বাথরুমে থাকা সময়ে আজান শুনতে পেলে মনে মনে আজানের উত্তর দেওয়া যাবে কি?
Taharah Purity · Hanbali
Question
আমরা অজু সাধারণত বাথরুমের ভেতরে করি। সেখানে ওযুর পর দোয়া পড়া যাবে কি?
Answer
বাথরুমে অবস্থানকালে আজানের উত্তর ও দোয়া পড়ার বিধান
প্রশ্নের উত্তর
১. বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজানের উত্তর দেওয়া
বাথরুমে (টয়লেটে) থাকা অবস্থায় আজানের উত্তর দেওয়া মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। কারণ বাথরুম হলো এমন স্থান যেখানে শয়তান অবস্থান করে এবং সেখানে যিকির ও দোয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ" "নিশ্চয়ই এই পায়খানাগুলোতে (শয়তানদের) উপস্থিতি ঘটে থাকে।" (সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৬; সুনান নাসাঈ, হাদীস নং: ২০; সহীহ)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"টয়লেটে প্রবেশের সময় আল্লাহর যিকর করা নিষিদ্ধ, কারণ সেখানে শয়তানদের উপস্থিতি ঘটে।"
তবে মনে মনে (নীরবে) আজানের উত্তর দেওয়া যাবে কি?
বেশিরভাগ বিদ্বানের মতে, বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজানের উত্তর দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে যিকর করা নিষিদ্ধ। তবে যদি কেউ মনে মনে (উচ্চারণ না করে) উত্তর দেয়, তাহলে কিছু বিদ্বান বলেছেন যে, তা দোষের নয়, কারণ এটি মুখে উচ্চারণ করার পর্যায়ে পড়ে না।
শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"যদি কেউ টয়লেটে থাকে এবং মুয়াজ্জিন আজান দেয়, তাহলে সে আজানের উত্তর দেবে না, যতক্ষণ না বের হয়ে আসে। কারণ টয়লেটে যিকর করা নিষিদ্ধ।"
সর্বোত্তম সমাধান: বাথরুম থেকে বের হয়ে আসার পর আজানের উত্তর দেওয়া। যদি আজান শেষ হয়ে যায়, তাহলেও উত্তর দেওয়া যেতে পারে, কারণ আজানের উত্তর দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট নয়, বরং তা মুয়াজ্জিনের উত্তর দেওয়ার সুন্নত।
২. বাথরুমের ভেতরে ওযুর পর দোয়া পড়া
বাথরুমের ভেতরে ওযু করলে সেখানে দোয়া পড়া যাবে না। কারণ:
১. বাথরুম হলো অপবিত্র স্থান, যেখানে আল্লাহর যিকর ও দোয়া করা নিষিদ্ধ। ২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বাথরুমে প্রবেশের সময় এবং বের হওয়ার সময় দোয়া পড়তেন, কিন্তু ভেতরে অবস্থানকালে কোনো যিকর করতেন না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ يُذْكَرَ فِي كُلِّ مَكَانٍ إِلَّا فِي الْخَلَاءِ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে, সর্বত্র তাঁর যিকর করা হোক, তবে পায়খানায় (টয়লেটে) নয়।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং: ২৬০৫৩; সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮)
শায়খ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
ওযুর পরের দোয়া: ওযুর পর যে দোয়া পড়া হয়:
"أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ" (আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু)
এই দোয়াটি বাথরুমের বাইরে ওযু শেষে পড়তে হবে। যদি কেউ বাথরুমের ভেতরে ওযু করে, তাহলে বের হয়ে এসে এই দোয়া পড়বে।
শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"ওযুর পরের দোয়া বাথরুমের ভেতরে পড়া যাবে না, কারণ বাথরুম যিকরের স্থান নয়। বের হয়ে এলে পড়বে।"
সংক্ষিপ্ত ফতোয়া
| বিষয় | বিধান | |-------|--------| | বাথরুমে আজানের উত্তর দেওয়া | নিষিদ্ধ/মাকরূহ - বের হয়ে উত্তর দেওয়া উত্তম | | বাথরুমে ওযুর পর দোয়া পড়া | নিষিদ্ধ - বের হয়ে দোয়া পড়তে হবে | | বাথরুমে যিকর/দোয়া | নিষিদ্ধ - হাদীস দ্বারা প্রমাণিত |
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. বাথরুমে প্রবেশের আগে দোয়া পড়া সুন্নত:
"اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ" (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস)
২. বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর দোয়া পড়া সুন্নত:
"غُفْرَانَكَ" (গুফরানাকা)
৩. ওযুর পরের দোয়া বাথরুমের বাইরে পড়তে হবে।
রেফারেন্স
- সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৬
- সুনান নাসাঈ, হাদীস নং: ২০
- মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং: ২৬০৫৩
- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ - মাজমুউল ফাতাওয়া
- শায়খ ইবনে উসাইমীন - ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
- শায়খ ইবনে বায - মাজমুউ ফাতাওয়া
- শায়খ আল-আলবানী - সহীহ সুনান আবু দাউদ