ছাত্রীর বিষয়ে গীবত করা সম্পর্কে
Halal and Haram · Hanafi
Question
একজন কারো সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলে।
তার উত্তর দিতে গিয়ে কিছুটা মন্দ ই বলা যায় এমন ভাব প্রকাশ করে ফেলছি।
আমি একজন শিক্ষক।
আমার এক ছাত্রীই রেগুলার, পড়ায় অমনোযোগী।
অন্য এক ছাত্রী ওর অনুপস্থিততে ওর এই আচরণের দিতে ইঙ্গিত করে আমাকে প্রশ্ন করে,
"ও একটু অন্যরকম"?
উত্তরে আমি বলে ফেলি, হ্যাঁ। ও হয়তো অসুস্থ থাকে বাট আমি আসলে জানি না। একটু অন্যরকম আমি শুনেছি।
ওর জন্য আমি কঠিন হব বাট হতে পারছি না। এরকম মন্তব্য ও করে ফেলি।
আসলে অন্যদের তুলনায় আমি ওকে বেশ ছাড় দেই।ওরে কেন ছাড় দেই।
বা ওরে যে আস্তে আস্তে আয়ত্তে আনব সেটা বুঝাতে চেয়েছিলাম।প্রশ্নকারী, জানি না ভাবে ওরে আমি ছেড়ে দিচ্ছি। এটা বুঝাতে চেয়েছি।
এই ধরনের কথা কী গীবত হবে?
Answer
গীবত সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—হ্যাঁ, আপনার উক্ত মন্তব্যগুলো এভাবে বলা ঠিক হয়নি। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
গীবতের সংজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ ﷺ গীবতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন:
"আপনি কি জানেন, গীবত কী?" সাহাবাগণ বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে।" বলা হলো, "যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে তা বিদ্যমান থাকে?" তিনি বললেন, "যদি তা তার মধ্যে থাকে, তবুও তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা না থাকে, তবে তুমি তার উপর অপবাদ দিলে (বুহতান)।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮৯)
আপনার কাজের বিশ্লেষণ
আপনি যা করেছেন:
১. অন্য ছাত্রীর প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলেছেন—"হ্যাঁ, ও একটু অন্যরকম" ২. "ও হয়তো অসুস্থ থাকে, আমি আসলে জানি না, একটু অন্যরম আমি শুনেছি" ৩. "ওর জন্য আমি কঠিন হব কিন্তু পারছি না"
এই মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে আপনি:
- ঐ ছাত্রী সম্পর্কে এমন কিছু বলেছেন যা সে শুনলে অপছন্দ করত
- তার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন
- তার ব্যাপারে আপনার অভিযোগ (অমনোযোগী, অন্যরকম) অপর ছাত্রীর কাছে প্রকাশ করেছেন
গীবতের হুকুম
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণাই করো।" (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "গীবত হলো এমন কিছু উল্লেখ করা যা ঐ ব্যক্তি অপছন্দ করে—তা শরীরের ত্রুটি, চরিত্রের ত্রুটি, আচরণের ত্রুটি, পোশাকের ত্রুটি, কথা বলার ত্রুটি—যা কিছুই হোক না কেন।" (রিয়াদুস সালেহীন)
ব্যতিক্রম ক্ষেত্র
তবে কিছু বৈধ কারণে গীবত করা জায়েয আছে, যেমন:
- অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা
- সাহায্য চাওয়ার উদ্দেশ্যে
- কারো সম্পর্কে সতর্ক করা (নাসীহা)
- ফতোয়া জানার জন্য
আপনার ক্ষেত্রে, যদি আপনি সত্যিই ছাত্রীর উন্নতির জন্য বা তার সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য কারো (যেমন: অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক) কাছে বলতেন, তবে তা নাসীহা বা সতর্কতার আওতায় পড়ত। কিন্তু এখানে আপনি অন্য একজন ছাত্রীর কাছে তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যা বলা ঠিক হয়নি।
তওবার পথ
১. তওবা করুন—আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করুন ২. ঐ ছাত্রীর জন্য দোয়া করুন ৩. সম্ভব হলে তার কাছে ক্ষমা চান—যদি আপনার কথায় তার ক্ষতি হয়ে থাকে ৪. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন—কারো সম্পর্কে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন
দলিল: সহীহ মুসলিম ২৫৮৯; সূরা আল-হুজুরাত: ১২; রিয়াদুস সালেহীন, গীবত অধ্যায়; আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড ৩১, পৃ. ২৫০-২৫৫
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গীবত থেকে হেফাজত করুন। আমীন।