সাদা স্রাব লালচে দেখা এবং সালাত ছাড়া প্রসঙ্গে

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4179
Questioner: Tanvin Tamanna
Question Asked: 19 Aug 2026, 06:48 PM
Reviewed & Published: 19 Aug 2026, 07:44 PM
Views: 35
Tokens: 3,466
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গতকাল সকালে আমার সহবাসের পর সাদা স্রাব কিছুটা লালচে দেখায়,এর আগে কোন লক্ষন দেখা যায়নাই।সকালের পর সারাদিন আর কোন লালচে ভাব দেখা যায়নাই,একদম রাতে আবার খুবই হালকা লালচে দেখা যায়।এরপর আজকে সারাদিন কিছুই দেখা যায়নাই,কিন্তু কিছুক্ষন আগে আবার হালকা লালচে স্রাব দেখা যায়।স্রাব টা এতটাই হালকা লালচে যে আমি বুঝতেও পারছিনা এটা আদৌ সাদা নাকি সাদা নয়।এমতাবস্থায় আমি নামায ছাড়তে ভয় পাচ্ছি,কিছুক্ষন আগেও আসরের নামায পরে ফেলি।এখন কি আমার নামায ছাড়া উচিত নাকি না?

Answer

উত্তর:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, সহবাসের পর সাদা স্রাবের সাথে হালকা লালচে ভাব দেখা যাচ্ছে, যা বারবার আসছে এবং যাচ্ছে। এই অবস্থায় নামায ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইসলামি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

হানাফি মাযহাবের বিশ্বস্ত কিতাবসমূহে (যেমন: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, আল-হিদায়া) উল্লেখ আছে যে, ইস্তিহাযা (রক্তের অস্বাভাবিক নির্গমন) এবং সাধারণ স্রাব (রুতুবাতুল ফারজ) এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়।

  • সাধারণ সাদা স্রাব (যোনি নিঃসরণ) পবিত্র এবং এটি নামায ও ওযু নষ্ট করে না (যদি ভিতর থেকে নির্গত না হয়)।
  • হায়েজ বা ইস্তিহাযার রক্ত নাপাক এবং নামায ও ওযু নষ্ট করে।

আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম:

১. স্রাবের রং নির্ধারণ: আপনি নিজেই বলেছেন যে, স্রাবটি এতটাই হালকা লালচে যে বুঝতে পারছেন না এটি সাদা নাকি লাল। ইসলামি ফিকহে বলা হয়েছে, যদি স্রাবের রং স্পষ্টভাবে লাল বা রক্তের মতো না হয়, বরং সন্দেহ থাকে, তাহলে মূল অবস্থা (আসল) হলো সেটি পবিত্র স্রাব। অর্থাৎ, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে রক্ত প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ তা পবিত্রই গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩)

২. সহবাসের পর স্রাব: সহবাসের পর সাদা স্রাব হওয়া স্বাভাবিক। এতে লালচে ভাব আসতে পারে, তবে যদি তা টানা না থাকে এবং বারবার না আসে, তবে তা iহায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। আপনার ক্ষেত্রে স্রাবটি বারবার আসছে এবং যাচ্ছে, কিন্তু এটি খুবই হালকা। তাই এটি ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্ত) হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং এটি সাধারণ স্রাবই মনে হচ্ছে।

৩. নামায ছাড়ার নিয়ম: যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে এটি রক্ত কিনা, তাই আপনার নামায ছাড়া উচিত নয়। বরং আপনি নামায পড়তে থাকবেন। যদি মনে হয় স্রাবটি বের হচ্ছে, তাহলে ওযু করে নামায পড়ুন। তবে যদি স্রাবটি টানা এমন অবস্থায় থাকে যে, প্রতি ওয়াক্তে বারবার বের হয় এবং ওযু করা কঠিন হয়, তাহলে মাজুর (ওযরগ্রস্ত) এর হুকুম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক ওয়াক্তের শুরুতে ওযু করে সেই ওয়াক্তের ফরজ ও নফল নামায পড়তে পারবেন, যদিও পরে স্রাব বের হয়।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

  • আপনার নামায ছাড়া উচিত নয়। বরং আপনি নামায পড়তে থাকুন।
  • আসরের নামায যা পড়ে ফেলেছেন, সেটি এখনও সময় থাকলে পড়ে নিন। আর যদি সময় শেষ হয়ে যায়, তাহলে কাজা করে নিন। তবে মনে রাখবেন, যেহেতু স্রাবটি নাপাক প্রমাণিত নয়, তাই আপনার নামায সহীহ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তবে আপনি যদি মনে করেন যে, স্রাবটি রক্ত ছিল এবং নামায পড়েননি, তাহলে সেই নামাযের কাজা করা উচিত।

হাদিসের দলিল:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ" "নিশ্চয়ই সকল কাজের ফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী: ১)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, মহিলাদের ইস্তিহাযার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ" "প্রত্যেক নামাযের সময় হলে ওযু করো এবং নামায পড়ো।" (সুনানে আবু দাউদ: ২৯৭)

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার স্রাবটি সাধারণ স্রাব বলে গণ্য হবে, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে রক্ত প্রমাণিত হয়।
  • নামায ছাড়বেন না, বরং নামায পড়তে থাকুন।
  • যদি স্রাব বারবার বের হয়, তাহলে প্রত্যেক ওয়াক্তের শুরুতে ওযু করে নামায পড়ুন।
  • আসরের নামায পড়ে ফেলেছেন, সেটি এখনই পড়ে নিন (যদি সময় থাকে) অথবা কাজা করে নিন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.