বন্ধককৃত জমির ফসল কে ভোগ করবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4103
Questioner: Maksuda Begum
Question Asked: 18 Aug 2026, 12:44 AM
Reviewed & Published: 18 Aug 2026, 02:54 AM
Views: 6
Tokens: 3,589
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন :
১) টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত জমির মালিক কি সেই জমির ফসল বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না?? নাকি যার নিকট বন্ধক রাখা হয়েছে উক্ত ব্যক্তিই সেই জমি ওর এর ফসল ভোগ করবে??
২) যে পর্যন্ত মুল টাকাটা ফেরত না দেয়া হবে ততদিন পর্যন্ত বাৎসরিক ৪০০ টাকা বা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়েই যেতে হবে। এমন নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ম করে বছরে টাকা নেয়া হালাল কিনা???

Answer

জমি বন্ধক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। ১) টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত জমির মালিক কি সেই জমির ফসল বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না? নাকি যার নিকট বন্ধক রাখা হয়েছে উক্ত ব্যক্তিই সেই জমি ও এর ফসল ভোগ করবে? ২) মূল টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত বাৎসরিক ৪০০ টাকা বা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে—এমন নিয়ম করে বছরে টাকা নেয়া হালাল কিনা?


উত্তর

১) বন্ধককৃত জমির ফসল কে ভোগ করবে?

বন্ধক (রাহন) একটি আমানত। বন্ধককৃত জমির মালিকানা বন্ধকদাতার (যে টাকা নিয়ে জমি বন্ধক রেখেছে) কাছেই থাকে। বন্ধকগ্রহীতা (যে টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়েছে) শুধু আমানতকারী হিসেবে জমিটি তার কাছে রাখবে।

বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধককৃত জমির ফসল ভোগ করা জায়েয নয়। কারণ, এটি সুদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হবে। বন্ধকগ্রহীতা যদি বন্ধককৃত জমিতে চাষাবাদ করে এবং ফসল ভোগ করে, তবে তা ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা হবে, যা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

বন্ধকদাতা (জমির মালিক) নিজেও বন্ধককৃত জমির ফসল ভোগ করতে পারবে না, কারণ জমির পরিপূর্ণ মালিকানা এখন তার হাতে নাই।

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) -এর মতে, বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধককৃত জমির ফসল ভোগ করা জায়েয নয়। কারণ এটি সুদ। (বাদায়েউস সানায়ে, ৬/১২৮; রদ্দুল মুহতার, ৫/২৮০)


২) নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বছরে নেয়া হালাল কিনা?

বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (যেমন ৪০০ টাকা) নেয়া সম্পূর্ণ হারাম ও সুদ। এটি স্পষ্ট রিবা (সুদ)।

কারণ, বন্ধকগ্রহীতা মূল টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করছে, যা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি ঋণ প্রদানকারীর জন্য ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণের শামিল, যা কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কুরআন: "আল্লাহ তা'আলা সুদকে ধ্বংস করেন এবং দান-সদকাকে বর্ধিত করেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৬)

কুরআন: "হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি সুদ খেয়ো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩০)

হাদীস: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, এর লেখক ও এর দুই সাক্ষীর উপর লানত করেছেন। (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধককৃত বস্তু থেকে উপকার লাভ করা জায়েয নয়, যদি তা ঋণের বিনিময়ে হয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৪/৩৮০)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন: "বন্ধকগ্রহীতা যদি বন্ধককৃত জমিতে চাষাবাদ করে এবং বন্ধকদাতার সাথে এ শর্ত করে যে, প্রতি বছর এত টাকা দেবে, তবে তা হারাম এবং সুদ।" (রদ্দুল মুহতার, ৫/২৮২)


সারসংক্ষেপ

১) বন্ধককৃত জমির মালিকানা বন্ধকদাতার (জমির মালিকের) কাছেই থাকে। তবে পরিপূর্ণ মালিকানা না থাকার দরুণ তিনি চাষাবাদ করতে পারবেন না।

২) বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (৪০০ টাকা) নেয়া সম্পূর্ণ হারাম ও সুদ। এটি ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ।

পরামর্শ: বন্ধকগ্রহীতার উচিত শুধু মূল টাকা ফেরত নেয়া। জমির ফসল বা নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.