বাথরুমের স্যান্ডেল ঘরে পড়া যাবে কি

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3964
Questioner: Abdullah
Question Asked: 14 Aug 2026, 05:45 PM
Reviewed & Published: 14 Aug 2026, 05:57 PM
Views: 48
Tokens: 3,465
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

১/ ঘরে দুটো বাথরুম কাম টয়লেট আছে। একটা এটাস্ট যেটাতে হাই কমোড। আমার প্রশ্ন হলো বাথরুমে পড়া স্যান্ডেল কি ঘরে পড়া যাবে? ঘরে সালাত আদায় করা হয়।

২/ আমার ২য় প্রশ্ন হলো, আমার বাড়িতে কাজের লোক ঘর মুছে যায়। তারপরেও আমার স্ত্রী ঘর মোছে। ঘরে দৃশ্যমান ময়লা বা দাগ না থাকলেও পুনরায় ঘর মোছা এতোবার জরুরী কিনা? বাইরের কোনো লোক ঘরে আসলে আবার ঘর মোছে।

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: বাথরুমে পড়া স্যান্ডেল কি ঘরে পড়া যাবে?

উত্তর: আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো—বাথরুমে (টয়লেটে) ব্যবহৃত স্যান্ডেল বা চপ্পল ঘরে (বিশেষত যে ঘরে সালাত আদায় করা হয়) পরে প্রবেশ করা বা পড়া মাকরূহে তানযিহি (অপছন্দনীয়)। তবে এটি হারাম নয়, যদি স্যান্ডেলে দৃশ্যমান কোনো নাপাকি (পেশাব, পায়খানা) না লেগে থাকে।

সুতরাং উক্ত স্যান্ডেলে নাপাকি না থাকলে বা ভালো ভাবে ধৌত করে তা ঘরে পড়া যাবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. ইসলামী ফিকহের নিয়ম হলো—যে স্থানে নাপাকি থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, সেখানকার জিনিসকে পবিত্র মনে করা হয় না যতক্ষণ না পবিত্রতা প্রমাণিত হয়। তবে বাথরুমের মেঝে সাধারণত পাক (পবিত্র) থাকে এবং সেখানে পেশাব-পায়খানার দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলে মেঝে পবিত্রই গণ্য হয়।

২. হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা পরীক্ষা করে দেখতেন এবং তাতে কোনো নাপাকি থাকলে তা পরিষ্কার করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৬৫০; মুসনাদে আহমাদ)

সারকথা: বাথরুমে পড়া স্যান্ডেল যদি দৃশ্যত পবিত্র থাকে (অর্থাৎ তাতে কোনো নাপাকির চিহ্ন না থাকে), তাহলে তা ঘরে পড়া জায়েজ আছে। তবে সালাতের ঘরে বা মুসল্লায় প্রবেশের আগে স্যান্ডেলটি ভালোভাবে মুছে নেওয়া বা অন্য পবিত্র চপ্পল ব্যবহার করা উত্তম এবং অধিক সতর্কতা (এহতিয়াত)।


প্রশ্ন ২: কাজের লোক ঘর মুছে যাওয়ার পর স্ত্রী আবার ঘর মোছা কি জরুরি? বাইরের লোক আসলে আবার ঘর মোছা কি জরুরি?

উত্তর: ঘর মোছা বা পরিষ্কার করা একটি সুন্নত ও প্রশংসনীয় কাজ এবং পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তবে ঘর মোছা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়। কাজের লোক ঘর মুছে গেলে এবং ঘরে দৃশ্যমান কোনো ময়লা বা দাগ না থাকলে পুনরায় ঘর মোছা জরুরি নয়। এটি ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) বা শয়তানের প্ররোচনা বলে গণ্য হবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. ইসলাম ধর্মে পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার ঘর মোছা জরুরি। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য ধর্মের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।" (সূরা হজ্জ: ৭৮)

২. রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা ধর্মে চরমপন্থা (গুলু) থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা চরমপন্থার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" (সুনানে নাসাঈ: ৩০৫৭; মুসনাদে আহমাদ: ৬৫১৪)

৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামের নীতি হলো—যে বিষয়ে শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশ নেই, সেখানে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা অবলম্বন করা মাকরূহ এবং ওয়াসওয়াসার অন্তর্ভুক্ত।

৪. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।" (সহিহ বুখারি: ১২৩৬) অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় বারবার পরিষ্কার করার প্রবণতা শয়তানের কুমন্ত্রণা।

সারকথা: ঘর দৃশ্যমান ময়লা বা দাগ না থাকলে বারবার মোছার প্রয়োজন নেই। কাজের লোক ঘর মুছে গেলে স্ত্রীর আবার মোছা জরুরি নয়। বাইরের লোক আসার কারণে ঘর মোছা কোনো শরিয়তসম্মত বাধ্যবাধকতা নয়। তবে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ভালো কাজ, কিন্তু তা যেন ওয়াসওয়াসায় পরিণত না হয়। স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলা উচিত যে, ঘর পরিষ্কার থাকলে বারবার মোছার দরকার নেই, এটা শয়তানের প্ররোচনা।

রেফারেন্সসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ১/৩১৭-৩১৮
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগিরি), ৫/৩২৮
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি), ১/২৪৫
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী), ১/৫২-৫৩
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৮৮

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.