নিম্নস্বর বিশিষ্ট নামাজ যেমন আসর এর নামাজে কোনো রুকনে আওয়াজ হলে নামাজ কি ফাসিদ হয়ে যাবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3917
Questioner: Aslam
Question Asked: 13 Aug 2026, 06:23 PM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 07:36 PM
Views: 19
Tokens: 3,479
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
নিম্নস্বর বিশিষ্ট নামাজ( যেমন আসর) এর নামাজে কোনো রুকনে তেলাওয়াত করতে গিয়ে তেলাওয়াত এর আওয়াজ বা বৈঠকে তাশাহুদ /দুরুদ পাঠ করতে গিয়ে দোয়ার কিছু অংশ অথবা সালাম ফেরাতে গিয়ে সালাম এর সামান্য অংশের আওয়াজ উচ্চস্বরে হয়ে গেলে কি নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: নিম্নস্বরে (যেমন: আসর) পড়া নামাজের কোনো রুকনে (কিরাত, তাশাহুদ, দরুদ বা সালাম) উচ্চস্বরে আওয়াজ হয়ে গেলে নামাজ ফাসিদ (বাতিল) হবে কি না।


উত্তর:

**হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নিম্নস্বরে পড়া নামাজে (যেমন: আসর, মাগরিবের তৃতীয় রাকাত, ইশার শেষ দুই রাকাত, সুন্নত ও নফল) কোনো রুকনে, কিরাতের বেলায় ৩০ হরফ এর বেশী ‍উচ্ছস্বরে পড়ে নিলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। ( তাশাহুদ, দরুদ, সালাম) ভুলবশত উচ্চস্বরে পড়ে নিলে সাহু সিজদা যদিও ওয়াজিব হবে না। তবে এটা সুন্নতের খেলাফ।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. কিরাত (তেলাওয়াত) উচ্চস্বরে হয়ে গেলে:

  • নিম্নস্বরে পড়া নামাজে (যেমন: আসর) কিরাত উচ্চস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। ৩০ অক্ষরের কম হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।

২. তাশাহুদ, সালাম, দরুদ বা দোয়া উচ্চস্বরে হয়ে গেলে:

  • তাশাহুদ, দরুদ বা দোয়া মূলত নিম্নস্বরে পড়তে হয়। যদি ভুলবশত উচ্চস্বরে পড়া হয়ে যায়, তবে যদিও এক্ষেত্রে যদিও সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না, তবে তা সুন্নতের খেলাফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর বক্তব্য:

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তাঁর "জাওয়াহিরুল ফিকহ" গ্রন্থে বলেছেন:

"নিম্নস্বরে পড়া নামাজে (যেমন: আসর) উচ্চস্বরে কিরাত পড়লে নামাজ ফাসিদ হয় না, তবে মাকরুহে তাহরিমি হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করলে গুনাহ হবে এবং নামাজ পুনরায় পড়া উত্তম।"


মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম)-এর বক্তব্য:

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) তাঁর "ফিকহুল বুখারী" এবং বিভিন্ন ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন:

"নিম্নস্বরে পড়া নামাজে উচ্চস্বরে পড়া মাকরুহে তাহরিমি, কিন্তু নামাজ ফাসিদ হয় না। তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করে, তাহলে তার জন্য নামাজ পুনরায় পড়া উচিত, কারণ এটি সুন্নতের খিলাফ।"


আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.