শরীরের নাপাক অংশ ধোয়ার সময় যে পানি গড়িয়ে শরীরের নিচের দিকে পড়ে

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3783
Questioner: blue
Question Asked: 10 Aug 2026, 06:53 PM
Reviewed & Published: 10 Aug 2026, 07:31 PM
Views: 9
Tokens: 2,995
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
শরীরের কোন অংশ যদি অপবিত্র হয়ে যায়, তখন পানি দিয়ে শরীরের ওই অংশ ধোয়ার সময় যে পানি গড়িয়ে শরীরের নিচের দিকে পড়ে, শরীরের সেই অংশ ও কি নাপাক হয়ে যায়? আমি ধোয়ার সময় হাতে একটু পানি নিয়ে ডলে ডলে ধুয়েছিলাম।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর: আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—শরীরের কোনো অংশ নাপাক হলে তা পানি দিয়ে ধোয়ার সময় যে পানি নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তা দিয়ে শরীরের নিচের অংশ কি নাপাক হয়ে যায়?

হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী:

যখন আপনি নাপাক স্থানটি ধুবেন, তখন সেই ধোয়া পানি (যা নাপাক স্থান থেকে নির্গত হয়) যদি শরীরের অন্য কোনো অংশে (যেমন: পা, উরু ইত্যাদি) গড়িয়ে পড়ে, তবে সেই অংশটুকুও নাপাক হয়ে যাবে। কারণ, নাপাক বস্তু ধোয়ার পর যে পানি প্রবাহিত হয়, তা নাপাক হিসেবে গণ্য হয়।

কিন্তু যদি পানি এত বেশি পরিমাণে থাকে (যেমন: কলের পানি বা বালতি দিয়ে ঢালা পানি) যে, নাপাকি ধুয়ে যাওয়ার পরও পানি প্রবাহিত হতে থাকে এবং সেই পানি নির্গত হওয়ার সময় নাপাকির কোনো চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) না থাকে, তাহলে সেই পানি পাক হিসেবে গণ্য হবে এবং তা শরীরের নিচের অংশে পড়লে নাপাক করবে না।

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী: আপনি "হাতে একটু পানি নিয়ে ডলে ডলে" ধুয়েছেন। এই অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে ধোয়ার পর যে পানি গড়িয়ে পড়বে, তা নাপাক হবে এবং শরীরের নিচের অংশে পড়লে সেই অংশ নাপাক হয়ে যাবে। তাই এই অবস্থায় শরীরের নিচের অংশও ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।

তবে যদি আপনি এমনভাবে ধুয়ে থাকেন যে, নাপাক স্থানটি সম্পূর্ণ পাক হয়ে গেছে (অর্থাৎ নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই) এবং এরপর অতিরিক্ত পানি (যেমন: কলের পানি) দিয়ে ধুয়ে ফেলেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত পানি পাক এবং তা শরীরের নিচের অংশ নাপাক করবে না।

কিতাবের দলিল:

১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):

"إذا غسل النجاسة عن الثوب أو البدن، فالماء الذي انفصل عنه بعد غسلها نجس ما دام متغيرا، فإن لم يتغير فهو طاهر عند الإمام أبي حنيفة في الأصح" অর্থ: "যখন কাপড় বা শরীর থেকে নাপাকি ধোয়া হয়, তখন যে পানি পৃথক হয়, তা নাপাক—যতক্ষণ না তার পরিবর্তন (রং, গন্ধ, স্বাদ) থাকে। যদি পরিবর্তন না থাকে, তবে তা পাক—ইমাম আবু হানিফার নিকট বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী।"

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি):

"الماء المنفصل عن غسل النجاسة إن كان متغيرا بالنجاسة فهو نجس، وإن لم يكن متغيرا فهو طاهر عند أبي حنيفة رحمه الله" অর্থ: "নাপাকি ধোয়ার পর যে পানি পৃথক হয়, তা যদি নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়, তবে তা নাপাক। আর যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পাক—ইমাম আবু হানিফার মতে।"

৩. ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি):

"নাপাক জিনিস ধোয়ার পর যে পানি ঝরে পড়ে, তা যদি নাপাকির কারণে রং, গন্ধ বা স্বাদে পরিবর্তিত হয়, তাহলে তা নাপাক এবং অন্য কিছুতে পড়লে তা নাপাক করবে। কিন্তু যদি পানি এত বেশি হয় যে, নাপাকি ধুয়ে যাওয়ার পরও পানি প্রবাহিত হয় এবং তাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে সেই পানি পাক।"

আপনার জন্য সমাধান:

যেহেতু আপনি অল্প পানি দিয়ে ডলে ডলে ধুয়েছেন, তাই সেই পানি নাপাক হওয়ার কারণে শরীরের নিচের অংশ নাপাক হয়ে গেছে। এখন আপনাকে সেই নিচের অংশ (যেখানে পানি পৌঁছেছে) ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে নামাজের সময় যদি মনে না থাকে কোথায় পানি পৌঁছেছে, তাহলে পুরো শরীর ধুয়ে ফেলাই উত্তম (গোসল করে নেওয়া)।

সতর্কতা: ভবিষ্যতে এমনভাবে ধোবেন যে, নাপাক স্থান ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি (যেমন: কলের পানি বা মগ দিয়ে) ঢেলে দেবেন, যাতে নাপাক পানি শরীরের অন্য অংশে না পড়ে। অথবা এমনভাবে ধোবেন যেন নাপাক পানি শরীরের নিচের অংশে না পড়ে (যেমন: বালতিতে বসে বা ঝুঁকে ধোয়া)।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.