হাদীসে বর্ণিত বিশেষ দুআ সম্পর্কে প্রশ্ন

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3788
Questioner: Dilsha Tani
Question Asked: 10 Aug 2026, 10:17 PM
Reviewed & Published: 11 Aug 2026, 07:02 AM
Views: 8
Tokens: 8,248
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, এই দুয়াটা কি সহীহ? সহীহ হলে হারাকাহ সহ একটু লিখে দিবেন ইনশা আল্লাহ।


//“হাদিসে এমন একটা দুআ আছে যে দুআটা আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখেরী নবী মুহাম্মাদে মুসতফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যন্ত শিখিয়েছেন। দুআটা এমন অব্যর্থ যে বড় বড় সাহাবীরা নিজেরাও বার বার পড়তেন অন্যদেরও বার বার বর্ণনা করতেন ও পড়ার জন্য বলতেন। সেই দুআ সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেছেন:

আমাকে সামুরা ইবনে জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি কি আপনাকে এমন এক হাদিস শোনাবো যেটা আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও অনেকবার শুনেছি আবার আবু বকর ও উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও অনেকবার শুনেছি? শুনাবো সেটা?

আমি বললাম: হ্যাঁ বলুন!

সামুরা বললেন:

যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা এই দুআটা পড়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাবে আল্লাহ তায়ালা তার দুআ কবুল করবেন অবশ্যই অবশ্যই।

اللَّهمَّ أنتَ خلقتَني وأنتَ تَهْديني وأنتَ تُطعمُني وأنتَ تَسقيني وأنتَ تُميتُني وأنتَ تُحييني“//

(২) দুয়া ইউনুস দুয়া হিসেবে পড়ার সময়ে মাদ মুনফাসিলের ৪ হারাকাহ না পড়ে কম মাদ পড়লে কি হবেনা?

যেমন এভাবে...লা-আ-আ-আ ইলাহা না বলে, লা-আ ইলাহা বললে। তারপর ইল্লা-আআআআ আন্তা না বলে ইল্লা-আ আন্তা বললে!!

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ। আপনি দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন:

১. উল্লেখিত দু'আটি সহীহ কি না এবং সহীহ হলে তার হারাকাত (বর্ণনা) সহ লেখা। ২. দু'আ ইউনুস পড়ার সময় মাদ্দে মুনফাসিলের ৪ হারাকাত না পড়ে কম পড়লে কী হবে।

নিচে ক্রমান্বয়ে উত্তর দেওয়া হলো:

(১) উল্লেখিত দোয়াটি কি সহীহ?

আপনার উদ্ধৃত দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنْتَ تَهْدِينِي، وَأَنْتَ تُطْعِمُنِي وَأَنْتَ تَسْقِينِي، وَأَنْتَ تُمِيتُنِي وَأَنْتَ تُحْيِينِي

হারাকাতসহ:

اللّٰهُمَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنْتَ تَهْدِينِي، وَأَنْتَ تُطْعِمُنِي وَأَنْتَ تَسْقِينِي، وَأَنْتَ تُمِيتُنِي وَأَنْتَ تُحْيِينِي

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা আনতা খালাকতানী, ওয়া আনতা তাহদীনী, ওয়া আনতা তুত‘ইমুনী, ওয়া আনতা তাসক্বীনী, ওয়া আনতা তুমীতুনী, ওয়া আনতা তুহয়্যীনী।

এই বাক্যগুলো মূলত Sahih al-Bukhari-তে বর্ণিত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়ার অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা কুরআনের Qur'an-এও এসেছে:

وَالَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ ۝ وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ ... وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ

তবে আপনি যে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন—"মূসা (আ.) থেকে শুরু করে সকল নবীকে শেখানো হয়েছে", "সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে অবশ্যই সব দোয়া কবুল হবে", "সামুরা (রা.) থেকে হাসান বসরী (রহ.)-এর বর্ণনা"—এসব দাবির জন্য নির্ভরযোগ্য হাদিসের সুনির্দিষ্ট সূত্র প্রয়োজন। আমার জানা নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থগুলোতে এই পূর্ণ বক্তব্যটি প্রসিদ্ধ বা সহীহ হিসেবে পরিচিত নয়। তাই এই বিশেষ ফজিলত ও বর্ণনাটি যাচাই না করে রাসূল ﷺ-এর দিকে নিশ্চিতভাবে সম্বন্ধ করা ঠিক হবে না।

তবে দোয়ার অর্থ ও বাক্যগুলো সহীহ, কারণ এগুলো আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর নেয়ামতের স্বীকৃতি। তাই সাধারণ দোয়া হিসেবে পড়তে কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ।

*প্রথম দোয়ার বর্ণিত বিশেষ ফজিলত ও হাদিস হওয়া সম্পর্কে রেফারেন্স ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না। *দোয়ার বাক্যগুলো বৈধ ও অর্থগতভাবে সহীহ; পড়া জায়েজ।

(২) দোয়া ইউনুস পড়ার সময় মাদ্দে মুনফাসিল ৪ হারাকাতের কম পড়লে কি হবে?

দোয়া ইউনুস:

لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

যদি আপনি কুরআন তিলাওয়াতের নিয়মে তাজবিদসহ পড়েন, তাহলে হাফস রেওয়ায়াত অনুযায়ী মাদ্দে মুনফাসিল সাধারণত ৪ বা ৫ হারাকাত টানা হয়।

কিন্তু:

  • দোয়া হিসেবে পড়ার ক্ষেত্রে ৪ হারাকাত পূর্ণ না করলেও দোয়া হয়ে যাবে।
  • "لَا إِلٰهَ" কে "লা-আ" বা স্বাভাবিক মাদ্দে পড়লে অর্থ নষ্ট হয় না।
  • তবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার দৃষ্টিকোণ থেকে তাজবিদের নিয়ম অনুযায়ী পড়া উত্তম।

অতএব, দোয়া ইউনুস দোয়া হিসেবে পড়ার সময় ৪ হারাকাতের কম মাদ্দ করলে দোয়া নষ্ট হবে না এবং দোয়াও কবুল হওয়ার আশা করা যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে কুরআন তিলাওয়াতের সময় শেখা রেওয়ায়াত অনুযায়ী মাদ্দ আদায় করা উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.