প্রস্রাব করার পরে টিস্যু ব্যবহার
Taharah Purity · Hanafi
Question
১। প্রস্রাব করার সময় যদি প্রস্রাব অণ্ডকোষে বা সেখানের চুলে লেগে থাকে, তাহলে কি শুধু টিস্যু ব্যবহার করলে হবে নাকি পানি ও টিস্যু উভয়ই ব্যবহার করতে হবে?
২। অপবিত্র কাপড় অথবা শরীরে কি এমন ইসলামিক বই বা নামাজ শিক্ষার বই পড়া যাবে যে বইয়ে বিভিন্ন দোয়ার পাশাপাশি সূরা আছে?
৩। নাপাকি ছড়াতে হলে কি পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়তে হবে? নাকি সামান্য হালকা ভাবে ভেজা কাপড়েও নাপাকি ছড়াতে
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
প্রশ্নটি তিনটি অংশে বিভক্ত। নিচে প্রতিটি অংশের বিস্তারিত উত্তর এবং হানাফি মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবের রেফারেন্স প্রদান করা হলো:
১. প্রস্রাবের পর অণ্ডকোষে বা চুলে প্রস্রাব লেগে থাকলে টিস্যু ব্যবহারের বিধান
উত্তর: প্রস্রাবের পর অণ্ডকোষ বা আশেপাশের চুলে প্রস্রাব লেগে থাকা অবস্থায় শুধু টিস্যু দিয়ে মুছে ফেললে পবিত্রতা অর্জিত হবে কি না—এটি নির্ভর করে নাপাকির পরিমাণ এবং স্থানের প্রকৃতির উপর।
-
যদি প্রস্রাবের পরিমাণ অল্প হয় (যেমন: ফোঁটার কম বা সামান্য) এবং তা শুধু চুলে লেগে থাকে, তাহলে শুকনো টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেই পবিত্রতা অর্জিত হবে। তবে উত্তম হলো পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা।
-
যদি প্রস্রাব অণ্ডকোষের চামড়ায় (শরীরে) লেগে থাকে, তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী শুধু টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলা যথেষ্ট নয়; বরং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। কারণ, শরীরের কোনো স্থানে নাপাকি লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে ধৌত করাই মূল নিয়ম।
দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) - ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৩: উল্লেখ আছে, শরীর বা কাপড়ে নাপাকি লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে ধৌত করা ফরজ। শুধু মুছে ফেলা যথেষ্ট নয়, যদি না তা মযূর (অপারগ) অবস্থায় হয়।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) - ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭: বলা হয়েছে, শরীরের কোনো স্থানে নাপাকি লেগে থাকলে তা তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে।
সারকথা:
- চুলে লেগে থাকলে: টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলা যথেষ্ট (যদি অল্প হয়)।
- অণ্ডকোষের চামড়ায় লেগে থাকলে: পানি দিয়ে ধৌত করা আবশ্যক। টিস্যু দিয়ে মুছে ফেললে পবিত্রতা অর্জিত হবে না।
২. অপবিত্র কাপড় বা শরীরে এমন বই পড়া যাবে কি না যাতে দোয়া ও সূরা আছে
উত্তর: অপবিত্র অবস্থায় (নাপাকি লেগে থাকা কাপড় বা শরীর) এমন বই সরাসরি স্পর্শ করে পড়া যাবে না যাতে কুরআনের সূরা বা আয়াত রয়েছে। তবে যদি বইটিতে শুধু দোয়া থাকে (কুরআনের আয়াত ছাড়া), তাহলে তা পড়া জায়েয, তবে উত্তম হলো পবিত্র অবস্থায় পড়া। তবে যদি বইটিতে কোরআনের আয়াতের পাশাপাশি তাফসীর বা অন্য কিছু থাকে। তাহলে কোরআনের আয়াতের উপর স্পর্শ করা ছাড়া বাকি অংশ স্পর্শ করতে পারবেন।
বিস্তারিত:
- দোয়া বা যিকির সম্বলিত বই: যদি বইটিতে কুরআনের আয়াত না থাকে, শুধু দোয়া বা হাদিস থাকে, তাহলে অপবিত্র অবস্থায় পড়া জায়েয। তবে উত্তম হলো পবিত্র অবস্থায় পড়া।
দলিল:
- কুরআন মাজিদ: "لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ" (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯) - "পবিত্র ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ একে স্পর্শ করবে না।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া - ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩: বলা হয়েছে, কুরআন মাজিদ স্পর্শ করার জন্য ওযু শর্ত। নাপাক অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা হারাম।
৩. নাপাকি ছড়ানোর নিয়ম: পানি ফোঁটায় ফোঁটায় নাকি ভেজা কাপড়ে?
উত্তর: নাপাকি ছড়ানোর জন্য পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং নাপাকি স্থানে পানি ঢেলে ধৌত করা বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা—উভয়টিই জায়েয, তবে শর্ত হলো নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর হয়ে যাওয়া।
বিস্তারিত:
- পানি দিয়ে ধৌত করা: নাপাকি স্থানে পানি ঢেলে ধৌত করলে এবং নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ) দূর হয়ে গেলে পবিত্রতা অর্জিত হবে। পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
- ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা: যদি নাপাকি শুকিয়ে যায় এবং তা জমাট বাঁধা হয় (যেমন: শুকনো মল বা প্রস্রাবের দাগ), তাহলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেও পবিত্রতা অর্জিত হবে, যদি চিহ্ন দূর হয়ে যায়। তবে যদি নাপাকি তরল হয় (ভেজা অবস্থায়), তাহলে শুধু ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা যথেষ্ট নয়; পানি দিয়ে ধৌত করাই উত্তম।
সারকথা:
- তরল নাপাকি: পানি দিয়ে ধৌত করা আবশ্যক।
- শুকনো নাপাকি: ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেই যথেষ্ট, যদি চিহ্ন দূর হয়।
- পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ার প্রয়োজন নেই; বরং নাপাকি স্থানে পানি ঢেলে ধৌত করলেই হবে।