মাঝেমধ্যে মনে হয় যে, “যদি স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে, তাহলে আমি হয়তো তার সাথে থাকতে পারব না, ।” এই মনোভাবের কারণে কি কোনো গোনাহ হবে?

Faith and Belief · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 401
Questioner: disha ebnat
Question Asked: 20 May 2026, 08:42 AM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 10:25 AM
Views: 36
Tokens: 3,340
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি বলি যে “যদি আমার হাজব্যান্ড দ্বিতীয় বিয়ে করে, তাহলে আমি হয়তো তার সাথে থাকতে পারব না, চলে যাব।” কিন্তু পরে আবার মনে হয়, মানুষ তো আল্লাহর জন্য কত কঠিন বিষয়ও সহ্য করে। তাহলে আমি কেন এটা সহ্য করতে পারব না?
এরপর ভয় লাগে—আমি যেহেতু এমন কথা বলছি, আল্লাহ কি আমার উপর রাগ করবেন? বা এমন কিছু ঘটিয়ে দিবেন যাতে আমাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়? শুধু এই কারণে যে আমি বলেছি আমি এটা সহ্য করতে পারব না?
আর এখন আমার মনে এই ভয়ও আসে, এবং আপনাকে এই প্রশ্ন করা থেকে কি বুঝায় যে আমি আল্লাহকে নিয়ে খারাপ ধারণা করছি? বা আল্লাহ সম্পর্কে ভুল চিন্তা করছি?
এছাড়া, এ ধরনের ভুল বা ভয়ভিত্তিক চিন্তা আসার কারণে কি আমার গুনাহ হচ্ছে? আমার কি আল্লাহ সম্পর্কে এমন সু-ধারণা রাখা উচিত যে, “ইন শা আল্লাহ, আমার জীবনে এমন কিছু হবে না”?

Answer

উত্তরঃ

ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, আপনার মনের এই চিন্তা এবং দ্বিধা—এগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানবিক আবেগ। ইসলাম এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। নিচে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

১. "আমি বলি যে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে থাকতে পারব না" – এ কথা বলায় কি গুনাহ হচ্ছে?

আপনার এ কথা বলা গুনাহ নয়, যদি তা অভ্যাসগত বা সংকল্পবদ্ধ না হয়ে থাকে। বরং এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। তবে ইসলামে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি বৈধ (সূরা আন-নিসা ৪:৩), কিন্তু স্ত্রীর জন্য এটি কষ্টদায়ক হওয়াও স্বাভাবিক। এ কষ্টের কারণে যদি আপনি ভাবেন যে আপনি সহ্য করতে পারবেন না, তবে সেটা আপনার দুর্বলতা বা স্বভাবগত সীমাবদ্ধতা, বিদ্রোহ নয়।

ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ঈর্ষা থাকে, যা দমনের আদেশ দেওয়া হয়নি। তবে ঈর্ষার কারণে সীমালংঘন করলে তা নিষিদ্ধ।" (মাজমু‘উল ফাতাওয়া, ২৮/৩৪২)

২. আল্লাহ কি আমার উপর রাগ করবেন বা আমাকে এই অবস্থায় ফেলবেন?

আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু। তিনি বান্দার মনে লুকানো চিন্তার জন্য শাস্তি দেন না, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত হয় (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬২৬৪)। আপনার ভয় বা দুর্বলতার কারণে তিনি আপনাকে শাস্তি দেবেন না, বরং তিনি রহমান ও রহীম। তবে আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা (যেমন আল্লাহ অন্যায় করবেন) রাখা নিষিদ্ধ। আপনি তো শুধু আপনার শক্তির সীমা স্বীকার করছেন, আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করছেন না।

আল্লাহ বলেন:

"আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)

৩. আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা হচ্ছে কিনা?

আপনার প্রশ্ন করাটি আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণার প্রমাণ নয়, বরং এটি আল্লাহর বিধান ও নিজের অবস্থা বোঝার আগ্রহ। আপনি ভয় পাচ্ছেন যে আপনার চিন্তা আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণার শামিল কিনা—এ ভয়টিই প্রমাণ করে আপনার অন্তর আল্লাহর প্রতি সদগোপনীয়।

ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন:

"মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ধারণা নিয়ে সন্দেহ হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসা। এ থেকে বাঁচার উপায় হলো আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা ও তাঁর রহমতের উপর আস্থা রাখা।" (মাদারিজুস সালিকীন, ২/৩৫১)

৪. ভয়ভিত্তিক চিন্তা আসায় গুনাহ হচ্ছে?

না, ভয়ভিত্তিক চিন্তার জন্য গুনাহ হয় না। হাদীসে এসেছে, নবী (সা.) বলেছেন:

"আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে আসা কুমন্ত্রণা ও ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ না তারা তা কথা বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১২৭)

তবে সুন্নাহ হলো, এসব চিন্তাকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া

৫. "ইন শা আল্লাহ, আমার জীবনে এমন কিছু হবে না" – কীভাবে মনে রাখা উচিত?

হ্যাঁ, আপনার আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা উচিত। আপনি দোয়া করতে পারেন:

"হে আল্লাহ, তুমি আমার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে থেকে রক্ষা কর এবং আমার জীবনে শান্তি বজায় রাখ। তবে যদি তুমি আমার জন্য এতেই কল্যাণ নির্ধারণ করো, তবে আমাকে ধৈর্য ও শক্তি দান কর।"

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

"মুমিনের উচিত আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা এবং ভবিষ্যতে কল্যাণের আশা করা। বর্তমানে যা নেই সে সম্পর্কে উদ্বেগ না করে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা উচিত।" (মাজমু‘উল ফাতাওয়া, ২৬/২৭২)

৬. এখন আপনার করণীয়:

১. আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখুন—তিনি আপনার জন্য যা কল্যাণকর তা-ই ঘটাবেন।
২. দোয়া করুন—যেন আপনার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে থেকে রক্ষা করেন, অথবা যদি হতেই হয় তবে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেন।
৩. শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচুন—যখনই এ চিন্তা আসে, "আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম" পড়ুন।
৪. ইলম অর্জন করুন—স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রীর আইনগত অধিকার (যেমন বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার) সম্পর্কে জেনে রাখুন।

উপসংহার:

আপনার চিন্তা ও ভয় গুনাহ নয়। আপনি আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা করছেন না। বরং আপনি একজন মুমিনা হিসেবে নিজের সীমা স্বীকার করছেন এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইছেন। ভবিষ্যতের অজানা বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। তাঁর রহমত অপরিসীম।

ওয়াল্লাহু তাআ‘লা আলাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.