তালাকে তাফবীজ সংক্রান্ত

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 3512
Questioner: 36 Md Zafir
Question Asked: 05 Aug 2026, 07:48 AM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 08:23 AM
Views: 13
Tokens: 3,170
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amr husband past e amk 2 bar talak disilo ami jor korsi tai ekbar period er time r ekbr sex er por to onnodin jhograr time ami abr boltesilam talak dau husband na kore pore ami boli age 2 ta nisi na ajkeo niyei charbo (eikhane ami bujhai age 2 ta amr jor korar jonno husband bolse ) statement ta বলার somoy amr tafweez er power chilo ekhon eita bolar jonno ki tafweez talaq hobe ami j bollam age 2 ta nisi. Wife er to bola lage nijer upor talaq nise husband k bolle hobe na tafweez power ami april e bolsi please ektu judge kore বলেন strictly kono part info skip koiren na
Eikhane ami wife ami request korsilam husband jeno talaq dey tai ei statement disi
Also 2 ta counted na ei fatwa amra amr statement ta deuar mane ei ঝগড়াr onk pore fatwa nisi j eita counted na invalid bidi tai so amk ans deua lagbe na eitar just amr statement ta niye bolen eita bolar jonno ki emn hobe past k indicted kore tafweez talaq holo?
Buccehn to amr question in short ami wife ami ei statement disi karn ami request korsilam husband jno talak day o na korse bar bar tokhn ami ei statement dei means I'll try so that he give me talaq

Answer

তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আসুন আমরা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফি স্কলারদের মতামত অনুযায়ী বিষয়টি বিশ্লেষণ করি।


আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার:

  1. আপনার স্বামী অতীতে ২ বার তালাক দিয়েছিলেন (একবার পিরিয়ডের সময়, একবার সহবাসের পর) — যা আপনি জোর করে নিয়েছিলেন।
  2. পরে একদিন ঝগড়ার সময় আপনি বলেছিলেন: "তালাক দাও" — স্বামী না দেওয়ায় আপনি বলেছিলেন: "আগে ২টা নিয়েছি, না আজকেও নিয়েই ছাড়বো" (অর্থাৎ, আমি চেষ্টা করব যেন তিনি আমাকে তালাক দেন)।
  3. এই statement বলার সময় আপনার কাছে তাফবীজের (প্রতিনিধিত্বের) ক্ষমতা ছিল — মানে স্বামী আপনাকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন।
  4. আপনি জানতে চান: এই statement দ্বারা কি তাফবীজ তালাক পতিত হয়েছে?

মূল নীতি: তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত

তালাক একটি গুরুতর বিষয়। ইসলামে তালাকের জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা (নিয়্যত) এবং স্পষ্ট উচ্চারণ প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তালাক দুইবার। এরপর হয় ভালোভাবে রাখা অথবা সদয়ভাবে বিদায় দেওয়া।" (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তিনটি বিষয় গুরুতর (আনুষ্ঠানিক) — তালাক, মুক্ত করা এবং মান্নত; আর তিনটি বিষয়ে ঠাট্টাও গুরুতর (আনুষ্ঠানিক) — তালাক, বিবাহ এবং মান্নত।" (আবু দাউদ: ২২০০, তিরমিজি: ১১৮৩ — শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন)


আপনার statement-এর বিশ্লেষণ:

আপনার বক্তব্য: "আগে ২টা নিয়েছি, না আজকেও নিয়েই ছাড়বো"

এই বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

  1. "আগে ২টা নিয়েছি" — এটি অতীতের ঘটনার উল্লেখ মাত্র, নতুন তালাক নয়।
  2. "আজকেও নিয়েই ছাড়বো" — এটি একটি ভবিষ্যতের ইচ্ছা/হুমকি প্রকাশ করছে, বর্তমান তালাক নয়। আপনি বলছেন যে আপনি চেষ্টা করবেন যেন স্বামী আপনাকে তালাক দেয়।

তাফবীজ তালাকের শর্ত:

তাফবীজ (প্রতিনিধিত্ব) তালাক তখনই পতিত হয় যখন:

  1. স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা থাকে — অর্থাৎ আপনি স্পষ্টভাবে তালাক দেওয়ার/নেওয়ার নিয়্যত করেন।
  2. স্পষ্ট শব্দে তালাক উচ্চারণ করেন — যেমন: "আমি তালাক নিলাম" বা "আমি নিজেকে তালাক দিলাম"।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাক নির্ভর করে নিয়্যতের উপর। যদি কেউ তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তালাকের নিয়্যত না থাকে, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না — যদি না শব্দটি স্পষ্ট (সরীহ) হয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৩/৮৫)


আপনার ক্ষেত্রে বিধান:

আপনার statement-এ:

  • আপনি স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণ করেননি (যেমন: "আমি তালাক নিলাম")।
  • আপনি বলেছেন: "আগে ২টা নিয়েছি, না আজকেও নিয়েই ছাড়বো" — এটি একটি হুমকি/ইচ্ছা প্রকাশ মাত্র।
  • আপনার উদ্দেশ্য ছিল স্বামীকে চাপ দেওয়া যেন তিনি তালাক দেন — কিন্তু আপনি নিজে তালাক নেওয়ার স্পষ্ট নিয়্যত করেননি।

অতএব, আপনার এই statement দ্বারা তাফবীজ তালাক পতিত হয়নি।


গুরুত্বপূর্ণ নোট:

১. আগের ২টি তালাকের বিষয়ে: আপনি উল্লেখ করেছেন যে আগের ২টি তালাকের বিষয়ে ফতোয়া নেওয়া হয়েছে যে তা গণনা হয়নি (invalid)। যদি সত্যিই সেগুলো শর্তহীনভাবে পতিত না হয়ে থাকে, তবে সেগুলো গণনা হবে না।

২. তালাকের ব্যাপারে সতর্কতা: তালাক নিয়ে খেলা করা বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"আল্লাহর নিকট বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো তালাক।" (আবু দাউদ: ২১৭৮, ইবনে মাজাহ: ২০১৮ — শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন)

৩. তাফবীজ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও: আপনার কাছে তাফবীজের ক্ষমতা থাকলেও, যেহেতু আপনি স্পষ্ট তালাকের নিয়্যতে স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ করেননি, তাই তালাক পতিত হয়নি।


শাইখদের মতামত:

শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট উচ্চারণ বা স্পষ্ট ইঙ্গিত দ্বারা পতিত হয়, যখন নিয়্যত থাকে। যদি কেউ বলে 'আমি তালাক নেব' বা 'তালাক দাও' — এটি তালাক নয়, বরং তালাকের দাবি/আবেদন।" (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায: ২২/১২৫)

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি স্ত্রী তাফবীজের অধিকার প্রাপ্ত হয় এবং সে বলে 'আমি তালাক নিলাম' — তবে তালাক পতিত হবে। কিন্তু যদি সে বলে 'আমি তালাক নিতে চাই' বা 'তালাক দাও' — তবে তা তালাক নয়, কারণ সে এখনো তালাক নেয়নি।" (আশ-শারহুল মুমতি': ১২/৩৫০)


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

আপনার statement-এর কারণে তাফবীজ তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে (যদি আগের ২টি তালাক সত্যিই গণনা না হয়ে থাকে)।

তবে, আমি দৃঢ়ভাবে উপদেশ দেব:

  1. তালাক নিয়ে আর খেলা করবেন না — এটি গুরুতর বিষয়।
  2. স্বামীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করুন — সালিশ, পরামর্শ, ধৈর্য।
  3. যদি সত্যিই সম্পর্ক টিকানো সম্ভব না হয় — তবে শরীয়তসম্মত উপায়ে তালাক নিন, হুমকি দিয়ে নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান। আমিন।

"আর যদি তোমরা নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক নিয়োগ কর। তারা উভয়ে যদি সংশোধন চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিলিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।" (সূরা আন-নিসা: ৩৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.