হারাম /হালাল

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3517
Questioner: Shahriar Musfik
Question Asked: 05 Aug 2026, 10:55 AM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 11:22 AM
Views: 11
Tokens: 3,596
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি IOM এর একজন ছাত্র, আমার নাম শাহরিয়ার জাহান মুশফিক। আমি সাউথ কোরিয়া,কিংবা অন্য কোনো নন মুসলিম দেশ এ যদি পড়ালেখা করতে যায়,এবং ওই দেশে যা টাকা পার্টটাইম করে আয় করবো তা যদি আমি পরবর্তীতে দেশে এসে একটা ব্যবসার মূলধন হিসেবে কাজে লাগায়,সেক্ষেত্রে কি ওই ব্যবসা হারাম হবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: আমি IOM এর একজন ছাত্র। আমি সাউথ কোরিয়া বা অন্য কোনো নন-মুসলিম দেশে পড়ালেখা করতে গিয়ে পার্টটাইম কাজ করে যে টাকা আয় করবো, তা যদি পরবর্তীতে দেশে এসে ব্যবসার মূলধন হিসেবে ব্যবহার করি, তাহলে কি সেই ব্যবসা হারাম হবে?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনি যে টাকা পার্টটাইম কাজ করে আয় করবেন, তা যদি হালাল উপায়ে অর্জিত হয়, তাহলে তা দিয়ে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ জায়েয (বৈধ) হবে। তবে যদি তা হারাম উপায়ে অর্জিত হয়, তাহলে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করা জায়েয হবে না এবং সেই ব্যবসা হারাম হবে।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. মূলনীতি: উপার্জনের পবিত্রতা

ইসলামে উপার্জনের পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন ও হাদিসে হালাল উপার্জনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا "হে মানবজাতি! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসমূহ ভক্ষণ করো।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ "হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট।" (সহিহ বুখারী: ৫২, সহিহ মুসলিম: ১৫৯৯)

২. নন-মুসলিম দেশে পার্টটাইম কাজের বিধান

নন-মুসলিম দেশে কাজ করা নিজে হারাম নয়, তবে কাজের ধরন এবং উপার্জনের উৎস গুরুত্বপূর্ণ:

  • হালাল কাজ: যদি কাজটি বৈধ হয় (যেমন: রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন, অফিসের কাজ, টিউশনি ইত্যাদি) এবং তাতে কোনো হারাম উপাদান না থাকে, তাহলে সেই উপার্জন হালাল হবে।
  • হারাম কাজ: যদি কাজটি হারাম হয় (যেমন: মদ/শূকরের মাংস বিক্রি, সুদভিত্তিক লেনদেন, জুয়া, নাচ-গানের প্রতিষ্ঠানে কাজ ইত্যাদি), তাহলে সেই উপার্জন হারাম হবে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, কোনো কাজ হালাল হওয়ার জন্য কাজটি নিজে বৈধ হওয়া এবং উপার্জনের মাধ্যম পবিত্র হওয়া উভয় শর্তই প্রয়োজন।

৩. হারাম উপার্জন দিয়ে ব্যবসা করার বিধান

যদি কেউ হারাম উপার্জন করে, তাহলে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করা জায়েয নয়। কারণ:

কুরআনে বলা হয়েছে:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

**ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)**在其著名的《রদ্দুল মুহতার》一书中提到,如果一个人的资本中含有非法所得,那么用这些资本进行的交易中,非法部分的比例是无效的。

৪. হালাল ও হারাম মিশ্রিত মূলধনের বিধান

যদি মূলধনের কিছু অংশ হালাল এবং কিছু অংশ হারাম হয়, তাহলে:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে: যদি হারাম অংশের পরিমাণ জানা থাকে, তাহলে সেই পরিমাণ বের করে ফেলে দিতে হবে এবং বাকি অংশ দিয়ে ব্যবসা করা যাবে।
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে: যদি হারাম অংশ অপ্রধান হয় (অর্থাৎ মোট সম্পদের চেয়ে কম হয়), তাহলে পুরো সম্পদ হালাল হিসেবে গণ্য হবে, তবে ঐ হারাম পরিমাণ গরিবদের দান করে দিতে হবে।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদে হালাল ও হারাম মিশ্রিত থাকে এবং হারাম অংশের পরিমাণ অজানা থাকে, তাহলে সতর্কতার খাতিরে ঐ সম্পদের একটি আনুমানিক অংশ (যতটুকু হারাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে) সদকা করে দেওয়া উচিত এবং বাকি অংশ হালাল হিসেবে গণ্য হবে।"

৫. সাউথ কোরিয়ায় পার্টটাইম কাজের বাস্তবতা

সাউথ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করে থাকেন:

  • রেস্টুরেন্টে কাজ
  • ফ্যাক্টরিতে কাজ
  • ডেলিভারি কাজ
  • অফিসের সহায়ক কাজ
  • টিউশনি

এই কাজগুলোর মধ্যে কিছু কাজ হালাল এবং কিছু কাজ হারাম হতে পারে। যেমন:

  • হালাল: সাধারণ রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন (যদি মদ বা শূকর পরিবেশন না করা হয়), ফ্যাক্টরিতে কাজ, অফিসের কাজ ইত্যাদি।
  • হারাম: মদ/শূকরের মাংস বিক্রি বা পরিবেশন, জুয়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ, সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ ইত্যাদি।

৬. গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ইমাম আল-তাহাবী (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম উপার্জন করে এবং তা দিয়ে ব্যবসা করে, তার ব্যবসা হারাম হবে এবং সেই ব্যবসার লাভও হারাম হবে।"

তবে যদি কেউ অজান্তে হারাম উপার্জন করে ফেলে, তাহলে:

  1. ঐ টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে তা গরিব-মিসকিনকে দান করে দিতে হবে।
  2. এরপর হালাল উপার্জন দিয়ে ব্যবসা করতে পারবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

  1. যদি আপনার পার্টটাইম কাজ হালাল হয় (যেমন: সাধারণ রেস্টুরেন্টে কাজ, ফ্যাক্টরিতে কাজ, অফিসের কাজ), তাহলে সেই উপার্জন হালাল হবে এবং তা দিয়ে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ জায়েয হবে।

  2. যদি আপনার পার্টটাইম কাজ হারাম হয় (যেমন: মদ/শূকর বিক্রি, জুয়ার কাজ, সুদভিত্তিক লেনদেন), তাহলে সেই উপার্জন হারাম হবে এবং তা দিয়ে ব্যবসা করা হারাম হবে।

  3. যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে আপনার কাজ হালাল নাকি হারাম, তাহলে কাজ শুরুর আগে কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন এবং কোনো সন্দেহ থাকলে তা পরিহার করুন।

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনে সচেষ্ট থাকে, আল্লাহ তাকে উত্তম রিজিক দান করেন। আর যে ব্যক্তি হারাম উপার্জনে লিপ্ত হয়, তার ব্যবসা ও উপার্জনে বরকত থাকে না।"


উপদেশ

আপনি বিদেশে পড়ালেখা করতে যাচ্ছেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন:

  1. কাজ বাছাইয়ে সতর্ক হোন: এমন কাজ বেছে নিন যা স্পষ্টতই হালাল।
  2. হারাম কাজ থেকে দূরে থাকুন: মদ, শূকর, জুয়া, সুদ ইত্যাদির সাথে জড়িত কাজ থেকে বিরত থাকুন।
  3. সন্দেহযুক্ত কাজ পরিহার করুন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে পবিত্র রাখে।" (সহিহ বুখারী: ৫২)
  4. দেশে ফিরে হালাল ব্যবসা করুন: আপনার সঞ্চিত হালাল অর্থ দিয়ে দেশে এসে একটি বৈধ ব্যবসা শুরু করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল রিজিক দান করুন এবং আপনার পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায় বরকত দিন। আমিন।


উত্তর প্রদানে: দারুল ইফতা, দারুল উলুম দেওবন্দ ও হানাফি ফিকহের আলোকে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.