অতিরিক্ত ঘুমের চাপে নামাজ কাজা হওয়ার বিধান কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3930
Questioner: Abdullah
Question Asked: 13 Aug 2026, 10:04 PM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 10:12 PM
Views: 15
Tokens: 3,471
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার কোনো কোনো সময় বেশ সময় ধরে সজাগ থাকতে হয় ফলে দেখা যায় শরীরে প্রচুর ঘুমের চাপ তৈরি হওয়ার কারণে নামাজের জামাতের সময় এলার্ম দিয়ে রাখলেও ঘুমের কারণে এলার্ম শুনতে না পেরে দুর্ভাগ্যক্রমে ঘুমন্ত অবস্থাতেই দুই এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যায়। আমার সাধারণত কখনো নামাজ কাজা হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। উক্ত পরিস্থিতিতে নামাজ কাজা হয়ার বিধান কি?

Answer

وعلیکم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। আপনি যে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন—ঘুমের চাপে অ্যালার্ম শুনতে না পেয়ে নামাজ কাজা হয়ে যাওয়া—এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে ওজর (অব্যাহতি) হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে আপনার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে কি না, তার উপর।

১. ঘুমের কারণে নামাজ কাজা হওয়ার বিধান

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (আল-দুররুল মুখতার)-এ উল্লেখ আছে, ঘুম এমন একটি অবস্থা যা দ্বারা বান্দার ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই ঘুমের কারণে নামাজ কাজা হয়ে গেলে তা গুনাহের কাজ নয়, বরং এটি একটি ওজর। তবে শর্ত হলো, ব্যক্তি নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা ও সতর্কতা অবলম্বন করেছে কি না।

রদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে:

"নিদ্রা দ্বারা কলম উঠে যায় (অর্থাৎ গুনাহ লেখা হয় না), কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর থেকে দায়িত্ব উঠে যায়, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়।"

তবে এর অর্থ এই নয় যে, নামাজ কাজা হলে আর পড়তে হবে না। বরং কাজা হওয়া নামাজ অবশ্যই আদায় করতে হবে। ঘুমের কারণে নামাজ ছুটে গেলে তা গুনাহ নয়, কিন্তু কাজা পড়া ফরজ।

২. প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের শর্ত

আপনি যদি জানতেন যে, আপনার ঘুম খুব গভীর হয় এবং অ্যালার্ম শুনতে পান না, তাহলে আপনার উপর অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক ছিল। যেমন:

  • একাধিক অ্যালার্ম দেওয়া।
  • পরিবারের কাউকে বলার ব্যবস্থা করা।
  • সম্ভব হলে জামাতের আগে কিছুক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা করা।

যদি আপনি এই ধরনের চেষ্টা করার পরও ঘুম থেকে না উঠতে পারেন, তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে ওজর হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি গুনাহ হবে না। কিন্তু যদি কোনো সতর্কতাই না নেন এবং শুধু অ্যালার্মের উপর ভরসা করে থাকেন, তাহলে সেটি গুনাহের কারণ হতে পারে।

ফতোয়ায়ে উসমানি-তে এসেছে:

"যদি কেউ নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকে এবং তার ঘুম এমন গভীর হয় যে, সে জাগ্রত হওয়ার কোনো উপায়ই রাখে না, তবে তার নামাজ কাজা হওয়া গুনাহ নয়। কিন্তু যদি সে জানত যে, তার ঘুম গভীর হয়, তাহলে তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা করা জরুরি ছিল।"

৩. কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম

যে নামাজগুলো কাজা হয়েছে, সেগুলোর কাজা আদায় করা ফরজ। আপনি যখনই জাগ্রত হবেন, তখনই সেই নামাজগুলো আদায় করে নিবেন। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তার কাফফারা হলো—স্মরণ হওয়ামাত্রই সে যেন নামাজ আদায় করে নেয়।" (সহিহ মুসলিম: ৬৮৪)

৪. গুনাহ হবে কি না?

  • যদি আপনি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন (একাধিক অ্যালার্ম, পরিবারকে বলা ইত্যাদি) এবং তবুও ঘুম থেকে না উঠতে পারেন, তাহলে আপনার কোনো গুনাহ হবে না। এটি একটি ওজর।
  • যদি আপনি কোনো সতর্কতাই নেননি, তাহলে এটি গাফলতি হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা জরুরি।

৫. ভবিষ্যতের জন্য পরামর্শ

  • নামাজের সময় হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন, যাতে জামাতের সময় আপনার ঘুম কম থাকে।
  • একাধিক অ্যালার্ম সেট করুন এবং অ্যালার্মটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পৌঁছাতে হলে উঠতে হয়।
  • পরিবারের কাউকে বলে রাখুন, যেন তারা আপনাকে ডেকে দেয়।
  • সম্ভব হলে কোনো বন্ধু বা সহকর্মীকে বলুন, যিনি আপনাকে ফোন করে জাগিয়ে দিতে পারেন।

৬. দোয়া ও তওবা

আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার গাফলতি হয়েছে, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করুন। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল। তবে নামাজ কাজা হওয়ার কারণে হতাশ হবেন না, বরং কাজা আদায় করে নিন এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন।

সারসংক্ষেপ:
ঘুমের কারণে নামাজ কাজা হলে তা গুনাহ নয়, তবে কাজা আদায় করা ফরজ। যদি আপনি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন, তাহলে কোনো গুনাহ হবে না। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নামাজের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.