নাজাসাতের পরিমাণ যদি এমন হয় যা চোখে দেখা যায় না বা দৃশ্যমান না হয়, তবে তা ক্ষমার যোগ্য।
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
وعلیکم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি মূলনীতি স্মরণ রাখা জরুরি—ইসলামি ফিকহের নিয়ম হলো, নাপাকি (নাজাসাত) তখনই ধর্তব্য হয় যখন তা দৃশ্যমান বা প্রমাণিত হয়। আর সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কিছুকে নাপাক বলা যাবে না।
আপনি যে ডিমগুলো ধুয়ে টাইলসে রেখেছিলেন, সেগুলো শুকানোর পর ডিমের গায়ে সামান্য গুঁড়াগুঁড়া মুরগির মল দেখতে পান। এখন প্রশ্ন হলো, সেই ডিম থেকে পানি চুইয়ে নুসলিতে লেগেছে—এই পানি কি নাপাক?
হানাফি ফিকহের আলোকে বিধান:
১. মুরগির মল নাপাক (নাজাসাত), এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এখানে মূল বিষয় হলো—ডিমের গায়ে যে পরিমাণ মল লেগেছিল, তা ছিল সামান্য (গুঁড়াগুঁড়া)।
২. ডিম শুকিয়ে যাওয়ার পর সেই মল শুকনো অবস্থায় ছিল। শুকনো নাপাকি সাধারণত স্থানান্তরিত হয় না, যতক্ষণ না তা ভেজা অবস্থায় অন্য বস্তুর সংস্পর্শে আসে।
৩. এখন প্রশ্ন হলো, ডিম থেকে যে পানি চুইয়েছে, তা কি ঐ মলের সংস্পর্শে এসে নাপাক হয়েছে?
- যদি ডিমের গায়ে মল ছিল এবং সেই মলের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে নুসলিতে লেগে থাকে, তাহলে সেই পানি নাপাক হিসেবে গণ্য হবে।
- কিন্তু যদি মলটি শুকনো ছিল এবং পানি শুধু ডিমের খোসার অন্য অংশ থেকে চুইয়ে নুসলিতে লেগেছে, অথবা মলের সংস্পর্শে পানি এসেছে কিনা তা নিশ্চিত নন, তাহলে সন্দেহের কারণে তা পাকই গণ্য হবে।
৪. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নাজাসাতের পরিমাণ যদি এমন হয় যা চোখে দেখা যায় না বা দৃশ্যমান না হয়, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। আর এখানে "সামান্য গুঁড়াগুঁড়া" বলতে বোঝানো হয়েছে অতি অল্প পরিমাণ, যা সাধারণত ক্ষমার আওতাভুক্ত।
৫. ফতোয়ায়ে আলমগিরি-তে উল্লেখ আছে, যদি নাপাক বস্তু শুকনো থাকে এবং অন্য কোনো ভেজা বস্তুর সংস্পর্শে না আসে, তবে তা স্থানান্তরিত হয় না। আর যদি সন্দেহ থাকে যে পানি নাপাকির সংস্পর্শে এসেছে কিনা, তাহলে মূলনীতি হলো—বস্তুটি পাকই থাকবে (আসলু ফিত-তাহারাহ)।
আপনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান:
- যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে সেই পানি সরাসরি মলের সংস্পর্শে এসে নুসলিতে লেগেছে, নাকি ডিমের অন্য অংশ থেকে চুইয়েছে, তাই তাতে মুরগির মল না পেলে শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে নুসলি নাপাক বলা যাবেনা। তাহা পাকই থাকবে।
- তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে পানি সরাসরি মলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নুসলিতে লেগেছে, তাহলে নুসলির যে অংশে পানি লেগেছে, সেটি ধুয়ে ফেলুন। বাকি অংশ পাক থাকবে।
- পাতিলের তলায় যে পানি লেগেছে, সেটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি নিশ্চিত না হন যে পানি নাপাক, তাহলে পাতিল পাকই থাকবে। আর যদি নিশ্চিত হন, তাহলে পাতিলের তলা ধুয়ে নিন।
সতর্কতা: ভবিষ্যতে ডিম ধোয়ার পর ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখুন যে ডিমের গায়ে কোনো মল বা নাপাকি লেগে আছে কিনা। থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলুন। আর ডিম ধোয়ার পানি যেন কোথাও না ছড়িয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া (১/৪৩): নাজাসাতের স্থানান্তরের শর্ত সম্পর্কে।
- রদ্দুল মুহতার (১/৩৩৩): সন্দেহের ক্ষেত্রে পাক-নাপাকের মূলনীতি।
- ফতোয়ায়ে আলমগিরি (১/৪৫): শুকনো নাপাকি স্থানান্তরিত না হওয়ার বিধান।
- ফতোয়ায়ে উসমানি (১/২৮০): নাজাসাতের পরিমাণ ও ক্ষমার বিষয়ে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।