতে সুর করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো—সুরের কারণে তাজবিদের কোনো নিয়ম লঙ্ঘিত না হয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৭)। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে বলেন, "সুরের কারণে যদি হরফের উচ্চারণ বিকৃত হয়, তাহলে তা হারাম; আর যদি তাজবিদ ঠিক থাকে, তাহলে জায়েজ।" (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৪৭)।
সারমর্ম: মাকামাতের যে পদ্ধতিতে তাজবিদের নিয়ম ঠিক থাকে এবং কুরআনের মর্যাদা বজায় থাকে, সেটিই জায়েজ। তবে গানের সুরের মতো বা নাচ-গানের অনুষ্ঠানের মতো তিলাওয়াত করা মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি)।
৩. ১০ বছরের নাবালক মেয়েদের মাকামাত সহ আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা জায়েজ আছে কি?
উত্তর: বর্তমান ফিৎনার যুগ হয় এটি জায়েজ নেই।