সপ্নদোষের পর বিছানায় নাপাকি লেগেছে কি না সন্দেহ হলে কী করণীয়?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 3834
Questioner: SHADEK HOSSAIN
Question Asked: 12 Aug 2026, 02:46 AM
Reviewed & Published: 12 Aug 2026, 04:36 AM
Views: 25
Tokens: 2,819
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার সপ্নদোষ হইছে তো আমি পবিত্র হওয়ার সময় খেয়াল করলাম যেইদিকে ফিরে আমি ঘুমিয়েছি ওই দিকে নাপাকি লেগে আছে,কিন্তু বিছানায় কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই,কিন্তু মনে হয় নাপকির সাথে বিছানার সংস্পর্শ হয়েছে,এখন কি করনীয়

Answer

পবিত্রতা ও সন্দেহ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর

উত্তর

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: যেহেতু বিছানায় কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন (ভেজা ভাব, রং, গন্ধ) নেই, তাই বিছানা পাকই থাকবে। শুধু সন্দেহের কারণে বিছানা নাপাক হবে না। আপনাকে বিছানা ধোয়া বা পরিবর্তন করতে হবে না।

বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা

১. ইসলামের মূলনীতি: সন্দেহ দূর করা

ইসলামী ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো:

"اليقين لا يزول بالشك" "নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।"

(আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ইবনে নুজাইম; উসুলুশ শাশী)

আপনার ক্ষেত্রে, আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন না যে বিছানায় নাপাকি লেগেছে। এটি শুধুমাত্র একটি সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসা (মনস্তাত্ত্বিক কুমন্ত্রণা)। যেহেতু কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই, তাই মূলনীতি অনুযায়ী বিছানা পাকই থাকবে।

২. হাদীসের দলিল

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا، فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا" "তোমাদের কেউ যদি তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং সন্দেহ হয় যে বায়ু নির্গত হয়েছে কি না, তবে সে যেন মসজিদ থেকে বের না হয়, যতক্ষণ না শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।"

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৬২)

এই হাদীসটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।

৩. ফিকহী নিয়ম

**ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)**在其著名的著作《রাদ্দুল মুহতার》中写道:

"الْأَصْلُ فِي الْأَعْيَانِ الطَّهَارَةُ حَتَّى يَثْبُتَ النَّجَاسَةُ بِدَلِيلٍ" "সব বস্তুর মূল অবস্থা পবিত্রতা, যতক্ষণ না প্রমাণ দ্বারা নাপাকি প্রতিষ্ঠিত হয়।"

(রাদ্দুল মুহতার, ১/২০৫)

৪. ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) থেকে সতর্কতা

আপনার প্রশ্নটি "ওয়াসওয়াসা-OCD" ক্যাটাগরিতে পড়েছে। ইসলামী পণ্ডিতগণ ওয়াসওয়াসাকে শয়তানের কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লিখেছেন:

"ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে সে মুমিনকে ইবাদত থেকে দূরে রাখতে চায়। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত এগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং নিশ্চিত দলিল ছাড়া কোনো কিছুকে নাপাক বা হারাম সাব্যস্ত না করা।"

(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪৫)

৫. আপনার করণীয়

১. বিছানা ধোয়ার প্রয়োজন নেই - যেহেতু কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। ২. বিছানা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই - এটি পাকই আছে। ৩. এই সন্দেহকে গুরুত্ব দেবেন না - এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। ৪. গোসলের পর আপনি পবিত্র হয়েছেন, আপনার নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি সব বৈধ। ৫. ভবিষ্যতে এই ধরনের সন্দেহ হলে সাথে সাথে তা দূর করে দিন এবং ওয়াসওয়াসাকে প্রশ্রয় দেবেন না।

৬. একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) লিখেছেন:

"যদি কোনো বস্তুতে নাপাকি লেগেছে কি না তা নিশ্চিত না হয়, তবে তা পাকই গণ্য হবে। নাপাকি প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে কাউকে নাপাক বলা বা কোনো বস্তুকে নাপাক গণ্য করা জায়েয নয়।"

(ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪)

উপসংহার

আপনার বিছানা পাক। আপনি গোসল করেছেন, তাই আপনি পবিত্র। কোনো সন্দেহের কারণে আপনার ইবাদত বাদ দেওয়া বা বিছানা ধোয়ার প্রয়োজন নেই। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এই ধরনের সন্দেহকে গুরুত্ব না দেওয়াই ইসলামের নির্দেশ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.