জুলাই গণ অভ্যুত্থান

Food and Drink · Hanafi

Question No: 3527
Questioner: Eshrat Jahan
Question Asked: 05 Aug 2026, 04:08 PM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 04:38 PM
Views: 12
Tokens: 1,955
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের স্মরণে কোনো খাবার খাওয়া জায়েজ কিনা? খাবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট মুল্য আমাদের দিতে হয়েছে।

Answer

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের স্মরণে খাবার খাওয়ার বিধান

প্রশ্নের উত্তর

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের স্মরণে নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে খাবার খাওয়া জায়েজ আছে, তবে শর্ত হলো তা যেন কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় রীতিনীতি হিসেবে না হয়। এটি একটি রাজনৈতিক বা জাতীয় স্মরণীয় দিবস পালনের অংশ হিসেবে হলে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে শিরক, বিদআত বা ধর্মীয় বিকৃতি না থাকে।

ইসলামী নীতিমালা

১. খাবারের মৌলিক বিধান

কুরআন ও হাদিসে খাবারের মৌলিক বিধান হলো—হালাল ও পবিত্র খাবার খাওয়া জায়েজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا "হে মানবজাতি! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসমূহ খাও।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮)

২. স্মরণীয় দিবস পালনের বিধান

ইসলামে সাধারণভাবে জাতীয় বা ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিবস পালনে বাধা নেই, তবে শর্ত হলো:

  • তাতে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যুক্ত না করা
  • ইসলামী বিধান লঙ্ঘন না করা
  • অপচয় না করা

৩. নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণের বিধান

খাবারের জন্য নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা এবং তা আদায় করা জায়েজ। এটি একটি সাধারণ লেনদেন (বায়') হিসেবে গণ্য হবে। ইসলামে খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ বৈধ।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ

১. ধর্মীয় রূপ না দেওয়া: এই খাবারকে কোনো ধর্মীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উৎসবের অংশ বানানো যাবে না। ২. বিদআত থেকে সতর্কতা: যদি মনে করা হয় যে, এই স্মরণীয় দিবসটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পালিত হচ্ছে, তাহলে তা বিদআতের পর্যায়ে পড়তে পারে। ৩. অপচয় না করা: ইসলামে অপচয় নিষিদ্ধ। খাবারের আয়োজন যেন বিলাসিতা বা অপচয়ের পর্যায়ে না যায়। ৪. হারাম খাবার নয়: খাবারটি যেন হালাল ও পবিত্র হয়।

ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি

হানাফী ফিকহের আলোকে, সাধারণভাবে কোনো জাতীয় বা ঐতিহাসিক উপলক্ষ্যে খাবার বিতরণ বা খাওয়া জায়েজ, যদি তাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো না থাকে:

  • শিরক বা কুফরি কোনো বিষয়
  • ধর্মীয় ইবাদতের বিকৃতি
  • হারাম অর্থের ব্যবহার

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, খাবারের মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরের পুষ্টি ও শক্তি অর্জন। যে কোনো বৈধ উপলক্ষ্যে হালাল খাবার খাওয়া জায়েজ।

সতর্কতা

১. এই ধরনের আয়োজনে যদি কোনো ধর্মীয় গান, ধর্মীয় রীতিনীতি বা ধর্মীয় পোশাক ইত্যাদি থাকে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। ২. যদি মনে করা হয় যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ, তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ৩. খাবারের আয়োজন যেন কোনো প্রকার জুলুম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত না হয়।

উপসংহার

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের স্মরণে নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে খাবার খাওয়া জায়েজ, যদি তা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না হয় এবং উপরোক্ত শর্তগুলো মানা হয়। এটি একটি সাধারণ সামাজিক বা জাতীয় আয়োজন হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো প্রকার ধর্মীয় রূপ দেওয়া হলে তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.