পিরিয়ড অনিয়মিত হলে হায়েজ ও ইস্তিহাযার বিধান কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4377
Questioner: Tanbin Tanha
Question Asked: 24 Aug 2026, 12:11 AM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 04:34 AM
Views: 18
Tokens: 2,395
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গত ৪/৫ মাস যাবতই পিরিয়ড একটু ইরেগুলার।এই মাসে ১৮ দিন লেট করে শুরু হয়েছে।আজকে ৯ দিন শেষে মোটামুটি ভাল ব্লিডিং হচ্ছে।এতদিন খুব অল্প ছিল। যতদিন ব্লিডিং হয় নামাজ বন্ধ রাখব নাকি ইস্তিহাযা ধরে নামাজ শুরু করব?

Answer

পিরিয়ড ও ইস্তিহাযা সংক্রান্ত মাসআলা

উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা কয়েকটি মূলনীতি স্মরণ করিয়ে নিচ্ছি:

মূলনীতি: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজের (মাসিক ঋতুস্রাব) সর্বনিম্ন সময়কাল হলো ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময়কাল হলো ১০ দিন (২৪০ ঘণ্টা)। এর কম বা বেশি রক্ত আসা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান

আপনি উল্লেখ করেছেন:

  • গত ৪/৫ মাস ধরে পিরিয়ড অনিয়মিত
  • এই মাসে ১৮ দিন লেট করে শুরু হয়েছে
  • আজ ৯ দিন পূর্ণ হয়েছে
  • প্রথম কয়েকদিন খুব অল্প রক্ত ছিল, এখন ভালো ব্লিডিং হচ্ছে

বিধান: যেহেতু আপনার ব্লিডিং ১০ দিনের মধ্যে (৯ দিন) এবং তা এখনও চলমান, তাই এটি হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) হিসেবেই গণ্য হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্লিডিং ১০ দিনের মধ্যে থাকে এবং ৩ দিনের কম না হয়, ততক্ষণ তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।

অতএব, যতদিন ব্লিডিং চলবে (১০ দিনের মধ্যে), ততদিন নামাজ ও রোজা থেকে বিরত থাকবেন। ব্লিডিং বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।

ইস্তিহাযা কখন হবে?

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ইস্তিহাযা ধরা হবে:

১. **যদি ১০ দিনের বেশি ব্লিডিং চলে, সেক্ষেত্রে পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে এই মাসেও হায়েজ ধরবেন। বাকি দিন গুলিকে ইস্তিহাজা ধরবেন।

২. যদি ব্লিডিং ৩ দিনের কম হয় (যেমন ১ বা ২ দিন) - তাহলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।

৩. যদি কোনো মাসে একদমই ব্লিডিং না হয় - তাহলে সেই মাসে ইস্তিহাযার বিধান প্রযোজ্য হবে।

সুতরাং যদি ১০ দিনের বেশি ব্লিডিং চলে, সেক্ষেত্রে পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে এই মাসেও হায়েজ ধরবেন। বাকি দিন গুলিকে ইস্তিহাজা ধরবেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

যেহেতু আপনার পিরিয়ড অনিয়মিত, তাই আপনার জন্য আদত (অভ্যাস) নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। হানাফী মাযহাব অনুযায়ী:

  • যদি কোনো নারীর নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে (যেমন: প্রতি মাসে ৫ দিন), তাহলে সেই অভ্যাস অনুযায়ী হায়েজ গণনা করা হবে।
  • যদি অভ্যাস না থাকে বা অনিয়মিত হয়, তাহলে প্রতিবার ১০ দিন পর্যন্ত ব্লিডিং হলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।

রেফারেন্স

১. আল-হিদায়াহ (১/৩০): হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন।

২. রদ্দুল মুহতার (১/২৮৩): "যখন রক্ত ৩ দিনের কম হবে, তখন তা হায়েজ নয় বরং ইস্তিহাযা। আর যখন ১০ দিনের বেশি হবে, তখন প্রথম ১০ দিন হায়েজ এবং বাকি অংশ ইস্তিহাযা।"

৩. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৬): "হায়েজের সর্বনিম্ন সময়কাল ৩ দিন ৩ রাত এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাত।"

৪. বেহেশতী জেওর (২/৩০): "মাসিকের সময় ৩ দিনের কম হলে নামাজ ছাড়া জায়েয নয়। আর ১০ দিনের বেশি হলে অতিরিক্ত দিনগুলো নামাজ পড়তে হবে।"

উপসংহার

আপনার বর্তমান অবস্থায় (৯ দিন ব্লিডিং চলছে) এটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। তাই যতদিন ব্লিডিং চলবে (১০ দিনের মধ্যে), ততদিন নামাজ বন্ধ রাখবেন। যদি ১০ দিনের বেশি ব্লিডিং চলে, সেক্ষেত্রে পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে এই মাসেও হায়েজ ধরবেন। বাকি দিন গুলিকে ইস্তিহাজা ধরবেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.