মসজিদের কার্পেটে বিড়াল প্রসাব করলে পাক করার উপায়।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
এই কার্পেট এখন পাক করার উপায় কি?
Answer
মসজিদের কার্পেটে বিড়ালের প্রসাব ও তা পাক করার উপায়
উত্তর
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে বলব, বিড়ালের প্রসাব নাপাক (অপবিত্র)। এটি পবিত্র করার জন্য ইসলামী বিধান অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক।
কার্পেট পাক করার পদ্ধতি
যেহেতু কার্পেটটি মোটা ও বড়, তাই এর পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
১. পানি দিয়ে ধোয়ার পদ্ধতি:
- প্রথমে আক্রান্ত স্থানটি ভালোভাবে চিহ্নিত করুন।
- তারপর সেই স্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঢালুন।
★ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ বার ভালো করে ধুয়ে নিন।
প্রতিবার পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার পর এতটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যাতে করে পানির কোন ফোটা না পড়ে
- **৩য় বার পানি ঢালার ক্ষেত্রে ** গন্ধ দূর করার জন্য সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন, তারপর আবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
২. রোদে শুকানো:
- ধোয়ার পর কার্পেটটি রোদে শুকিয়ে নিন। রোদ ও বাতাস গন্ধ দূর করতে সহায়ক।
৩. গন্ধ দূর করার বিকল্প উপায়:
- যদি সাধারণ পানি দিয়ে ধোয়ার পরও গন্ধ থেকে যায়, তবে ভিনেগার বা বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, শরয়ী পবিত্রতার জন্য মূল শর্ত হলো নাপাকি দূর হওয়া (রং, গন্ধ, স্বাদ)।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. মসজিদের কার্পেট যেহেতু ইবাদতের স্থান, তাই এটি পাক করা অত্যন্ত জরুরি। নাপাক অবস্থায় মসজিদে নামায পড়া জায়েয নয়।
২. বিড়ালের প্রসাব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে—বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী বলা হয়েছে, তবে এর প্রসাব ও পায়খানা নাপাক। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫; তিরমিজি, হাদিস: ৯২)
৩. মোটা কার্পেটের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম: যদি কার্পেট এত মোটা হয় যে পানি তার ভেতরে প্রবেশ করে না, তবে উপরের পৃষ্ঠ ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। কিন্তু যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে, তবে পুরো কার্পেট ধুতে হবে।
দলিল
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মাটি বা মেঝেতে নাপাকি পড়লে সেখানে পানি ঢেলে দিলে এবং পানি নিষ্কাশন করলে স্থানটি পাক হয়ে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৮৫)
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন, "যদি নাপাকি এমন জিনিসে লাগে যা পানি শোষণ করে না, তবে তা ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। আর যদি পানি শোষণ করে, তবে তিনবার ধুতে হবে অথবা এমন পরিমাণ পানি ঢালতে হবে যাতে নাপাকি সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৩১৩)