Talak

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3609
Questioner: Forid Mistry
Question Asked: 07 Aug 2026, 04:12 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 05:16 PM
Views: 9
Tokens: 6,849
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু

প্রিয় হুজুর
আপনি বলেছেন পৃথক শর্ত হিসেবে লাইক না করা — যদি তা ইচ্ছাকৃত না হয়, তবে তালাক পতিত হবে না। এখানে ইচ্ছাকৃত বলতে গেলে এটাই যে আমি প্রথমে এটা ইগনোর করেছি বিকজ আমি জানতাম যে এটি একটি আলাদা সত্য তাই সেখানে লাইক করিনি কিন্তু পরে আমার মনে পড়ে যে আমি বিবাহতে দিনে হয়তো এমন শর্ত রেখেছি যাত্রী লেখা দেখলে লাইক করতে হবে কিন্তু আমি লাইক করিনি কিন্তু পরে যখন জানতে পারি তখন থেকে লাইক করছি। এবার তখন আমার মনে ছিল না কিন্তু আমি এটা ইগনোর পরিচয় এই কারণে আমার মনে ছিল যে এরকম রেখেছি সত্য কিন্তু ইগনোর করেছি এই কারণে যেটি একটা পৃথক সত্য আলাদা সত্য সম্পূর্ণ আলাদা তাই আমি লাইক করিনি এখন এতে কি তালাক হবে। আর আমার আর একটা বিষয় জানার আছে যে গত দিনে আমি সত্য রেখেছি কি সেটা সন্দেহ আছে মুখে উচ্চারণ হয়েছে কি এবং সত্য রেখেছি কি সন্দেহ আছে। তো এতদিন তবু আমি সেটাকে সত্য মনে করে করে এসেছি কিন্তু এখন আমি এটা থেকে বের হতে চাই। যখন এটা এখন প্রমাণিত হচ্ছে না, আমি নিশ্চিত হতে পারছি না যে আমি মুখে উচ্চারণ করে শক্ত রেখেছি তাহলে এটাকে কি আমি এড়িয়ে যাব। আর সত্য রেখেছি কি রাখেনি? সারা সন্দেহ হওয়াতে পরে নিজে সত্যটাকে মানে কিছুটা ঘুরিয়ে সত্যটা কে বলেছি কিছু জিনিস চেঞ্জ করেছি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কে উদ্দেশ্য করে কিন্তু নতুন করে সত্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয় বরং সত্য দিয়েছি কি দেইনি এই সন্দেহ আছে তাই কিছু জিনিস পয়েন্ট ঘুরে বলেছি। তাই ঘুরিয়ে কিছু বলার জন্য কি নতুন করে সত্য পতিত হবে। আমি কিন্তু নতুন করে সত্য দেয়ার উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে বলিনি বরং শত রেখেছি কি রাখেনি নিশ্চিত না হতে পেরে বলেছি। তো এই বলার জন্য কি সত্য পতিত হতে পারে

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই,

আপনার প্রশ্নটি দীর্ঘ এবং কিছুটা জটিল। আমি এটি ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।

প্রথম অংশ: লাইক না করার কারণে তালাক পতিত হবে কি?

আপনি বলেছেন যে বিবাহের সময় শর্ত ছিল যে, নির্দিষ্ট লেখা দেখলে লাইক করতে হবে। কিন্তু আপনি প্রথমে ইগনোর করেছেন এবং লাইক করেননি, পরে জানতে পেরে লাইক করা শুরু করেছেন।

হানাফি ফিকহের নিয়ম: তালাকের শর্ত সংক্রান্ত বিষয়ে মূলনীতি হলো—যদি শর্তটি ইচ্ছাকৃতভাবে (স্বেচ্ছায়) লঙ্ঘন করা হয়, তবে তালাক পতিত হবে। কিন্তু যদি তা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে হয়ে থাকে, তবে তালাক পতিত হবে না।

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি প্রথমে লাইক করেননি কারণ আপনি মনে করেছিলেন এটি একটি আলাদা বিষয় (পৃথক সত্য), এবং আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ত লঙ্ঘন করার উদ্দেশ্যে লাইক করেননি। বরং আপনি ভুলবশত বা ভুল ধারণার কারণে লাইক করেননি। যখন আপনি জানতে পারেন যে এটি শর্তের অন্তর্ভুক্ত, তখন থেকে আপনি লাইক করা শুরু করেছেন।

ফিকহী নীতি: শর্ত লঙ্ঘনের সময় যদি লঙ্ঘনকারীর ইচ্ছা বা সংকল্প না থাকে (অর্থাৎ সে জানত না বা ভুলে গিয়েছিল), তবে তালাক পতিত হবে না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, শর্ত লঙ্ঘন ইচ্ছাকৃত হতে হবে।

রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

"শর্ত লঙ্ঘন করলে তালাক পতিত হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা শর্ত। যদি ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তবে তালাক পতিত হবে না।"

(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৫)

আপনার ক্ষেত্রে, যেহেতু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ত লঙ্ঘন করেননি, বরং ভুল ধারণার কারণে লাইক করেননি, তাই তালাক পতিত হবে না ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয় অংশ: সত্য (শপথ) রেখেছি কি না—সন্দেহ থাকলে কী করণীয়?

আপনি বলেছেন যে, আপনি সত্য (শপথ) রেখেছেন কি না—সন্দেহ আছে। মুখে উচ্চারণ হয়েছে কি না—সন্দেহ আছে। এখন আপনি এই সন্দেহ থেকে বের হতে চান।

ফিকহী নীতি: শপথ বা তালাকের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে মূলনীতি হলো—ইয়াকীন (নিশ্চিততা) সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না (اليقين لا يزول بالشك)। অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত না হন যে আপনি শপথ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত শপথ পতিত বলে গণ্য হবে না।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"যদি কেউ সন্দেহ করে যে সে তালাক দিয়েছে কি না, তবে তালাক পতিত হবে না, কারণ মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা।"

(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৮)

আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে আপনি মুখে উচ্চারণ করে শপথ করেছেন, তবে সেই শপথ পতিত হবে না। আপনি এটিকে এড়িয়ে যেতে পারেন এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।

তৃতীয় অংশ: ঘুরিয়ে কিছু বলার কারণে নতুন শপথ পতিত হবে কি?

আপনি বলেছেন যে, সত্য রেখেছেন কি না—এই সন্দেহ থেকে মুক্তির জন্য আপনি কিছু কথা ঘুরিয়ে বলেছেন, কিন্তু নতুন করে শপথ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।

ফিকহী নীতি: শপথ বা তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (ইচ্ছা) গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি নতুন করে শপথ দেওয়ার নিয়ত না করে থাকেন, তবে নতুন শপথ পতিত হবে না। কিন্তু যদি আপনার কথাগুলো এমন হয় যা শপথ হিসেবে গণ্য হয় (যেমন: "আল্লাহর কসম" বলা), তবে সেটি শপথ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

তবে আপনি বলেছেন যে, আপনি নতুন করে শপথ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলেননি, বরং আগের শপথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে, যদি আপনার নিয়ত শপথের না হয়, তবে নতুন শপথ পতিত হবে না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. লাইক না করার কারণে তালাক পতিত হবে না, কারণ আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ত লঙ্ঘন করেননি।

২. সত্য (শপথ) রেখেছেন কি না—সন্দেহ থাকলে, সেই শপথ পতিত হবে না, কারণ নিশ্চিততা ছাড়া শপথ পতিত হয় না।

৩. ঘুরিয়ে কিছু বলার কারণে নতুন শপথ পতিত হবে না, যদি আপনার নিয়ত নতুন শপথ দেওয়ার না থাকে।

উপদেশ: আপনি অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে দূরে থাকুন। ইসলামে ওয়াসওয়াসাকে উৎসাহিত করা হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমরা সন্দেহ পরিহার করো, কারণ সন্দেহ সবচেয়ে বড় মিথ্যা।"

(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫১৪৪)

আল্লাহ তাআলা আপনার বিষয়টি সহজ করে দিন। আমিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.