অকারণে মায়ের বদদোয়া কি সন্তানের ক্ষতি বয়ে আনবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—মায়ের বদদুয়া সাধারণত কবুল হয়, বিশেষত যখন তা অন্যায়ভাবে বা অকারণে দেওয়া হয় না। কিন্তু ইসলামে বদদুয়া দেওয়া উৎসাহিত নয়; বরং ক্ষমা ও দোয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে যদি কেউ বদদুয়া থেকে বাঁচতে চায়, তাহলে নিচের আমলগুলো করা যেতে পারে:
১. সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিলাওয়াত করা
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ফালাক (১১৩) ও সুরা নাস (১১৪) তিনবার করে পড়া। এই সুরা দুটি যেকোনো অপশক্তি, বদদুয়া বা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করে।
হাদিস:
«مَنْ قَرَأَ الْمُعَوِّذَتَيْنِ كَفَتَاهُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ»
"যে ব্যক্তি সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে, তা তাকে সবকিছু থেকে রক্ষা করে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)
২. ** পড়া**
"بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ"
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়লে কোনো বালা-মুসিবত বা বদদুয়া ক্ষতি করতে পারবে না।
হাদিস:
«مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ»
"যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে 'বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়া ইসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম' পড়ে, তাকে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না।" (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৮; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮৮)
৩. আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা
আয়াতুল কুরসি (সুরা বাকারা: ২৫৫) প্রতিদিন ফরজ সালাতের পর এবং শোয়ার আগে একবার পড়লে শয়তান ও যেকোনো অকল্যাণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিস:
«مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا الْمَوْتُ»
"যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কিছু বাধা দেয় না।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৬)
৪. মা-বাবার প্রতি সদয় থাকা ও তাদের খুশি করা
মায়ের বদদুয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের সেবা-যত্ন করা এবং তাদের রাগ এড়িয়ে চলা। যদি কখনো মা রাগ করে বদদুয়া দেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এবং তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা।
হাদিস:
«رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدَيْنِ، وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدَيْنِ»
"প্রভুর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে, আর প্রভুর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে।" (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ১৮৯৯)
৫. দোয়া পড়া: "اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عُقُوقِ الْوَالِدَيْنِ"
এই দোয়া পড়লে আল্লাহ মা-বাবার বদদুয়া থেকে রক্ষা করবেন।
৬. হানাফি ফিকহের রেফারেন্স
ফাতাওয়া উসমানি (১/২৮৬) তে বলা হয়েছে: "যদি কেউ বদদুয়া দেয়, তাহলে সেই বদদুয়া আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কার্যকর হয় না। আর 'বিসমিল্লাহ' ও সুরা ফালাক-নাসের আমল বদদুয়া থেকে রক্ষা করে।"
রদ্দুল মুহতার (১/৪৫০) তে উল্লেখ আছে: "আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়লে শয়তান ও অকল্যাণ থেকে হেফাজত হয়।"
মনে রাখবেন:
মায়ের বদদুয়া যদি অন্যায় হয়, তাহলে তা আল্লাহর কাছে কবুল নাও হতে পারে। কিন্তু তবুও নিজেকে বদদুয়া থেকে বাঁচাতে উপরোক্ত আমলগুলো নিয়মিত করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মায়ের সাথে ভালো আচরণ করা, কারণ মায়ের দোয়া বেশি কবুল হয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বদদুয়ার কুপ্রভাব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।