কর্জ ও মুদারাবা চুক্তি একত্র করার বিধান

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4468
Questioner: Allah Ta'alar Banda
Question Asked: 25 Aug 2026, 07:22 PM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 07:34 PM
Views: 22
Tokens: 4,218
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন ভাই এর অনুরোধে তাকে কিছু টাকা ধার দেই, উদ্দেশ্যে ছিল আল্লাহ্ তা'আলার জন্য তাকে সাহায্য করা, এবং সে মূলত এই টাকায় ব্যবসা করে লাভ করতো, মুদারাবা হিসেবে আমিও কিছু পেতাম। তবে, সেই টাকা টা আমি আরেকজন থেকে নির্দিষ্ট সময় এর মধ্যে দেওয়ার শর্তে ধার নেই, এবং ১ম জন কে দেই‌। ১ম জন ও বিশ্বস্ত লোক ছিলেন এবং টাকা টা deadline এর আগেই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সমস্যা হয় যখন ১ম জন একটি বিপদে পরে জান, এবং এর মাঝে ২য় জন এর টাকা দেওয়ার ডেট ও ২ বার পিছানো লাগে, এবং তার ও টাকা টা দরকার।
এদিকে আমার নিজের কাছেও কোন টাকা নেই।
এই অবস্থায় আমি কি করতে পারি? একজন মুমিন মুসলিম হিসাবে এখানে আমার ভূল সমূহ কোথায় কোথায়, এবং বর্তমানে করনীয় কি?

Answer

উত্তর

আপনার ভুলসমূহ:

১. মুদারাবা (পুঁজি বিনিয়োগ) ও কর্জ (ঋণ) একত্রিত করা: আপনি যে চুক্তিটি করেছেন, তা মূলত মুদারাবা (পুঁজি বিনিয়োগ) ছিল, কিন্তু আপনি তা কর্জ (ঋণ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসলামী শরীয়তে এই দুটি চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কর্জ হলো এমন একটি চুক্তি যেখানে মূল টাকা ফেরত দেওয়া হয়, কোনো লাভের শর্ত থাকে না। অন্যদিকে মুদারাবায় একজন পুঁজি দেয় এবং অন্যজন কাজ করে, লাভ নির্ধারিত অনুপাতে ভাগ করা হয়। আপনি যদি মুদারাবার চুক্তি করতেন, তাহলে লাভ-ক্ষতি উভয়ই ভাগ করতে হতো।

২. নিজের কাছে টাকা না রেখে অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে অন্যকে দেওয়া: আপনি নিজের কাছে টাকা না থাকা সত্ত্বেও অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে অন্যকে দিয়েছেন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, কারো কাছে টাকা পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করা ফরজ। আপনি যখন অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়েছেন, তখন সেই ঋণ পরিশোধ করা আপনার দায়িত্ব।

৩. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের শর্ত: আপনি ২য় জনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের শর্তে ধার নিয়েছেন। এই শর্তটি বৈধ, তবে আপনি সেই সময়সীমা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।


বর্তমানে করণীয়:

১. ২য় জনের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করুন: আপনার উপর ২য় জনের টাকা ফেরত দেওয়া ফরজ। এটি আপনার দায়িত্ব। আপনি চেষ্টা করুন যেভাবেই হোক তার টাকা পরিশোধ করার। প্রয়োজনে অন্য কোথাও থেকে ধার নিয়ে হলেও তার টাকা পরিশোধ করুন।

২. ১ম জনের সাথে যোগাযোগ করুন: ১ম জনের সাথে যোগাযোগ করে তাকে জানান যে, আপনার উপর ২য় জনের টাকা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তাকে অনুরোধ করুন যেন সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করে। যদি সে সত্যিই বিপদে থাকে, তাহলে তাকে কিছু সময় দিন, তবে তার সাথে একটি স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন।

৩. ২য় জনের সাথে আলোচনা করুন: ২য় জনের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন এবং তাকে পরিস্থিতি বোঝান। তাকে জানান যে, ১ম জন বিপদে পড়েছে এবং সে টাকা দিতে পারছে না। তাকে আরও কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করুন। তবে মনে রাখবেন, সময় নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ঋণ মাফ হয়ে গেছে।

৪. ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকুন: ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেন করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন। নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অন্যের জন্য জিম্মাদারি নেবেন না।


ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

১. কর্জ ও মুদারাবার মধ্যে পার্থক্য:

  • কর্জ: এটি একটি ঋণ চুক্তি যেখানে মূল টাকা ফেরত দেওয়া হয়, কোনো লাভের শর্ত থাকে না। কর্জ দেওয়া একটি সওয়াবের কাজ, তবে এতে কোনো লাভ নেওয়া জায়েজ নেই।
  • মুদারাবা: এটি একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি যেখানে এক পক্ষ পুঁজি দেয় এবং অন্যপক্ষ কাজ করে। লাভ নির্ধারিত অনুপাতে ভাগ করা হয়, তবে ক্ষতি হলে পুঁজি দাতা বহন করে।

২. ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ (ঋণ) নেয় এই উদ্দেশ্যে যে, তা পরিশোধ করবে, আল্লাহ তাকে তা পরিশোধ করার তাওফিক দেবেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন।" (সহীহ বুখারী: ২৩৮৭)

৩. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে সময় দেওয়া: আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি সে (ঋণগ্রস্ত) অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দাও। আর যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮০)


উপসংহার:

আপনার মূল ভুল হলো, আপনি নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অন্যের জন্য জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং কর্জ ও মুদারাবা চুক্তি একত্রিত করেছেন। বর্তমানে আপনার করণীয় হলো:

  1. ২য় জনের ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
  2. ১ম জনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা।
  3. ২য় জনের সাথে সময় নিয়ে আলোচনা করা।
  4. ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা আপনার এই সংকট থেকে উত্তরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.