নামাজ আদায়ে সমস্যার সমাধান চাচ্ছি

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3553
Questioner: sohag bhuiyan
Question Asked: 06 Aug 2026, 11:16 AM
Reviewed & Published: 06 Aug 2026, 01:49 PM
Views: 19
Tokens: 5,373
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এটা আমার হাসবেন্ড এর প্রোফাইল।
আমি গর্ভবতী। আমার সম্ভবত ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হয়েছে। যার জন্য ওষুধ ব্যবহার করছি।
কিন্তু, যে সমস্যা হচ্ছে, আমি অযু ইস্তিঞ্জা করে খুব দ্রুতই নামাজ আদায় করে ফেলার চেষ্টা করি। কিন্তু নামাজের মাঝখানেই একটু সন্দেহ হলে যদি কাপড় দিয়ে প্রস্রাবের রাস্তা + ভ্যাজাইনাল এরিয়ায় হালকা চেপে দেখতে যাই যে কিছু বের হলো কিনা বাহিরের দিকে, তখন দেখি ভেজা ভাব। আবার অনেক সময় দেখি স্রাব চলে আসছে। এই সামান্য সময়ের মধ্যেই। যেমন গত ইশার সালাতে সুন্নাত আদায়ের পর দেখি স্রাব চলে আসছে। তখন আবার অযু করে পুরো নামাজ পড়েছি কারণ স্রাব কখন আসল তা তো জানিনা।
এখন ভেজা ভাব আসলে কিসের ভেজা সেটাও বুঝতে পারি না।
আবার এত অল্প সময়ে স্রাব চলে আসলে আবার গিয়ে অযু করে নামাজ পড়া খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমার জন্য।
আমার ছোট বাচ্চা আছে। তাকে নিয়ে একেবারে অযুর সাথে সাথে নামাজ কমপ্লিট করে ফেলাও কঠিন হয়ে যায় আমার জন্য।
প্রায় সবসময়ই দেখছি এই অবস্থা( চেক করার পর শুকনা অবস্থা খুব কম দেখি) । এইজন্য মাঝেমাঝে চেক ও করি না এম্নিতেই নামাজ শেষ করে ফেলি। নামাজের পর কুরআন ও পড়া হয় না, ভাবি যে হয়তো অযু নষ্ট হয়ে গেছে।
এখন আমার নামাজের জন্য কি সহজ কোনো মাসআলা নেই?

Answer

নামাজ ও অযু সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান

উত্তর:

আপনার সমস্যাটি বুঝতে পেরেছি। গর্ভাবস্থায় ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনের কারণে স্রাব হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এ বিষয়ে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

মাসআলা:

১. ভেজা ভাব ও স্রাবের বিধান:

  • সাধারণ ভ্যাজাইনাল স্রাব (যা প্রস্রাবের রাস্তা থেকে আসে না) - হানাফী মাযহাব মতে, এটি পবিত্র (তাহির) এবং এটি অযু নষ্ট করে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৪)

  • প্রস্রাবের রাস্তা থেকে যা বের হয় - এটি নাপাক এবং অযু নষ্ট করে।

  • মাঝে মাঝে স্রাবের সাথে প্রস্রাব মিশে গেলে - যদি নিশ্চিত না হন যে প্রস্রাব বের হয়েছে, তবে মূলনীতি হলো: সন্দেহের ভিত্তিতে অযু ভঙ্গ হবে না। (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ১/৬০; কাওয়ায়িদুল ফিকহ)

২. সন্দেহ হলে করণীয়:

  • নামাজের মধ্যে সন্দেহ হলে চেক করা জরুরি নয়। যদি চেক না করেন এবং নিশ্চিত না হন যে কিছু বের হয়েছে, তাহলে আপনার অযু ও নামাজ সহীহ থাকবে।

  • মূলনীতি: "اليقين لا يزول بالشك" অর্থাৎ সন্দেহের কারণে নিশ্চিত জিনিস (অযু) নষ্ট হবে না। (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ১/৬০)

৩. ইস্তিনযার পর দ্রুত স্রাব আসলে:

  • যদি আপনি ইস্তিনযা করে নামাজ শুরু করেন এবং নামাজের মধ্যে স্রাব বের হয়, তবে:
    • যদি স্রাবটি ভ্যাজাইনাল স্রাব হয় (যা সাধারণত সাদা বা স্বচ্ছ হয়), তাহলে এটি পবিত্র এবং অযু নষ্ট করবে না।
    • যদি প্রস্রাব বের হয়, তাহলে অযু নষ্ট হবে।

৪. আপনার জন্য সহজ মাসআলা:

  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য যাদের এই ধরনের সমস্যা হয়, তারা যদি দেখেন যে নামাজের সময় বারবার স্রাব/প্রস্রাব বের হচ্ছে, তাহলে তারা মাজুর (ওযরের কারণে ছাড়প্রাপ্ত) এর হুকুম পাবেন।

  • মাজুরের বিধান: যদি কোনো কারণে এমন অবস্থা হয় যে পুরো নামাজের সময় অযু টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অযু করে নামাজ আদায় করবেন। নামাজের মধ্যে যদি স্রাবও বের হয়, তবুও নামাজ সহীহ হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

  • শর্ত: এই বিধান তখনই প্রযোজ্য যখন কোনো নামাজের পুরো সময়ে অযু টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। আপনার ক্ষেত্রে যদি প্রত্যেক নামাজে বারবার স্রাব/প্রস্রাব বের হয়, তাহলে আপনি মাজুরের হুকুম পাবেন।

৫. নামাজের পর কুরআন পড়া:

  • আপনি যদি মাজুর হন, তাহলে অযু করে নামাজ পড়লে সেই অযু দিয়েই কুরআন পড়তে পারবেন, এমনকি নামাজের পর স্রাব বের হলেও। কারণ মাজুরের জন্য অযু ভঙ্গের পরও তিলাওয়াত জায়েয। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

সংক্ষিপ্ত সমাধান:

১. সন্দেহ হলে চেক করবেন না - নামাজের মধ্যে চেক করা থেকে বিরত থাকুন। সন্দেহের কারণে অযু নষ্ট হবে না।

২. নিশ্চিত না হলে অযু ভাঙবে না - যতক্ষণ না নিশ্চিত হন যে প্রস্রাব বের হয়েছে, ততক্ষণ অযু সহীহ থাকবে।

৩. মাজুরের হুকুম - যদি প্রত্যেক নামাজে বারবার স্রাব বের হয়, তাহলে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অযু করে নামাজ পড়ুন। নামাজের মধ্যে স্রাব বের হলেও নামাজ সহীহ হবে।

৪. সাধারণ ভ্যাজাইনাল স্রাব পবিত্র - এটি অযু নষ্ট করে না, তাই এ নিয়ে চিন্তা করবেন না।

আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সহজ করুন। আমীন।


দলিলসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৩০৫)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৪২)
  • আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর (১/৬০)
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/১৮৫)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.