কারোর মিথ্যা বলার উপর চুপ থাকা কি উচিত?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তরের মূল কথা:
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া** ইসলামী দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য। যেমন আপনার মার জন্য এভাবে বলা উচিত ছিলো যে, প্রায় ৪.০০ পেয়েছে।
ভবিষ্যতে করণীয়: ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে:
- আগে থেকেই মাকে বলে রাখুন যে, কোনো প্রশ্নের উত্তর সত্য দেবেন।
- যদি কেউ পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে বলুন: "আলহামদুলিল্লাহ, ভালো হয়েছে" — এতে সত্য বলা হয় না, মিথ্যাও বলা হয় না।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. মিথ্যা বলা নিষিদ্ধ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।"
(সহীহ বুখারী: ৬০৯৪)
সুতরাং, আপনার মা যে মিথ্যা বলেছেন, তা গুনাহের কাজ।
২. মাকে ছোট করা থেকে বিরত থাকা:
আপনার মাকে ছোট করা বা অপমানিত করা হারাম। ইসলামে পিতা-মাতার সম্মান রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আপনার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না, বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।"
(সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)
৩. এখন করণীয়:
- আপনার মাকে বোঝানো উচিত যে মিথ্যা বলা গুনাহের কাজ। আপনি তাকে নরমভাবে বলতে পারেন যে, "মা, আমরা যদি সত্য বলি, তাহলে আল্লাহ খুশি হন।"
- আল্লাহর কাছে তওবা করুন — যদিও আপনি সরাসরি মিথ্যা বলেননি, তবে চুপ থেকে মিথ্যাকে সমর্থন করার কারণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
৪. ভবিষ্যতে করণীয়:
ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে:
- আগে থেকেই মাকে বলে রাখুন যে, কোনো প্রশ্নের উত্তর সত্য দেবেন।
- যদি কেউ পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে বলুন: "আলহামদুলিল্লাহ, ভালো হয়েছে" — এতে সত্য বলা হয় না, মিথ্যাও বলা হয় না।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।