ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজে পায়ের দিকে তাকানো নিয়ে চিন্তা?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4380
Questioner: Wajidurrahmanasif Asif
Question Asked: 24 Aug 2026, 12:56 AM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 01:17 AM
Views: 17
Tokens: 3,602
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআ'লাইকুম,
আমার মুলত ওয়াসওয়াসা সমস্যা নামাজ পড়তে গিয়ে নামাজ শুধু ছেড়ে দেই।আমার প্রশ্ন হলো যে নামাজে দাড়ালে ত পা দেখা যায় বা রুকুতে গেলে পা দেখা যায় এখন আমি ওয়াসওয়াসার কারনে পা এর দিখে তাকাই না আবার এইটাও চিন্তা আসে যে পা এর দিখে তাকাচ্ছি না আমার নামাজ কি হচ্ছে এখন আমার নিয়ত কি রাখব আর করনীয় কি আমার।আর সিজদায় গেলেও সমান সমস্যা।

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনার সমস্যাটি মূলত ওয়াসওয়াসা (Waswasah) বা সন্দেহপ্রবণতা সংক্রান্ত। এটি একটি মানসিক রোগের মতো, যা শয়তান মুমিনের ইবাদত নষ্ট করার জন্য সৃষ্টি করে। ইসলামী ফিকহে ওয়াসওয়াসার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—এটাকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করা। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নে দেওয়া হলো:


১. নামাজে পায়ের দিকে তাকানো বা না তাকানো

নামাজের মধ্যে দৃষ্টি সিজদার স্থানের দিকে রাখা সুন্নত। পায়ের দিকে তাকানো বা না তাকানো নামাজের শুদ্ধতার শর্ত নয়।

  • আপনি যদি সিজদার জায়গায় তাকিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার নামাজ সম্পূর্ণ শুদ্ধ হচ্ছে।
  • পায়ের দিকে তাকানো বা না তাকানো নিয়ে চিন্তা করা সম্পূর্ণ শয়তানের প্ররোচনা
  • রুকুতে গেলে দৃষ্টি পায়ের পাতার দিকে রাখা সুন্নত, কিন্তু যদি আপনি সেটা না করতে পারেন বা ভুলে যান, তবুও নামাজ ভঙ্গ হবে না। নামাজের কোনো রুকন (ফরজ) ছুটে গেলেই কেবল নামাজ ভঙ্গ হয়, দৃষ্টির বিষয়টি ফরজ নয়।

হাদিস: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজে দৃষ্টি সিজদার স্থানের দিকে রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯২০) তবে এটি সুন্নত, ফরজ নয়। তাই এটি না করলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।


২. নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সমস্যা

আপনি বলেছেন, ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজ ছেড়ে দেন। এটি অত্যন্ত ভুল ও মারাত্মক গুনাহের কাজ

  • নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া শয়তানের সবচেয়ে বড় বিজয়।
  • ফতোয়ায়ে উসমানি এবং ইমদাদুল ফতোয়া-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ওয়াসওয়াসা আসলে নামাজের মধ্যে যতই আসুক, নামাজ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। বরং নামাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং ওয়াসওয়াসাকে উপেক্ষা করতে হবে।

কুরআন: "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)


৩. নামাজের নিয়ত কী রাখবেন?

নামাজের নিয়ত হলো মনে সংকল্প করা যে, "আমি আল্লাহর জন্য অমুক নামাজ (যেমন: ফজর, যোহর) আদায় করছি।"

  • নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, মনে মনে করলেই হবে।
  • ওয়াসওয়াসার কারণে নিয়ত নিয়ে সন্দেহ হলে, নিয়তের শুরুতে "আল্লাহু আকবার" বলার সাথে সাথে নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর আর নিয়ত নিয়ে চিন্তা করবেন না।
  • ফতোয়ায়ে আলমগীরি-তে আছে, নিয়ত হলো অন্তরের ইচ্ছা। যদি কেউ "আল্লাহু আকবার" বলে ফেলে, তাহলে সে যে নামাজের জন্য দাঁড়িয়েছে, সেই নামাজের নিয়তই ধর্তব্য হবে।

৪. করণীয় কী?

১. ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না। যখনই মনে হবে "পায়ের দিকে তাকাচ্ছি না, নামাজ হচ্ছে কি না", তখনই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ে নামাজ চালিয়ে যান। ২. নামাজ ছাড়বেন না। নামাজের মধ্যে ওয়াসওয়াসা আসলেও নামাজ শেষ করুন। ৩. দৃষ্টি সিজদার দিকে রাখুন। রুকুতে গেলে পায়ের দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন, কিন্তু না পারলে সমস্যা নেই। ৪. ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা:

  • বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করুন।
  • দরুদ শরীফ পড়ুন।
  • মৃত্যুর পরের হিসাব নিয়ে ভাবুন, তাহলে ওয়াসওয়াসা কমবে।
  • মুফতি সাহেবের পরামর্শ নিন, প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসাও নিতে পারেন।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে তোমরা 'আমানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি' (আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছি) পড়ো।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪)


৫. সিজদার সমস্যা

সিজদায় গেলে পায়ের দিকে তাকানো বা না তাকানো নিয়েও চিন্তা করবেন না। সিজদার সময় দৃষ্টি নাকের ডগার দিকে রাখা সুন্নত। পায়ের দিকে তাকানো জরুরি নয়।

  • সিজদায় গেলে কপাল ও নাক মাটিতে লাগানো ফরজ। এটি ঠিক থাকলে নামাজ শুদ্ধ।
  • পায়ের দিকে তাকানো নিয়ে চিন্তা করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

৬. সারসংক্ষেপ

  • আপনার নামাজ শুদ্ধ হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।
  • পায়ের দিকে তাকানো বা না তাকানো নামাজের শুদ্ধতার শর্ত নয়।
  • নিয়ত মনে মনে করলেই হবে, "আল্লাহু আকবার" বলার সাথে সাথে নিয়ত সম্পন্ন।
  • ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব না দিয়ে নামাজ চালিয়ে যান।
  • নামাজ ছেড়ে দেওয়া কখনো জায়েজ নয়।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং নামাজে স্থিরতা দান করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে:

  • ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮০
  • ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫০
  • রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫
  • ফতোয়ায়ে আলমগীরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭০


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.