১৫ দিন পবিত্রতার পূর্বে রক্তস্রাব শুরু হলে নামায রোযা কিভাবে করবো?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার পিসিওস থাকায় মাসিক অনিয়মিত। মাসিক সাধারণত ২১-২৮ দিন পর পর হয়। তবে একটূ ভালভাবে লাইফস্টাইল মেইনটেইন করলে মোটামুটি একই সময়ে হয়। তা আমার গত ২ বারই মাসের ১৮/১৯ তারিখে হয়েছিল। গত মাস অর্থাৎ ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত মাসিক ছিল। এই মাসে অথার্ৎ ১১ আগস্ট আবার ব্লিডিং শুরু হয়, যদিও ব্লাডের পরিমাণ অত্যন্ত কম ছিল, ফ্লো ও ক্লিয়ার ছিল না। কিন্তু যেহেতু পবিত্র হওয়ার ১৪ দিনের পর হয়েছে তাই আমি এটাকে হায়েজ হিসেবে গন্য করেছিলাম। (৩ দিনের বেশি সময় ছিল) তারপর এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট দেখালে তিনি ৬ মাসের হরমোনাল পিল দেন। ১৬ ও ১৭ তারিখ ২ দিন খেয়ে আমি পিল খাওয়া বন্ধ করে দেই। ( মাথা ব্যাথার কারণে)। ১৮ তারিখে আমার ব্লিডিং শেষ হয়।(যেটা ১১ তারিখ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরপর ২৫ আগস্ট আবার ব্লিডিং শুরু হয়। এইবার পরিমাণে বেশি, সাথে হালকা ব্যথাও। একদম পিরিয়ডের মত। এখন এটাকে কি হিসেবে গন্য করব?এইটা কি হায়েজ? আগেরটা কি ইস্তিহাদা ছিল? আমার কি করা উচিত এখন?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। পিসিওএস-এর কারণে মাসিক অনিয়মিত হওয়া এবং এর সাথে হায়েজ ও ইস্তিহাজার (অস্বাভাবিক রক্তপাত) নিয়ম সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে হানাফি মাযহাবের আলোকে আপনার প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
১. ১১ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ব্লিডিং-এর হুকুম:
আপনার পূর্ববর্তী মাসিক ২৪ জুলাই শেষ হয়েছিল। এরপর ১১ আগস্ট রক্ত দেখা দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়কাল ছিল প্রায় ১৭ দিন। শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী, দুই মাসিকের মধ্যবর্তী পবিত্রতার (তুহর) সর্বনিম্ন সময় হলো ১৫ দিন। যেহেতু আপনার ক্ষেত্রে ১৭ দিন অতিবাহিত হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ ৩ দিনের বেশি (৮ দিন) স্থায়ী ছিল, তাই আপনার ১১ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়টুকুকে 'হায়েয' (মাসিক) হিসেবে গণ্য করা সঠিক ছিল। ব্লাডের পরিমাণ কম বা ফ্লো ক্লিয়ার না থাকলেও তা রক্ত হওয়ার কারণে হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।
২. ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া ব্লিডিং-এর হুকুম:
আপনার গত মাসিক ১৮ আগস্ট শেষ হয়েছে। এরপর মাত্র ৭ দিন পবিত্র থাকার পর ২৫ আগস্ট পুনরায় ব্লিডিং শুরু হয়েছে। এখানে শরীয়তের একটি অকাট্য মূলনীতি হলো— দুই মাসিকের মাঝে অবশ্যই কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্র থাকতে হবে ।
- যেহেতু আপনার ১৮ আগস্টের পর মাত্র ৭ দিন অতিবাহিত হয়েছে (যা ১৫ দিনের চেয়ে অনেক কম), তাই ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই ব্লিডিং নতুন কোনো হায়েয বা মাসিক নয়।
- হানাফী ফিকহের পরিভাষায় এই রক্তক্ষরণকে 'ইস্তেহাযা' (অসুস্থতাজনিত বা অনিয়মিত রক্তক্ষরণ) বলা হয়। পিল খাওয়া বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
৩. বর্তমানে আপনার করণীয়:
বর্তমানে আপনার যে ব্লিডিং হচ্ছে, তা যেহেতু ইস্তেহাযা, সেহেতু আপনার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পালন করা আবশ্যক:
- নামায আদায় করা: ইস্তেহাযা অবস্থায় নামায মাফ হয় না। আপনাকে অবশ্যই নামায আদায় করতে হবে।
- ওযুর নিয়ম: আপনি 'মাযূর' বা ওযরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবেন। প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য আপনাকে নতুন করে ওযু করতে হবে এবং ওই ওযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের ভেতরে ফরয ও নফল সব ধরণের নামায পড়তে পারবেন (আলমগীরী ১/১১৫)]।
- রোযা: যদি রোযা রাখার প্রয়োজন হয়, তবে এই অবস্থায় রোযা রাখাও আপনার জন্য ফরয এবং তা আদায় হয়ে যাবে।
৪. সামনে কখন মাসিক (হায়েয) গণ্য হবে?
২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই ইস্তেহাযার রক্ত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আপনার পূর্বের অভ্যাস বা আদত (Habit) অনুযায়ী দিন গণনা করতে হবে। আপনার আদত যেহেতু ১৮/১৯ তারিখে হওয়ার, তাই আগামী মাসের ১৮/১৯ তারিখের আগে যা রক্ত আসবে তা ইস্তেহাযা হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বর্তমান ইস্তেহাযা বন্ধ হয়ে যদি পুনরায় ১৫ দিন পবিত্র থাকতে পারেন, তবে এরপর যে রক্ত আসবে তা নতুন হায়েয হবে।
সারসংক্ষেপ: আপনার ১১-১৮ আগস্টের ব্লিডিং ছিল হায়েয এবং ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ব্লিডিং হলো ইস্তেহাযা। বর্তমানে আপনি পবিত্রতা অর্জন করে (অযু করে) নিয়মিত নামায আদায় করবেন।
(তথ্যসূত্র: নূরুল ঈযাহ পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ১১৩, পৃষ্ঠা ১১৫; দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫।)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আপনার জন্য দুআ করছি, আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও সহনশীলতা দান করুন এবং আপনার অসুবিধা দূর করুন।