পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধ করা কি বায়তুল্লাহ যাওয়ার চেয়ে উত্তম?

Family Life · Hanafi

Question No: 3501
Questioner: Jannat Mawa
Question Asked: 05 Aug 2026, 12:00 AM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 12:03 AM
Views: 14
Tokens: 3,413
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته উস্তাদ।
আমি একজন স্টুডেন্ট। টিউশন+ বৃওির টাকা থেকে আমি ৪০ হাজার টাকা জমিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বায়তুল্লাহ যাওয়ার নিয়ত করে। কিন্তু আমার মা-বাবার কিছু টাকা ঋণ আছে যা আমার জমানো টাকার চেয়ে বেশি।
আমার প্রশ্ন :
১. আমি কি আমার টাকা বায়তুল্লাহ যাওয়ার নিয়ত করে জমিয়ে যাবো নাকি আমার মা-বাবা দিয়ে সাহায্য করবো? কোন কাজটা করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা অধিক পরিমাণ খুশি হবে জানালে মুনাসিব হয়
২. ওনাদের ঋণের মধ্যে সুদ অন্তর্ভুক্ত আছে, তাহলে আমার টাকা দেওয়া জায়েজ হবে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: আপনার মা-বাবার ঋণ আছে, অথচ আপনি বায়তুল্লাহ যাওয়ার জন্য টাকা জমিয়েছেন। ইসলামী দৃষ্টিতে কোন কাজটি উত্তম?

উত্তর: ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। বিশেষ করে যখন পিতা-মাতা ঋণের বোঝায় জর্জরিত, তখন তাদের সাহায্য করা সন্তানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য।" (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২২৯১)

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: "তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)

তাই আপনার মা-বাবার ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা বায়তুল্লাহ যাওয়ার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয়। কারণ, পিতা-মাতার সেবা করা এবং তাদের কষ্ট দূর করা ফরজের পর্যায়ভুক্ত। বায়তুল্লাহ যাওয়া নফল ইবাদত, আর পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা ফরজ কর্তব্য পালনের অন্তর্ভুক্ত। ফরজ কর্তব্য পালন নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।

প্রশ্ন ২: ঋণের মধ্যে সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকলে আপনার টাকা দেওয়া জায়েজ হবে কি?

উত্তর: ঋণের মধ্যে সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেই সুদ পরিশোধ করা জায়েজ নয়, বরং তা হারাম। তবে মূল ঋণের পরিমাণ পরিশোধ করা জায়েজ। আপনি যদি আপনার মা-বাবাকে টাকা দেন, তবে শর্ত হলো সেই টাকা যেন সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত না হয়, বরং মূল ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুদী লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা আবশ্যক। আপনার মা-বাবাকে উপদেশ দেওয়া উচিত যে, তারা যেন সুদী লেনদেন থেকে তওবা করে এবং ভবিষ্যতে সুদী লেনদেন না করে। আর যদি ঋণদাতা সুদের অংশ মাফ করে দেয়, তবে তা উত্তম।

রেফারেন্স:

  • আল-কুরআন: সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩-২৪, সূরা বাকারা: ২৭৫-২৭৯
  • সহীহ বুখারী: হাদীস: ৩০০২ (পিতা-মাতার সেবা সম্পর্কে)
  • ইবনে মাজাহ: হাদীস: ২২৯১
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫১ (ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব)
  • রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৮৫ (সুদ ও ঋণ সংক্রান্ত)
  • বাহিশতী জেওর: ১/২৩৪ (পিতা-মাতার সেবা)

সিদ্ধান্ত: আপনার মা-বাবার ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা বায়তুল্লাহ যাওয়ার চেয়ে উত্তম। তবে সুদ পরিশোধে টাকা দেওয়া জায়েজ নয়। মূল ঋণ পরিশোধে সাহায্য করুন এবং সুদী লেনদেন থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিন। আল্লাহ তাআলা আপনার নেক নিয়তের বিনিময়ে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.