স্ত্রী অতিরিক্ত বাপের বাড়ি যেতে চাওয়া
Family Life · Hanafi
Question
আমাদের বিয়ে হয়েছে ২ বছর। আমাদের একটী মেয়ে আছে ১০ মাস। মেয়ের স্ক্যাবিশ (চুলকানি রোগ) হয়েছে। মেয়ের থেকে আমাদের সবারই স্ক্যাবিশ হয়েছে। মেয়ে অসুস্থ আমার স্ত্রী সেটাও বুঝতে চায় না। তার যা মনে চায় তাই করতে চায়। ঘন ঘন বাড়ি যেতে চাওয়া ছাড়া তার আর বড় কোন দোষ নেই।অপরদিকে আমার মা। উনি আবার এতো ঘন ঘন বাড়ি যেতে দিতে চায় না। যখন বাড়ী যেতে দেওয়া যায় উনি তখনও যেতে দিতে চান না। এটা নিয়ে আমি প্রচুর অশান্তিতে আছি। মায়ের কথা শুনলে বউ অখুশী হয় আর বউ এর কথা শুনলে মা অখুশী হয়। আমাকে পরামর্শ দিন আমি কি করবো? আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করি। মাথায় অন্য প্রেশার থাকলে কাজে ফোকাস করা যায় না। আমাকে পরামর্শ দিন আমি কি করবো? কার কথা শুনবো? কিভাবে এই অশান্তি থেকে মুক্তি পাবো?
Answer
স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া সংক্রান্ত পরামর্শ
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার পারিবারিক সমস্যা ও স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়ার বিষয়টি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যাক।
ইসলামী বিধান
১. স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়ার অধিকার: ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর অনুমতি নিয়ে বাপের বাড়ি যাওয়া জায়েয। তবে ঘন ঘন যাওয়া বা দীর্ঘ সময় থাকা স্বামীর অধিকারের পরিপন্থী। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর বাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত নয়।
২. স্বামীর কর্তব্য: স্বামীকে স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং তার বৈধ প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। তবে স্ত্রীর ঘন ঘন বাপের বাড়ি যাওয়ার কারণে যদি সংসারে সমস্যা হয়, তাহলে স্বামী যুক্তিসঙ্গত সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।
৩. স্ত্রীর কর্তব্য: স্ত্রীর উচিত স্বামীর কথা মেনে চলা এবং সংসারের শান্তি বজায় রাখা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে স্ত্রী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার উপর স্বামীর অধিকার সম্পর্কে জানা তার কর্তব্য।" (বুখারী)
ব্যবহারিক পরামর্শ
১. যুক্তিসঙ্গত সমাধান: আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে বসে একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সূচী নির্ধারণ করুন। যেমন: প্রতি ২-৩ মাসে একবার বাপের বাড়ি যাওয়া এবং সেখানে ৩-৫ দিন থাকা। এটি উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
২. মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য:
- ইসলামে মায়ের সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে স্ত্রীর সাথে সুন্দরভাবে চলাও স্বামীর দায়িত্ব।
- মায়ের সাথে সম্মানজনক আচরণ করুন, কিন্তু স্ত্রীর বৈধ অধিকার রক্ষা করুন।
- মাকে বোঝান যে স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও জায়েয।
৩. অসুস্থ সন্তানের বিষয়ে: আপনার মেয়ে অসুস্থ (স্ক্যাবিস), এটি একটি রোগ। এই অবস্থায় সন্তানের চিকিৎসা ও যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রীকে বোঝান যে সন্তানের সুস্থতার জন্য এখন বাড়িতে থাকা জরুরি। তবে প্রয়োজনে বাপের বাড়ি গিয়েও সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন।
৪. শ্বশুরের সাথে কথা বলা: আপনার শ্বশুরকে বোঝান যে ঘন ঘন যাতায়াতের কারণে সংসারে সমস্যা হচ্ছে এবং সন্তান অসুস্থ। তাকে অনুরোধ করুন যেন তিনি মেয়েকে কিছু সময় পরপর যাওয়ার পরামর্শ দেন।
৫. স্ত্রীর সাথে ভালোভাবে কথা বলা: স্ত্রীর সাথে রাগ না করে, ভালোবাসা দিয়ে কথা বলুন। তাকে বোঝান যে আপনি তার প্রতি ভালোবাসেন, কিন্তু সংসারের দায়িত্ব ও সন্তানের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।" (তিরমিযী)
সর্বোত্তম সমাধান
১. স্ত্রীর সাথে একটি চুক্তি করুন: প্রতি ২ মাস পরপর ৫-৭ দিনের জন্য বাপের বাড়ি যেতে পারবে, তবে সন্তান অসুস্থ থাকলে চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
২. মাকে বোঝান: স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েয এবং এটি স্ত্রীর অধিকার। মাকে বলুন, "মা, আপনি তো আমার মা, আপনার সম্মান আমি করি। কিন্তু স্ত্রীরও কিছু অধিকার আছে।"
৩. শ্বশুরকে অনুরোধ করুন: তাকে বলুন, "আব্বু, আমি চাই মেয়ে আপনার কাছে যাক, কিন্তু সন্তান অসুস্থ, তাই কিছুদিন পর পাঠাবো।"
৪. ধৈর্য ধরুন: এই সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে। ধৈর্য ও হিকমতের সাথে কাজ করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার পরিবারে শান্তি বর্ষণ করুন। আমীন।