বিড়ালের পায়ুপথ থেকে সাদা কৃমি বের হয়ে হাতে লাগলে হাত কি নাপাক হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার বিড়ালের পায়ুপথ থেকে সাদা কৃমি বের হয়, আমার হাতে লাগে। আমার হাত কি নাপাক?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। বিড়ালের পায়ুপথ থেকে বের হওয়া সাদা কৃমি আপনার হাতে লাগার বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চেয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর: বিড়ালের পায়ুপথ থেকে বের হওয়া সাদা কৃমি আপনার হাতে লাগলে আপনার হাত নাপাক (অপবিত্র) হবে না। তবে কৃমির শরীরে নাপাক বা তরল কিছু লাগানো থাকলে এবং তা হাতে লাগলে হাত নাপাক হিসেবে পরিগণিত হবে।
বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. কৃমির পবিত্রতা: ইসলামি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না (যেমন: মাছি, মশা, পিঁপড়া, কৃমি, উকুন ইত্যাদি), সেগুলো মৃত্যুর পরও পবিত্র (তাহির) হিসেবে গণ্য। এদের শরীর থেকে নির্গত কোনো তরল বা অংশ নাপাক নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫০)
২. বিড়ালের লালা ও শরীর: বিড়ালের শরীর ও লালা পবিত্র। হাদিসে এসেছে, বিড়াল পবিত্র প্রাণী। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৭৫; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৯২) বিড়ালের পায়ুপথ থেকে বের হওয়া কৃমি যদি তার শরীরের সাথে লেগে থাকে, তাও পবিত্রই থাকবে।
৩. কৃমির সাথে মিশে থাকা নাপাকি: যদি কৃমির সাথে বিড়ালের পায়খানা (গোবর) বা অন্য কোনো নাপাক জিনিস লেগে থাকে, তাহলে সেটি নাপাক হবে। কিন্তু শুধু কৃমি বা কৃমির শরীর থেকে নির্গত তরল (যা রক্ত নয়) পবিত্র।
৪. সতর্কতা: যেহেতু কৃমি সাধারণত মল বা নাপাক জিনিসের সাথে মিশে থাকে, তাই হাতে লাগলে সন্দেহ থেকে বাঁচতে হাত ধুয়ে নেওয়া সুন্নত ও উত্তম। তবে ধোয়া না করলেও নামাজ পড়া যাবে, কারণ হাতটি মূলত পবিত্রই।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যে প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না, তার মৃত্যুর পরও শরীর পবিত্র থাকে। কৃমি এমনই একটি প্রাণী, যার রক্ত প্রবাহিত হয় না। তাই কৃমি পবিত্র। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৬২; আল-মাবসুত, ১/৮৫)
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর ব্যাখ্যা: তিনি তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, পোকামাকড় ও কৃমি জাতীয় প্রাণী মৃত্যুর পরও পবিত্র, কারণ এদের রক্ত থাকে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৬৮)
উপসংহার: আপনার হাতে কৃমি লাগলে হাত নাপাক হবে না। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং সতর্কতা হিসেবে হাত ধুয়ে নেওয়া ভালো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)