বিছানায় প্রস্রাব লাগলে কীভাবে পবিত্র করবেন? তোশক নাপাক হলে উপরের পবিত্র চাদরে নামায ও ঘুমের বিধান কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3615
Questioner: JJ
Question Asked: 07 Aug 2026, 05:43 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 05:47 PM
Views: 9
Tokens: 3,477
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বিছানায় একদিন ভুল বসত ঘুমের মধ্যে মুত্রত্যাগ হয়ে যায়, আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
সেই বিছানার তোশকে অনেক টা প্রবেশ করায় তোশক টি শুধুমাত্র রোদে শুকানো হয়। এবং সেই তোশকের উপর একটি পবিত্র চাদর দিয়ে, তার উপর পবিত্র আরেকটি কাথা দিয়ে, তার উপর আবার আরেকটি পবিত্র চাদর দেওয়া হয়।
এই অবস্থায় আমার বিছানা কি পবিত্র বিছানা বলে গণ্য হবে? এখানে কি কুরআন তিলাওয়াত, ইবাদত করা যাবে? এবং ঘুমালে কি পবিত্র বিছানায় ঘুমাচ্ছি বলে গণ্য হবে?

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: তোশকটি যদি শুধুমাত্র রোদে শুকানো হয়, তবে তোশকটি নাপাক থাকবে। তবে তোশকের উপরে পবিত্র চাদর, কাঁথা এবং আরেকটি পবিত্র চাদর থাকার কারণে আপনি যদি সেই স্তরগুলোর উপর নামায পড়েন বা ঘুমান, তবে আপনার নামায ও ঘুম পবিত্র বিছানায়ই গণ্য হবে, কারণ নামাযের স্থান হিসেবে সেই উপরের পবিত্র চাদরটিই বিবেচিত হবে।

তবে তোশকটি নিজে এখনও নাপাক থাকায় তা ব্যবহার করা বা তার উপর সরাসরি নামায পড়া জায়েয নয়। তোশকটি পবিত্র করতে হলে ধুয়ে ফেলতে হবে।


বিস্তারিত উত্তর

১. তোশকের পবিত্রতা সংক্রান্ত বিধান

প্রস্রাব নাজাসত বা অপবিত্র বস্তু। কোনো বস্তুতে প্রস্রাব লাগলে তা পবিত্র করতে হলে তিনবার ধোয়া প্রয়োজন, অথবা প্রবহমান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা প্রয়োজন। শুধুমাত্র রোদে শুকানো দ্বারা নাপাক বস্তু পবিত্র হয় না।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ) রদ্দুল মুহতার -এ উল্লেখ করেছেন:

"নাজাসাত দূর করার শর্ত হলো তা ধুয়ে ফেলা, যতক্ষণ না চিহ্ন (রং, গন্ধ) দূর হয়। শুকানো দ্বারা নাজাসাত দূর হয় না।"

(রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪)

সুতরাং, আপনার তোশকটি শুধুমাত্র রোদে শুকানোর কারণে পবিত্র হয়নি। যেহেতু প্রস্রাব তোশকের ভিতরে প্রবেশ করেছে, তাই তোশকটি এখনও নাপাক রয়েছে।

২. উপরের পবিত্র চাদরগুলোর উপর নামায ও ঘুমের বিধান

তোশকটি নাপাক হলেও, এর উপরে যদি পবিত্র চাদর, কাঁথা এবং আরেকটি পবিত্র চাদর থাকে, তাহলে:

  • নামাযের ক্ষেত্রে: নামায পড়ার স্থান হিসেবে সেই উপরের পবিত্র চাদরটিই গণ্য হবে। যেহেতু উপরের চাদরটি পবিত্র, তাই তার উপর নামায পড়া সহীহ হবে। তবে শর্ত হলো, নাপাকি যেন উপরের স্তরে না পৌঁছে।

  • ঘুমের ক্ষেত্রে: ঘুমানোর জায়গা হিসেবে উপরের পবিত্র চাদরটিই গণ্য হবে। তাই আপনি পবিত্র বিছানায়ই ঘুমাচ্ছেন বলে গণ্য হবে।

কিতাবের দলিল:

ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (আলমগীরী) -তে উল্লেখ আছে:

"যদি নাপাক জমিনের উপর পবিত্র চাদর বিছিয়ে তার উপর নামায পড়ে, তবে নামায সহীহ হবে, যদি চাদরে নাপাকি না লাগে।"

(ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ১/৬৫)

৩. কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের বিধান

যেহেতু আপনি তোশকের উপর পবিত্র চাদর, কাঁথা এবং আরেকটি পবিত্র চাদর বিছিয়ে রেখেছেন, তাই সেই পবিত্র স্তরগুলোর উপর বসে বা শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং ইবাদত করা জায়েয হবে। তবে তোশকটি নিজে নাপাক থাকায় তা ধুয়ে পবিত্র করা আপনার কর্তব্য।

৪. তোশক পবিত্র করার পদ্ধতি

তোশকটি পবিত্র করতে হলে:

  1. প্রথমে প্রস্রাবের স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
  2. পানি প্রবহমান হলে তিনবার ধুয়ে ফেলুন, অথবা এমনভাবে ধুয়ে ফেলুন যাতে প্রস্রাবের রং, গন্ধ এবং স্বাদ সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায়।
  3. এরপর চিপে বা শুকিয়ে নিন।

যদি তোশকের ভিতরে প্রস্রাব প্রবেশ করে থাকে এবং ধুয়ে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব না হয়, তবে সেই অংশটি কেটে ফেলা বা তোশকটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে।


উপসংহার

  • আপনার তোশকটি শুধুমাত্র রোদে শুকানোর কারণে পবিত্র হয়নি, এটি এখনও নাপাক।
  • তবে উপরের পবিত্র চাদর, কাঁথা এবং আরেকটি পবিত্র চাদরের কারণে আপনি পবিত্র স্থানেই নামায পড়তে এবং ঘুমাতে পারবেন।
  • তোশকটি ধুয়ে পবিত্র করা আপনার জন্য আবশ্যক।
  • তোশকটি পবিত্র না করা পর্যন্ত তা ব্যবহার করা বা তার উপর সরাসরি নামায পড়া জায়েয নয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.