স্বপ্ন সংক্রান্ত ও পাত্রী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
বর্তমানে আমার জীবনে দুইটা ঘটনা চলমান । আমার ভাইয়ের জন্য পাত্রী দেখছি । পাত্রী মোটামুটি পছন্দ হয়েছে। কথা হচ্ছিলো কিভাবে কি করা যায় । এরমধ্যেই হঠাৎ আমার বাবার সাথে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর কথা , দেখা এবং তার কথায় বাড়ি যাওয়া। আমার মায়ের মৃত্যুর পর উনার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ঝামেলায় আমাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো ।
এরমধ্যে আরেকদিন স্বপ্ন দেখলাম পানিতে ডুবে যাচ্ছে কিছু একটা ।
আমি খুব দোয়া করতেছিলাম ভাইর বিয়ে নিয়ে, আল্লাহকে বলেছিলাম আমাদের অভিভাবক হয়ে আমাদের জন্য যা ভালো হয় তার ফয়সালা করতে, আল্লাহ যেহেতু সবার আল্লাহ এবং সবার অন্তর জানেন, তাই তিঁনি যা ভালো হয় তাই যেনো করেন, যদি এই সমন্ধ ভালো হয় তাহলে যেনো আগায়, নয়তো কাউকে কষ্ট না দিয়েই যেনো সরে যায়, আমার কিছু বলা না লাগে।
এখন, আমার বাবার সাথে কথা বলার কারণে মেয়ের বিয়ের বিষয়টা হুট করেই আটকে গেলো । মানে এখন বাবাকে ভাইর বিয়ের বিষয়ে জানিয়েছি এবং উনার সিদ্ধান্তের উপর সব নির্ভর করবে বলে মেয়েদের জানিয়েছি। বাবাকে বলেছি একটা মেয়ে দেখেছি, আমাদের পছন্দ হয়েছে,এখন আপনি কি করতে চান করুন। উনি পজিটিভ কথাই বলেছে, ছেলের পছন্দ হলে ঠিক আছে, আমি বড় ভাইর সাথে আলাপ করে জানাই।
পাত্রী দেখার বিষয়টা এরকম :
১৪ আগস্ট তারিখ মেয়ে দেখে আসছি ঢাকায় খালার বাসায় , ১৫ তারিখ উনারা ভোলা চলে গেছে, সন্ধ্যায় যার মাধ্যমে সমন্ধ, তাকে ডাকছে, আমাদের পছন্দ হয়েছে কিনা। আমরা তো আলহামদুলিল্লাহ বলেছিলাম। এরপর আমি বলছি ভাইর সাথে কথা না বলিয়ে কোন ডিসিশন ফাইনাল করবো না। এরপর ভাই ১৭ তারিখ কথা বলছে । ১৮ তারিখ মেয়ের মায়ের সাথে কথা হলো , কেমন লেগেছে মেয়ের ছেলের কথা, বলছে আলহামদুলিল্লাহ, ভাইও বলছে - ঠিক আছে। আলহামদুলিল্লাহ। এরপর উনারা বললো ছেলের বউভাত ২৮ তারিখ মানে সামনের শুক্রবার, কার্ড দিয়ে দোকানে দাওয়াত দিয়ে গেছে । এরপর যাকে দিয়ে সমন্ধ তাকে দিয়ে জিজ্ঞেস করানো হয়েছে যে কাবিন বিষয়ে তাদের ডিমান্ড কি বা তাদের কোন বিষয়ে কিছু বলার আছে কিনা। কারণ যদি আমরা এঞ্জেজমেন্ট করতে বসি তখন আমার বড় চাচা বা অন্যান্য মানুষ থাকবে , তখন কাবিন নিয়ে কথা না বলা ভালো, একেকজন একেকরকম কথা বলতে পারে,নিজেরাই ঠিক করে নিতে চেয়েছিলাম ।
তখন মেয়ের বাবা বলছে - কোন বাড়াবাড়ি নাই, ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী যা বলবে তাই। তখন মেয়ের বাবা আমার হাসব্যান্ডকে কল দিয়ে বিষয়টা নিয়ে কথা বলে আর কি। আমরা আমাদের সামর্থ্য জানাই । এরপরদিন আব্বুর কল আসে । আমরা বাড়ি যাই। এবং হঠাৎ করেই বিষয়টা পেন্ডিং হয়ে যায় এবং ডুবে যাওয়া নিয়ে আবছা কি স্বপ্ন দেখেছি পুরোপুরি মনে নেই। এ হচ্ছে আমাদের বর্তমান ঘটনা।
এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে বা এই পাত্রীর বিষয়ে আমাদের কি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত । পাত্রী পক্ষের আগ্রহ অনেক বেশি । পাত্রীর বয়সের সাথে আমাদের ভাইর বয়সের পার্থক্য ১২ বছর। পড়াশোনায় পাত্রী এস এসসি, আমার ভাই পি এইচ ডি করতে আমেরিকা আছে।
Answer
স্বপ্ন ও পাত্রী নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
বিষয়: স্বপ্ন সংক্রান্ত ও পাত্রী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ, আপনার প্রশ্নটি ভালোভাবে পড়েছি। আপনার মনে বেশ কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে—একটি স্বপ্ন নিয়ে, অন্যটি আপনার ভাইয়ের বিয়ের পাত্রী নির্বাচন নিয়ে। নিচে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
প্রথম অংশ: স্বপ্নের ব্যাখ্যা
স্বপ্ন সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ، وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ" "ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।" (সহীহ বুখারী: ৬৯৮৪, সহীহ মুসলিম: ২২৬১)
আরেকটি হাদিসে এসেছে:
"إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ، وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ" "তোমাদের কেউ যখন অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্ন দেখে, তখন সে যেন উঠে সালাত আদায় করে এবং তা লোকদের কাছে বর্ণনা না করে।" (সহীহ মুসলিম: ২২৬৩)
আপনার স্বপ্নের বিশ্লেষণ
আপনি যে স্বপ্ন দেখেছেন—একটি মেয়ে আপনার হাজব্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং আপনি তাকে জড়িয়ে ধরে রেখে দিচ্ছেন—এটি মূলত আপনার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার প্রতিফলন। কারণ:
১. আপনার বর্তমান চাপ ও উদ্বেগ: আপনার ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে আপনি অনেক চিন্তিত। এই চাপ আপনার অবচেতন মনে প্রভাব ফেলেছে।
২. স্বামীর প্রতি নিরাপত্তাহীনতা: স্বপ্নে হাজব্যান্ডের সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ক দেখাটা সাধারণত স্ত্রীর মনে কোনো নিরাপত্তাহীনতা বা অবচেতন ভয়ের প্রকাশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাস্তবে এমন কিছু ঘটবে।
৩. স্বপ্নের সময়: আপনি উল্লেখ করেছেন স্বপ্নটি সূর্যাস্তের পর দেখেছেন। সন্ধ্যার পর বা রাতের প্রথম ভাগে দেখা স্বপ্ন প্রায়ই শয়তানের প্ররোচনা হয়ে থাকে। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.) বলেছেন, দিনের প্রথম ভাগে দেখা স্বপ্ন অধিকাংশ সময় সত্য হয়ে থাকে, আর রাতের শেষ ভাগে দেখা স্বপ্নও সত্য হতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর দেখা স্বপ্ন প্রায়ই শয়তানের খেলনা হয়ে থাকে।
৪. পানিতে ডুবে যাওয়ার স্বপ্ন: পানিতে ডুবে যাওয়ার স্বপ্ন সাধারণত চিন্তা-উদ্বেগ, সমস্যায় নিমজ্জিত হওয়া বা কোনো বিষয়ে অনিশ্চয়তা নির্দেশ করে। আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আপনার ভাইয়ের বিয়ের বিষয়টি হুট করে আটকে যাওয়ার মানসিক চাপেরই প্রতিফলন।
স্বপ্নের ব্যাপারে করণীয়
১. এই স্বপ্নকে গুরুত্ব দেবেন না। এটি শয়তানের প্ররোচনা বা আপনার মানসিক চাপের ফল হতে পারে। ২. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, খারাপ স্বপ্ন দেখলে:
- বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলুন (শুকনো)
- আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করুন
- সালাত আদায় করুন
- স্বপ্নটি কাউকে বলবেন না
- ঘুমের অবস্থান পরিবর্তন করুন
৩. স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া জায়েয নয়। ইসলামে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বপ্নের ভিত্তিতে স্থগিত বা বাতিল করা সম্পূর্ণ ভুল।
দ্বিতীয় অংশ: পাত্রী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
ইসলামী দৃষ্টিতে বিয়ের মূলনীতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ" "নারীর সাথে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদের কারণে, তার বংশমর্যাদার কারণে, তার সৌন্দর্যের কারণে এবং তার দ্বীনদারির কারণে। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও, তোমার হাত ধূলিমাখা হোক।" (সহীহ বুখারী: ৫০৯০, সহীহ মুসলিম: ১৪৬৬)
আপনার বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:
পাত্রীর পক্ষে:
- পাত্রী মোটামুটি পছন্দ হয়েছে
- পাত্রী পক্ষের আগ্রহ অনেক বেশি
- পাত্রীর বাবা বলেছেন "কোন বাড়াবাড়ি নেই, ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী"
- পাত্রীর মা বলেছেন "আলহামদুলিল্লাহ"
- আপনার ভাইও বলেছেন "ঠিক আছে"
যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিত:
১. বয়সের পার্থক্য (১২ বছর): ইসলামে বয়সের বড় পার্থক্য কোনো বাধা নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে খাদিজা (রা.)-এর বয়সের পার্থক্য ছিল ১৫ বছর। তবে সামঞ্জস্যতা (কুফু) বিবেচনা করা ভালো।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা: পাত্রী এসএসসি পাস, আপনার ভাই পিএইচডি করছেন। শিক্ষাগত পার্থক্য থাকলেও এটি বিয়ের জন্য বাধা নয়, তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে মানসিক সামঞ্জস্যতা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পাত্রী পক্ষের আগ্রহ: পাত্রী পক্ষের আগ্রহ বেশি হওয়া ভালো লক্ষণ, তবে এর অর্থ এই নয় যে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আপনার করণীয়
১. বাবার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন: আপনার বাবার সাথে সাড়ে তিন বছর পর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে—এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। ইসলামে পিতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন রাখা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا" "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে শরীক করো না, আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।" (সূরা আন-নিসা: ৩৬)
২. বাবার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা: আপনার বাবা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন "ছেলের পছন্দ হলে ঠিক আছে, আমি বড় ভাইয়ের সাথে আলাপ করে জানাই।" এটি ভালো লক্ষণ। তবে বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. ইস্তিখারা করা: বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইস্তিখারা করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ..." "তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরজ ছাড়া দুই রাকাত সালাত আদায় করে..." (সহীহ বুখারী: ১১৬২)
৪. স্বপ্নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া: আপনার দেখা স্বপ্নের কারণে পাত্রী স্থগিত রাখা উচিত নয়। স্বপ্ন শরীয়তের দলিল নয়।
৫. পরামর্শ করা: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ" "যাকে পরামর্শ দেওয়া হয় সে বিশ্বস্ত।" (সুনানে আবু দাউদ: ৫১২৮)
আপনার বাবা, বড় চাচা এবং স্বামীর সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন।
তৃতীয় অংশ: পাত্রী নির্বাচনে ইসলামী নির্দেশনা
কুফু (সামঞ্জস্যতা) সম্পর্কে
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কুফু (সামঞ্জস্যতা) বিবেচনার বিষয়গুলো হলো:
- বংশ (নসব)
- ইসলাম (দ্বীনদারি)
- পেশা (হিরফা)
- স্বাধীনতা
- দ্বীনদারি
তবে হানাফি ফিকহে কুফু শর্ত নয়, বরং বিবেচ্য বিষয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, কুফু শুধু বিবাহের পরিপূর্ণতার জন্য বিবেচ্য, বৈধতার জন্য নয়।
পাত্রী নির্বাচনে অগ্রাধিকার
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"الدِّينُ يُسْرٌ" "দ্বীন সহজ।" (সহীহ বুখারী: ৩৯)
পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ভাই আমেরিকায় পিএইচডি করছেন, তাই পাত্রীর ধর্মীয় পরিবেশ ও চরিত্র ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ
আপনার জন্য আমার পরামর্শ:
১. স্বপ্নকে গুরুত্ব দেবেন না। এটি শয়তানের প্ররোচনা বা মানসিক চাপের ফল। স্বপ্নের কারণে কোনো ভালো সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।
২. বাবার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনকে ইতিবাচকভাবে নিন। এটি আপনার জীবনে বরকত নিয়ে আসতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا" "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)
৩. বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করুন। পাত্রী পক্ষের আগ্রহ বেশি, আপনার ভাইও রাজি, পাত্রীর বাবা-মা ইতিবাচক। অযথা দেরি করলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৪. বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করুন। আপনার বাবা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তাকে বলুন, "আব্বু, বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করা দরকার, কারণ পাত্রী পক্ষ অপেক্ষা করছে।"
৫. ইস্তিখারা করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আপনি ইতিমধ্যে দোয়া করেছেন—"আল্লাহ যা ভালো হয় তাই করুন।" এই দোয়া অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ" "যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)
৬. পাত্রীর দ্বীনদারি যাচাই করুন। পাত্রীর নামাজ, পর্দা, চরিত্র ইত্যাদি সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিন। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৭. মোহর ও অন্যান্য বিষয়: পাত্রীর বাবা বলেছেন "ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী"—এটি ভালো লক্ষণ। তবে মোহর নির্ধারণে ইসলামী নির্দেশনা হলো:
"أَقِلُّوا الْمَهْرَ" "মোহর কম রাখো।" (মুসনাদ আহমাদ: ২৪৪৫৭)
দোয়া ও উপসংহার
আপনার জন্য দোয়া করছি—আল্লাহ তাআলা আপনার ভাইয়ের বিয়েতে কল্যাণ করুন, আপনার বাবার সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত করুন এবং আপনার সন্দেহ-দ্বিধা দূর করুন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ" "তোমাদের জন্য ভালো না জেনেও তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করতে পারো, আর তোমাদের জন্য খারাপ না জেনেও কোনো বিষয় পছন্দ করতে পারো। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।" (সূরা আল-বাকারা: ২১৬)
সিদ্ধান্ত: পাত্রীটি যদি দ্বীনদার, সচ্চরিত্রা এবং আপনার ভাইয়ের সাথে মানসিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে এই বিয়ে এগিয়ে নেওয়া উচিত। স্বপ্ন বা অমূলক ভয়ের কারণে ভালো সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত নয়। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে, ইস্তিখারা করে এবং বড়দের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ওয়া মিনাল্লাহিত তাওফীক।