জ্বীন আছর ও গর্ভবতী অবস্থায় নামাজ সংক্রান্ত।

Salah-Prayer · Hanbali

Question No: 3993
Questioner: Sadia Arfin
Question Asked: 15 Aug 2026, 12:46 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 02:06 PM
Views: 15
Tokens: 3,250
This answer is according to the 'Hanbali' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

জ্বীন আছর থাকা অবস্থায় যদি জ্বীন নামাজে হাটাহাটি করে আর।।গর্ভবতী থাকা অবস্থায় যদি নামাজে পেটে চাপ দেয় তাহলে তো বাচ্চা নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাহলে কি ফরজ নামাজ ত্যাগ করে যাবে?

Answer

জ্বীন আছর ও গর্ভবতী অবস্থায় নামাজ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

উত্তর

প্রশ্ন: জ্বীন আছর থাকা অবস্থায় যদি জ্বীন নামাজে হাঁটাহাঁটি করে এবং গর্ভবতী অবস্থায় নামাজে পেটে চাপ দেয়, তাহলে কি ফরজ নামাজ ত্যাগ করা যাবে?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, ফরজ নামাজ ত্যাগ করা যাবে না। জ্বীন আছর বা গর্ভাবস্থার জটিলতা নামাজ ত্যাগের বৈধ কারণ নয়। বরং রোগী ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করবেন — বসে, শুয়ে, অথবা ইশারায়। তবে যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে নামাজ আদায় করা শারীরিকভাবে একেবারেই অসম্ভব বা মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ ত্যাগ করা জায়েয নয়।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা

১. নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ "আমাদের এবং তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো নামাজ। যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" (সুনান আত-তিরমিজি: ২৬২১, সুনান আন-নাসাঈ: ৪৬৩ — শায়খ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

২. অসুস্থ অবস্থায় নামাজের বিধান

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ "দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো। যদি না পারো, তাহলে বসে। আর যদি তাও না পারো, তাহলে কাত হয়ে (শুয়ে) পড়ো।" (সহীহ আল-বুখারি: ১১১৭)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যখন কেউ নামাজের কোনো রুকন বা শর্ত আদায়ে অক্ষম হয়, তখন সে তা ক্ষমার যোগ্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।' (সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬)" (মাজমু' আল-ফাতাওয়া, ৮/৪৩৬)

৩. জ্বীন আছর অবস্থায় নামাজ

জ্বীন আছর নামাজ ত্যাগের বৈধ কারণ নয়। আছরগ্রস্ত ব্যক্তি তার অবস্থা অনুযায়ী নামাজ আদায় করবেন। যদি দাঁড়াতে না পারেন, তাহলে বসে; যদি বসতেও না পারেন, তাহলে শুয়ে বা ইশারায় নামাজ আদায় করবেন।

শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"জ্বীন দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নামাজ পড়তে সক্ষম হয়, তাহলে তার উপর নামাজ ফরজ। সে দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে যেভাবেই সম্ভব নামাজ আদায় করবে। নামাজ ত্যাগ করা জায়েয নয়।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/৩৩৫)

৪. গর্ভবতী মহিলার নামাজ

গর্ভবতী মহিলার জন্য নামাজ ত্যাগ করা জায়েয নয়। তবে যদি নামাজের কারণে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তিনি:

  • নামাজে রুকু-সিজদা সহজভাবে আদায় করতে পারেন
  • প্রয়োজনে বসে নামাজ পড়তে পারেন
  • চরম প্রয়োজন হলে শুয়ে বা ইশারায় নামাজ আদায় করতে পারেন

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"গর্ভবতী মহিলা যদি নামাজে রুকু-সিজদা করতে অসুবিধা বোধ করেন, তাহলে তিনি বসে নামাজ পড়তে পারেন। কিন্তু নামাজ ত্যাগ করা জায়েয নয়।" (আশ-শারহুল মুমতি', ৪/২৩০)

৫. জরুরি অবস্থায় নামাজ বিলম্ব করা

যদি এমন অবস্থা হয় যে নামাজ আদায় করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে (যেমন: গর্ভপাতের আশঙ্কা), তাহলে:

  • নামাজ সম্পূর্ণ ত্যাগ করা যাবে না
  • তবে নামাজের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে যদি আশা থাকে যে অবস্থার উন্নতি হবে
  • অথবা অবস্থা অনুযায়ী সহজ পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা হবে

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি কেউ নামাজের কোনো শর্ত বা রুকন আদায়ে অক্ষম হয়, তবে সে তা বাদ দিয়ে নামাজ আদায় করবে এবং তার নামাজ সহীহ হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তোমাদের উপর ধর্মে কোনো সংকীর্ণতা করেননি।' (সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮)" (মাজমু' আল-ফাতাওয়া, ২২/৩০)


ব্যবহারিক সমাধান

জ্বীন আছরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য:

  1. রুকইয়াহ করান — কুরআন ও সহীহ দু'আ দ্বারা জ্বীন থেকে মুক্তির চেষ্টা করুন
  2. নামাজ আদায় করুন — দাঁড়াতে না পারলে বসে, বসতে না পারলে শুয়ে
  3. নামাজে হাঁটাহাঁটি করলে — নামাজ ভেঙে আবার নতুন করে শুরু করুন, তবে নামাজ ত্যাগ করবেন না
  4. ওজু ও তায়াম্মুম — প্রয়োজনে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করুন

গর্ভবতী মহিলার জন্য:

  1. নামাজে রুকু-সিজদা সহজ করুন — প্রয়োজনে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ুন
  2. পেটে চাপ না দেওয়ার চেষ্টা করুন — সিজদার সময় কনুই পেট থেকে দূরে রাখুন
  3. বসে নামাজ পড়ুন — দাঁড়াতে অসুবিধা হলে বসে নামাজ পড়ুন
  4. ডাক্তারের পরামর্শ নিন — যদি সত্যিই মারাত্মক ঝুঁকি থাকে

গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা

لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ "কোনো ক্ষতি করা যাবে না এবং কোনো ক্ষতির প্রতিশোধও নেওয়া যাবে না।" (সুনান ইবনে মাজাহ: ২৩৪১ — সহীহ)

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ "তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। কোনো অবস্থাতেই তা ত্যাগ করা জায়েয নয়। অসুস্থ ব্যক্তি যেভাবেই সম্ভব নামাজ আদায় করবে — দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে বা ইশারায়। এমনকি জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত নামাজের দায়িত্ব থাকে।" (আল-মুলাখ্খাস আল-ফিকহী, ১/১৪২)


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ফরজ নামাজ ত্যাগ করা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়। জ্বীন আছর বা গর্ভাবস্থার জটিলতা নামাজ ত্যাগের বৈধ কারণ নয়। বরং:

  1. জ্বীন আছরগ্রস্ত ব্যক্তি — যেভাবেই সম্ভব নামাজ আদায় করবেন (দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে)
  2. গর্ভবতী মহিলা — প্রয়োজনে বসে বা সহজ পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করবেন
  3. চরম জরুরি অবস্থায় — নামাজ বিলম্ব করা যেতে পারে, কিন্তু ত্যাগ করা যাবে না

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজের হিফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.