নফল নামাজ
Salah-Prayer · Hanafi
Question
এইদিন কি ঘর পাক পবিত্র করতে হয়
কি কি করব
Answer
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
রবিউল আউয়াল মাসের আলাদা কোনো নামাজ নেই। ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি মাসের জন্য আলাদা কোনো নামাজ বা ইবাদত নির্ধারিত নেই। রবিউল আউয়াল মাসটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই মাসে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই মাসেই তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেছেন। তবে এই মাসের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ, রোজা বা ইবাদতের বিধান কুরআন-হাদিসে নেই।
ঘর পাক-পবিত্র করার বিষয়ে:
প্রতিদিনই ঘর পাক-পবিত্র রাখা ইসলামের নির্দেশ। তবে রবিউল আউয়াল মাসে ঘর পাক-পবিত্র করার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ বিধান নেই। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পবিত্রতা বজায় রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
রবিউল আউয়াল মাসে করণীয়:
১. নবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা: এই মাসে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ প্রেরণ করো এবং সালাম পাঠাও।" (সূরা আহযাব: ৫৬)
২. নবী (সা.)-এর জীবনী অধ্যয়ন করা: এই মাসে নবী (সা.)-এর জীবনী, তাঁর আদর্শ, চরিত্র এবং শিক্ষা সম্পর্কে জানা ও মেনে চলার চেষ্টা করা উচিত।
৩. সীরাত মাহফিলের আয়োজন: নবী (সা.)-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করা এবং অন্যদেরকে জানানো। তবে এতে কোনো প্রকার বিদআত বা গান-বাজনা, আলোকসজ্জা ইত্যাদি যেন না থাকে।
৪. নিয়মিত নামাজ ও ইবাদত: এই মাসে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ইত্যাদি করা উচিত।
৫. দান-সদকা: এই মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করা এবং গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা।
বিশেষ সতর্কতা:
রবিউল আউয়াল মাসে কিছু মানুষ বিদআতি কাজ করে থাকে, যেমন:
- বিশেষ নামাজ পড়া (যেমন: ১২ রাকাত নামাজ)
- বিশেষ রোজা রাখা
- মিলাদ মাহফিলে গান-বাজনা ও আলোকসজ্জা করা
- নবী (সা.)-এর জন্মদিন পালন করা (ঈদে মিলাদুন্নবী)
এসব কাজ ইসলামি শরিয়তে প্রমাণিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কোনো নতুন বিষয় প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।" (সহিহ বুখারি: ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম: ১৭১৮)
হানাফি ফিকহের আলোকে:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং অন্যান্য হানাফি ইমামগণ এই মাসে বিশেষ কোনো ইবাদতের বিধান দেননি। বরং তারা বলেছেন, প্রতিটি দিন ও রাতেই নফল ইবাদত করা যায়, তবে কোনো নির্দিষ্ট দিন বা মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া বিদআত।
সারকথা:
রবিউল আউয়াল মাসে আলাদা কোনো নামাজ নেই। ঘর পাক-পবিত্র করা প্রতিদিনের কাজ। এই মাসে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, নবী (সা.)-এর জীবনী অধ্যয়ন এবং নিয়মিত ইবাদত করা উচিত। তবে কোনো প্রকার বিদআত থেকে বিরত থাকা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
রেফারেন্স:
- সূরা আহযাব: ৫৬
- সহিহ বুখারি: ২৬৯৭
- সহিহ মুসলিম: ১৭১৮
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩০০
- রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫০