অযুর মাঝে কথা বললে অযু ভঙ্গ হয় কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4466
Questioner: Asif
Question Asked: 25 Aug 2026, 06:23 PM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 07:04 PM
Views: 30
Tokens: 3,441
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আ'লাইকুম,
অযুর মাঝে কথা বললে অযু কি হয়।
দুঃখিত আগের প্রশ্নে একটা কথা বলা হয় নি।আমি বাথরুমের বাহিরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পরছি।পড়ার পর মাঝে কথা বলে ফেলেছি তার পড়ে আবার বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পরেছি বাথরুমের ভিতরে। কথা বলার কারনে কি অযু হয়নি?
২.দাতের ভিতরে রক্ত বের হলে কি নামাজ হবে
৩.পায়খানার বেগ কম থাকলে নামাজ আদায় হবে? বা মাকরুহ হবে?
৪.অযুর পড়ে ও পায়ের তলায় কিছু লেগে থাকলে কি নামাজ হবে যেমন দাগ ছোট অনেক সরানোর পর অ যায় না?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: অযুর মাঝে কথা বললে অযু কি ভেঙ্গে যাবে?

অযুর মাঝে কথা বলা অযু ভঙ্গের কারণ নয়। অযু করার সময় কথা বললে অযু নষ্ট হয় না। আপনার প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন যে, আপনি বাথরুমের বাইরে বিসমিল্লাহ পড়েছেন, তারপর কথা বলেছেন এবং আবার বাথরুমের ভিতরে বিসমিল্লাহ পড়েছেন। কথা বলার কারণে আপনার অযু ভঙ্গ হয়নি, ইনশাআল্লাহ আপনার অযু সহীহ হয়েছে।

তবে মনে রাখবেন, পবিত্র স্থানে (বাথরুমের বাইরে) বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। কিন্তু বাথরুমের ভিতরে (শৌচাগারে) প্রবেশ করার পর বিসমিল্লাহ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ সেখানে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা মাকরুহ। শৌচাগারে প্রবেশের আগে বিসমিল্লাহ পড়ে প্রবেশ করা উচিত। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৪; রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩)

প্রশ্ন ২: দাঁতের ভিতর থেকে রক্ত বের হলে নামাজ হবে কি?

দাঁতের ভিতর থেকে রক্ত বের হলে যদি তা মুখের ভিতরে থেকে যায় এবং মুখের লালার সাথে মিশে গিয়ে যদি রক্তের পরিমাণ লালার সমান বা বেশি হয়, তাহলে তা নাপাক। কিন্তু যদি রক্তের পরিমাণ লালার চেয়ে কম হয়, তাহলে তা ক্ষমার যোগ্য এবং নামাজ সহীহ হবে। তবে যদি রক্ত বের হয়ে মুখের বাইরে চলে আসে এবং তা কাপড়ে বা শরীরে লাগে, তাহলে যদি তা এক দিরহাম (প্রায় ৩.৩৭৫ গ্রাম) পরিমাণের কম হয়, তাহলে নামাজ মাকরুহ হবে কিন্তু সহীহ হবে। আর যদি এক দিরহাম বা তার বেশি হয়, তাহলে তা ধুয়ে ফেলা আবশ্যক, নতুবা নামাজ সহীহ হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৬২)

প্রশ্ন ৩: পায়খানার বেগ কম থাকলে নামাজ আদায় হবে? বা মাকরুহ হবে?

পায়খানার বেগ থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি মাকরুহ)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "খানা উপস্থিত থাকলে এবং পায়খানার বেগ থাকলে নামাজ পড়া যাবে না।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৫৭)

তাই নামাজের আগে পায়খানার বেগ দূর করে নেওয়া উচিত। তবে যদি বেগ খুবই কম থাকে এবং নামাজে মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটায়, তাহলে নামাজ আদায় করা যাবে, তবে তা মাকরুহ হবে। উত্তম হলো বেগ দূর করে তারপর নামাজ পড়া। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৫; রদ্দুল মুহতার, ১/৬৫৪)

প্রশ্ন ৪: অযুর পরে পায়ের তলায় কিছু লেগে থাকলে নামাজ হবে কি?

অযুর পরে পায়ের তলায় যদি নাপাক কিছু লেগে থাকে, যেমন ছোট দাগ যা অনেকবার ঘষার পরও না যায়, তাহলে তা ক্ষমার যোগ্য। যদি দাগটি এমন হয় যা সহজে দূর হয় না এবং তা এক দিরহামের কম পরিমাণ হয়, তাহলে নামাজ সহীহ হবে। আর যদি এক দিরহামের সমান বা বেশি হয়, তাহলে তা ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। তবে যদি দাগটি মাটি বা এমন কিছু হয় যা পবিত্র, তাহলে তা নামাজের জন্য কোনো সমস্যা নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৬২)

সারসংক্ষেপ: ১. অযুর মাঝে কথা বললে অযু ভঙ্গ হয় না। ২. দাঁতের রক্ত লালার সমান বা বেশি হলে নাপাক, কম হলে ক্ষমার যোগ্য। ৩. পায়খানার বেগ থাকলে নামাজ মাকরুহ, তাই আগে বেগ দূর করা উচিত। ৪. পায়ের তলায় ছোট দাগ যা সহজে না যায়, তা ক্ষমার যোগ্য এবং নামাজ সহীহ হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.