ওমরাহ ভিসার মেয়াদ শেষে সৌদি আরবে গোপনে অবস্থান ও চাকরি করা শরিয়তে জায়েয কি না?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4055
Questioner: Saifan Mahmud
Question Asked: 17 Aug 2026, 07:32 AM
Reviewed & Published: 17 Aug 2026, 07:36 AM
Views: 32
Tokens: 2,887
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ।

কেউ যদি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গিয়ে নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে সেখানে অবস্থান করে এবং চাকরি করে, যেটা সৌদি আইনে অবৈধ,

তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে অবস্থান করা ও চাকরি করা কি জায়েয হবে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

শরিয়তের দৃষ্টিতে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে অবস্থান করা এবং চাকরি করা জায়েয নেই। এটি সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. আইন মান্য করা ওয়াজিব: ইসলামী শরিয়তে কোনো মুসলিম দেশের বৈধ আইন মান্য করা আবশ্যক, যতক্ষণ না তা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়। সৌদি আরবের আইনে ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান ও কাজ করা অবৈধ। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতেও তা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"مَنْ أَطَاعَ الْأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي" "যে ব্যক্তি শাসকের আনুগত্য করল, সে যেন আমারই আনুগত্য করল।" (সহিহ বুখারী: ৭১৩৭)

২. চুক্তি ভঙ্গের গুনাহ: ভিসা গ্রহণের সময় দেশের আইন মেনে চলার চুক্তি করা হয়। এই চুক্তি ভঙ্গ করা এবং গোপনে অবস্থান করা প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ" "হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।" (সূরা আল-মায়িদা: ১)

৩. প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি: গোপনে অবস্থান ও কাজ করা কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতারণা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا" "যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১০১)

৪. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: ফতোয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার)-এ উল্লেখ আছে যে, কোনো মুসলিম দেশের শাসক কর্তৃক নির্ধারিত বৈধ বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করা জায়েয নয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মুসলিম শাসকের আইন মান্য করা ওয়াজিব, যদি তা কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী না হয়। (রদ্দুল মুহতার: ৪/৩৬০)

৫. উপার্জনের পবিত্রতা: এইভাবে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا" "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।" (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

সতর্কতা ও পরামর্শ:

  • এই কাজটি করলে ওমরাহর সওয়াব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ গুনাহের কাজের সাথে ইবাদতের সমন্বয় করা যায় না।
  • ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশ ত্যাগ করা বা বৈধভাবে ভিসা এক্সটেনশন করানো জরুরি।
  • যদি কেউ ইতিমধ্যেই এই কাজ করে থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে তওবা করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশ ত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে নিজেকে মুক্ত করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল উপার্জন ও শরিয়ত মোতাবেক জীবনযাপনের তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.