আত্মীয় কেউ ব্যবসায় সাহায্য করতে চাইলে টাকা নেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3961
Questioner: Nasra Maha Mim
Question Asked: 14 Aug 2026, 05:06 PM
Reviewed & Published: 14 Aug 2026, 05:50 PM
Views: 22
Tokens: 2,777
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের নিকট আত্মীয়ের ব্যবসায় সাহায্য করতে চাচ্ছি। কিন্তু ওনারা খুশি হয়ে কিছু টাকা প্রতিমাসে দিতে চাচ্ছেন এটা কী হালাল/জায়েজ হবে? যদি জায়েজ হয় তাহলে সর্বোচ্চ কতো টাকা তারা দেওয়া উচিৎ হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। আপনি যে অর্থ বিনিয়োগ করছেন বা সাহায্য করছেন, তার বিনিময়ে তারা আপনাকে নির্দিষ্ট হারে (যেমন: মাসিক ৫% বা বার্ষিক ১০%) লাভ দেওয়ার শর্ত করছেন কিনা, নাকি তারা খুশি হয়ে (স্বেচ্ছায়) আপনার জন্য কিছু উপহার/বোনাস দিতে চাচ্ছেন?

১. যদি শর্ত থাকে (সুদ): যদি আপনি টাকা দেন এই শর্তে যে, তারা আপনাকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (যেমন: ১০০০ টাকা) দেবেন, তাহলে এটি সম্পূর্ণ হারাম (সুদ) হবে। ইসলামে ঋণ বা বিনিয়োগে পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সুদ, যা কুরআন ও হাদিসে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫-২৭৯)

২. যদি শর্ত না থাকে (সাহায্য/বিনিয়োগ): আপনি যদি তাদের ব্যবসায় সাহায্য করার নিয়তে টাকা দেন (মুদারাবা/শিরকাতের নিয়মে অংশীদারত্ব ছাড়া) এবং তারা নিজের খুশিতে (স্বেচ্ছায়) আপনাকে কিছু টাকা বা উপহার দেয়, তবে সেটি জায়েজ। তবে শর্ত থাকবে না যে, তারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা দেবেই। এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি "হাদিয়া" (উপহার) হিসেবে গণ্য হবে।

হানাফি ফিকহের নিয়ম: হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) এবং ফাতাওয়া হিন্দিয়া-তে উল্লেখ আছে, যদি কেউ কারো কাছে টাকা জমা রাখে বা সাহায্য করে এবং জমাদাতা (আমানতদার) খুশি হয়ে কিছু দেয়, তবে তা গ্রহণ করা জায়েজ, যতক্ষণ না এটি ঋণ পরিশোধের শর্ত হিসেবে নির্ধারিত হয়। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৬৫)

সর্বোচ্চ কত টাকা দেওয়া যাবে? এর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা ইসলামে নেই। তবে শর্ত হলো:

  • এটি যেন পূর্বনির্ধারিত না হয় (যেমন: "আমি তোমাকে ১০,০০০ টাকা দিচ্ছি, তুমি আমাকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা দেবে")।
  • এটি যেন ব্যবসার লাভের সাথে সম্পর্কিত না হয় (অর্থাৎ, ব্যবসায় লাভ হলে দেবেন, ক্ষতি হলে দেবেন না—এমন শর্ত থাকলে সেটি সুদ হয়ে যাবে)।
  • তারা যেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং খুশি হয়ে দেয়। আপনি যেন তা দাবি করতে না পারেন।

আপনার করণীয়: আপনি যদি তাদের ব্যবসায় প্রকৃতপক্ষে অংশীদার (শিরকাত) হতে চান, তাহলে ইসলামি নিয়মে অংশীদারত্ব করুন। সেক্ষেত্রে লাভ-লোকসান উভয়ই ভাগাভাগি হবে। কিন্তু আপনি যদি শুধু সাহায্য করতে চান, তাহলে তাদের বলুন: "আমি তোমাদের সাহায্য করছি, তোমরা আমার টাকা ব্যবসায় ব্যবহার করো। যখন সম্ভব হয়, খুশি হয়ে কিছু দিও, কিন্তু এটা আমার জন্য কোনো শর্ত নয়।" এরপর তারা যদি খুশি হয়ে কোনো টাকা দেয়, তা আপনার জন্য হালাল ও বরকতময় হবে।

সারসংক্ষেপ:

  • শর্তহীন স্বেচ্ছায় দেওয়া টাকা নেওয়া জায়েজ
  • নির্দিষ্ট হারে (শর্তসাপেক্ষে) দেওয়া টাকা হারাম (সুদ)
  • সর্বোচ্চ সীমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে উত্তম হলো অল্প পরিমাণে সন্তুষ্ট থাকা এবং বেশি নেওয়া থেকে বিরত থাকা, যাতে সুদের সন্দেহ না হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তাওফিক দান করুন। (আমিন)

দলিল:

  • কুরআন: "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
  • হাদিস: "যে ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেয়, অতঃপর সে (ঋণদাতা) তাকে উপহার দেয় বা বাহনে চড়ায়, তবে তা সুদ।" (সুনানে আবু দাউদ: ৩৩৪১) — তবে এই হাদিসটি তখন প্রযোজ্য যখন উপহার দেওয়ার পূর্বশর্ত থাকে বা ঋণ আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। খুশি হয়ে দেওয়া উপহার এর আওতাভুক্ত নয়। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৮৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.