আলতা দিলে কি নামাজ হয় না?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4220
Questioner: Jakia Khanam
Question Asked: 20 Aug 2026, 08:06 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 09:18 PM
Views: 21
Tokens: 2,499
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আলতা দিলে কি নামাজ হবে? আলতা দেওয়া গুনাহ কিনা

Answer

আলতা দিলে নামাজ হবে কি? আলতা দেওয়া কি গুনাহ?

উত্তর

আলতা দেওয়া অবস্থায় নামাজ আদায় করা জায়েয আছে, তবে শর্ত হলো আলতা যেন শরীরের এমন অংশে না লাগে যা দিয়ে অজু করা আবশ্যক (অর্থাৎ হাতের তালু, আঙুলের ফাঁকা অংশ ইত্যাদি)। যদি আলতা অজুর স্থানে (হাতের তালু, আঙুলের ডগা ইত্যাদি) লাগে এবং পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না এবং সেই কারণে নামাজও শুদ্ধ হবে না।

বিস্তারিত আলোচনা

১. আলতা কী?

আলতা (লাল রং) সাধারণত নারীরা পায়ে ও হাতে সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করে থাকেন। এটি মূলত মেহেদির মতোই একটি প্রসাধনী, যা ত্বকে লাগালে কিছু সময় পর্যন্ত লাল দাগ থাকে।

২. আলতা দেওয়া অবস্থায় নামাজের বিধান

ক. যদি আলতা অজুর স্থানে না লাগে: যদি আলতা পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতার উপরের অংশ বা এমন স্থানে লাগে যা অজুতে ধোয়া ফরজ নয়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে। কারণ অজুর ফরজ অংশগুলো (মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত, মাথা মাসেহ, দুই পা টাখনু পর্যন্ত) ধোয়ার সময় যদি পানি পৌঁছে যায় এবং কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে।

খ. যদি আলতা অজুর স্থানে লাগে: যদি আলতা হাতের তালু, আঙুলের ডগা বা পায়ের আঙুলের ফাঁকে লাগে এবং এমন একটি স্তর তৈরি করে যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না। ফলে নামাজও শুদ্ধ হবে না।

গ. মেহেদি ও আলতার পার্থক্য: ফিকহের কিতাবে মেহেদি সম্পর্কে আলোচনা আছে যে, মেহেদির রং যদি শুধু দাগ হয় এবং পানিকে আটকায় না, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে। কিন্তু আলতা যদি এমন হয় যা পানিকে আটকায় (অর্থাৎ পানি শোষণ করে না বা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়), তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না।

৩. আলতা দেওয়া কি গুনাহ?

আলতা দেওয়া নিজে কোনো গুনাহ নয়। এটি নারীদের সাজসজ্জার একটি মাধ্যম। ইসলামে নারীদের জন্য স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করা উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে:

১. অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না করা – যদি আলতা এমন হয় যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং অজু/গোসলের সময় তা না তুলে নামাজ পড়া হয়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। এটি গুনাহের কারণ হবে।

২. নামাজের সময় অজুর স্থানে আলতা না থাকা – নামাজের পূর্বে অজু করার সময় যদি আলতা অজুর স্থানে থাকে এবং পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না।

৩. বেগানা পুরুষের সামনে সাজসজ্জা প্রদর্শন না করা – ইসলামে বেগানা পুরুষের সামনে সাজসজ্জা প্রদর্শন নিষিদ্ধ।

ফিকহি রেফারেন্স

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):

ইবনে আবিদীন রহ. মেহেদি প্রসঙ্গে বলেন:

"মেহেদি যদি এমন হয় যা পানিকে আটকায় না, বরং শুধু রং দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি এমন জিনিস লাগে যা পানিকে আটকায়, যেমন আঠা বা মোম, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না।"

(রদ্দুল মুহতার, ১/৮৫)

ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগিরি):

"যদি শরীরে এমন কিছু লাগে যা পানিকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, যেমন আঠা, মোম, বা রং যা পানিকে আটকায়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না। কিন্তু যদি শুধু রং হয় যা পানিকে আটকায় না, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে।"

(ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৮)

বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী):

"মেহেদি বা আলতা যদি এমন হয় যে, পানি তার ভিতরে পৌঁছে যায় এবং ত্বক ভিজে যায়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না।"

(বেহেশতী জেওর, অজু অধ্যায়)

ব্যবহারিক সমাধান

১. নামাজের পূর্বে অজু করার সময় আলতা যদি অজুর স্থানে (হাতের তালু, আঙুল, পায়ের আঙুল) লাগানো থাকে, তাহলে তা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা এমন আলতা ব্যবহার করতে হবে যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়।

২. এমন আলতা ব্যবহার করা উত্তম যা পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয় এবং ত্বকে পানির পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে না।

৩. যদি আলতা পানিতে না ওঠে এবং অজুর স্থানে লাগানো থাকে, তাহলে অজুর সময় তা তুলে ফেলা আবশ্যক।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • আলতা দেওয়া নিজে গুনাহ নয়, তবে যদি তা অজুতে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই অবস্থায় নামাজ পড়া হয়, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে না এবং এটি গুনাহের কারণ হবে।
  • আলতা দেওয়া অবস্থায় নামাজ শুদ্ধ হবে, যদি আলতা অজুর স্থানে না লাগে অথবা এমন আলতা হয় যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় না।
  • আলতা যদি অজুর স্থানে লাগে এবং পানিকে বাধা দেয়, তাহলে অজু শুদ্ধ হবে না এবং নামাজও শুদ্ধ হবে না।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.