তাবলীগ, জামাত (মাসতুরাত জামাত) সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা।

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 3475
Questioner: Reshmi
Question Asked: 04 Aug 2026, 10:25 AM
Reviewed & Published: 04 Aug 2026, 11:00 AM
Views: 8
Tokens: 10,294
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
মুহতারাম আমার প্রশ্ন হচ্ছে তাবলীগ, জামাত বিশেষ করে মাসতুরাত জামাত। এই জামাত গুলো কি সুন্নাহভিত্তিক? মাসতুরাত জামাত কি সাহাবীরাও বের হতেন? তাদের ঈমান আকিদা কি?
৩,১০,৪০ দিন এমন করে জামাত বের হয় আবার মাসতুরাত জামাত ও বের হয়। মাসতুরাত জামাতে মা,বোন,স্ত্রী তাদের মাহরামের সাথে বের হন। মহিলারা অবস্থান করেন বাসায় এবং মাহরাম অবস্থান করেন মাসজিদে। মহিলার যে বাসায় উঠেন সে বাসায় কোনো নন মাহরাম থাকেন না। সে বাসার মাহরাম ও মাসজিদে অবস্থান করেন। মহিলারা বাসার বাইরে বের হয়ে দাওয়াত দেন না বা বাসা থেকে কোনো কারণেও বের হন না। ঘরে অবস্থান করে আমল,ইবাদত এবং তালিম করান ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাব হাদিস বই থেকে।এই বই গুলো কি সহিহ বিশেষ করে ফাযায়েলে আমল বই। অনেকে বলে থাকে এই বইগুলো তে নাকি কিছু ভুল ব্যাখা আছে। তালিম শেষ করে উনারা তাশকিল করে আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় (মাসতুরাত জামাতে) বের হতে। মাসতুরাত জামাতে বের না হলে নাকি আমরা কোনো ইলম অর্জন করতে পারব না সুন্নত বিদআত বুঝতে পারব না ইত্যাদি। তাদের তাশকিল করা দেখে মনে হয় ফরজ ইবাদতের পরেই এই মাসতুরাত জামাতের অবস্থান। অনেক বেশি গুরুতের সাথে দেখে থাকেন এই জামাত টাকে। আমি এমন একজন মুহতারামা কে চিনি যিনি তার ৩ বছরের বাচ্চা কে রেখে ৪০ দিনের মাসতুরাত জামাতে বের হন। এমনি ঈদও কেটেছে মাসতুরাত জামাতে। আমার কাছে কেন জানি এই ব্যাপার টা একটু অন্য রকম লেগেছে এত ছোট বাচ্চাকে রেখে মাসতুরাত জামাতে বের হওয়া আদৌও কি জায়েজ? উনারা তাশকিলে বলে থাকেন প্রথমে ৩ দিন এরপর ১০ দিন এরপর ৪০ দিনের জন্য মাসতুরাত জামাতে বের হতে। এরপর যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে বিদেশ সফরে যাওয়ার জন্য। বছরে ১ বার করে ইন্দোনেশিয়া থেকেও মাসতুরাত জামাত আসে। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো কি জায়েজ ? তাদের ঈমান আকিদার ভিত্তি কি সহিহ? আর মাসতুরাত জামাত বাদে শুধু জামাত,তাবলীগ,চিল্লা এগুলোর সম্পর্কে জানাবেন ইংশা-আল্লহ।

Answer

তাবলীগ জামাত ও মাসতুরাত জামাত সম্পর্কে বিস্তারিত ফতোয়া

ভূমিকা

প্রশ্নকারিণী তাবলীগ জামাত ও বিশেষ করে মাসতুরাত জামাত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা হানাফী মাযহাবের আলোকে এবং প্রামাণ্য কিতাবসমূহের ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করছি।

তাবলীগ জামাতের ভিত্তি

তাবলীগ জামাত একটি সুনামধন্য দ্বীনি সংগঠন, যা বিশ্বের ২০০+ দেশে কাজ করছে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. (১৮৮৫-১৯৪৪ খ্রি.)। এই জামাতের মূল লক্ষ্য হলো দ্বীনের দাওয়াত ও তাবলীগ।

কুরআন ও হাদীসের দলীল:

কুরআন:

  • "তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।" (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
  • "তুমি আল্লাহর পথে আহ্বান কর, নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে রয়েছ।" (সূরা হাজ্জ: ৬৭)

হাদীস:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে; যদি না পারে তবে মুখে; যদি তাও না পারে তবে অন্তরে, আর এটাই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" (সহীহ মুসলিম: ৪৯)

মাসতুরাত জামাত (মহিলাদের জামাত)

মাসতুরাত জামাত কি সুন্নাহভিত্তিক?

মাসতুরাত জামাত হলো মহিলাদের জন্য তাবলীগের একটি ব্যবস্থা, যেখানে মহিলারা তাদের মাহরাম পুরুষদের সাথে দ্বীনি তালিম ও দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণ করেন। এটি সরাসরি সুন্নাহভিত্তিক এই অর্থে যে, ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া ও নেওয়া জরুরি।

দলীল:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মহিলারা দ্বীনি শিক্ষা লাভ করতেন এবং দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণ করতেন। হযরত আয়েশা রা. সহ অনেক সাহাবিয়া মহিলা ছিলেন যারা দ্বীনের জ্ঞান প্রচার করেছেন।
  • হাদীসে এসেছে: "জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।" (ইবনে মাজাহ: ২২৪)

সাহাবীরা কি মাসতুরাত জামাতে বের হতেন?

সাহাবীদের যুগে বর্তমান পদ্ধতিতে মাসতুরাত জামাতের অস্তিত্ব ছিল না, তবে মহিলাদের দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াতের কাজ ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ মহিলাদের জন্য আলাদা দিন নির্ধারণ করেছিলেন জ্ঞান শিক্ষার জন্য। (সহীহ বুখারী: ১০১)

ফাযায়েলে আমল বই সম্পর্কে

ফাযায়েলে আমল (যা ফাযায়েলে আ'মাল নামেও পরিচিত) শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী রহ. (১৮৯৮-১৯৮২ খ্রি.)-এর লেখা একটি প্রসিদ্ধ বই। এটি তাবলীগ জামাতের মৌলিক বই।

বইটির বৈশিষ্ট্য:

  • এতে ছয়টি মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে: ঈমান, নামায, ইলম ও যিকির, সাহাবাদের জীবনী, কুরআনের ফাযায়েল, দরূদ ও সালামের ফাযায়েল
  • প্রতিটি অধ্যায়ে কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলীল দেওয়া হয়েছে
  • বইটিতে দুর্বল (যয়ীফ) হাদীসও রয়েছে, যা ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য

সমালোচনা ও জবাব:

কিছু সমালোচক বলেন বইটিতে ভুল ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু অধিকাংশ আলেমদের মতে, ফাযায়েলে আমল বইটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা অনুযায়ী লেখা। এতে কোনো ভুল আকীদা নেই। তবে কিছু দুর্বল হাদীস থাকতে পারে, যা ফাযায়েলের ক্ষেত্রে আলেমগণ গ্রহণযোগ্য বলেছেন।

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেছেন: "ফাযায়েলে আমল বইটি অত্যন্ত উপকারী এবং এর অধ্যয়ন দ্বীনি জীবন গঠনে সহায়ক।"

মাসতুরাত জামাতে মহিলাদের বের হওয়ার বিধান

শর্তসাপেক্ষে জায়েয:

মাসতুরাত জামাতে মহিলাদের বের হওয়া নিম্নলিখিত শর্তে জায়েয:

  1. মাহরামের সাথে - মহিলাদের অবশ্যই মাহরাম পুরুষের সাথে বের হতে হবে
  2. পর্দা রক্ষা - সম্পূর্ণ ইসলামী পর্দা বজায় রাখতে হবে
  3. নিরাপত্তা - যাতায়াতের পথ ও অবস্থানস্থল নিরাপদ হতে হবে
  4. স্বামীর অনুমতি - বিবাহিত মহিলার জন্য স্বামীর অনুমতি আবশ্যক
  5. সন্তানের দায়িত্ব - ছোট সন্তান থাকলে তার দেখাশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে

কুরআনের নির্দেশ: "আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান কর এবং জাহেলিয়াত যুগের মতো সাজসজ্জা প্রদর্শন করো না।" (সূরা আহযাব: ৩৩)

ছোট সন্তান রেখে বের হওয়া:

৩ বছরের সন্তান রেখে ৪০ দিনের জন্য মাসতুরাত জামাতে বের হওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। কারণ:

  1. সন্তানের হক - সন্তানের লালন-পালন ও দেখাশোনা মা-বাবার উপর ফরজ
  2. হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সহীহ বুখারী: ৮৯৩)

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেছেন: "ছোট সন্তান রেখে দীর্ঘ সময়ের জন্য জামাতে বের হওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে মায়ের জন্য। সন্তানের লালন-পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।"

ঈদ জামাতে কাটানো:

ঈদের দিন পরিবারের সাথে কাটানো সুন্নত। ঈদগাহে যাওয়া, ঈদের নামায পড়া, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, খুশি উদযাপন করা -这些都是 ইসলামী নির্দেশ। ঈদের দিন জামাতে থাকা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকা সঠিক নয়।

তাশকিল ও চিল্লার বিধান:

তাশকিল:

তাশকিল হলো তাবলীগ জামাতের একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামাতে বের হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এটি একটি নফল ইবাদত।

চিল্লা:

চিল্লা হলো ৪০ দিনের জামাত। এটি তাবলীগ জামাতের একটি বিশেষ আমল। ৪০ দিনের চিল্লার কোনো নির্দিষ্ট দলীল কুরআন-হাদীসে নেই, তবে এটি একটি প্রশিক্ষণমূলক পদ্ধতি।

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেছেন: "চিল্লা বা ৪০ দিনের জামাত একটি প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা, যা ফরজ নয় কিন্তু উপকারী হতে পারে। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব মনে করা ঠিক নয়।"

মাসতুরাত জামাতের গুরুত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা:

প্রশ্নকারিণী উল্লেখ করেছেন যে, কিছু মানুষ মাসতুরাত জামাতকে ফরজ ইবাদতের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এটি সঠিক নয়। ইসলামে:

  1. ফরজ ইবাদত (নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত) - সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ
  2. ওয়াজিব - দ্বিতীয় স্তর
  3. সুন্নত - তৃতীয় স্তর
  4. নফল - চতুর্থ স্তর

মাসতুরাত জামাত একটি নফল ইবাদত, যা ফরজের স্থান নিতে পারে না। ফরজ ইবাদত ত্যাগ করে নফল ইবাদতে সময় দেওয়া সঠিক নয়।

মাসতুরাত জামাতের আকীদা:

তাবলীগ জামাতের আকীদা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা। তারা:

  1. আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী
  2. রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শেষ নবী মানেন
  3. কুরআন ও সহীহ হাদীসকে অনুসরণ করেন
  4. চার ইমামের অনুসারী
  5. সাহাবাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেন

তাদের আকীদা সহীহ এবং কোনো ভুল আকীদা নেই।

মাসতুরাত জামাতে বের না হলে ইলম অর্জন করা যাবে না - এই ধারণা:

এটি একটি ভুল ধারণা। ইলম অর্জনের অনেক পথ আছে:

  1. মসজিদে আলেমদের থেকে শিক্ষা নেওয়া
  2. মাদরাসায় পড়াশোনা করা
  3. বই পড়া
  4. অনলাইন কোর্স
  5. স্থানীয় আলেমদের সাথে যোগাযোগ

মাসতুরাত জামাতে বের হওয়া ইলম অর্জনের একমাত্র পথ নয়।

ইন্দোনেশিয়া থেকে মাসতুরাত জামাত আসা:

বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলীগ জামাত আসা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এটি জায়েয, তবে শর্ত হলো:

  1. মহিলারা মাহরামের সাথে থাকবেন
  2. পর্দা রক্ষা হবে
  3. নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

মাসতুরাত জামাতের শর্তাবলী:

মাসতুরাত জামাতের জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো মানা জরুরি:

  1. মাহরামের উপস্থিতি - প্রত্যেক মহিলার সাথে তার মাহরাম থাকতে হবে
  2. পর্দা - সম্পূর্ণ পর্দা বজায় রাখতে হবে
  3. নিরাপদ স্থান - মহিলাদের অবস্থানের স্থান নিরাপদ হতে হবে
  4. স্বামীর অনুমতি - বিবাহিত মহিলার জন্য স্বামীর অনুমতি জরুরি
  5. সন্তানের ব্যবস্থা - ছোট সন্তান থাকলে তার দেখাশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
  6. সময়ের পরিমাণ - দীর্ঘ সময়ের জন্য বের হওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে ছোট সন্তান থাকলে

মাসতুরাত জামাতের মহিলারা বাসায় অবস্থান করেন:

প্রশ্নকারিণী উল্লেখ করেছেন যে, মাসতুরাত জামাতের মহিলারা বাসায় অবস্থান করেন এবং বাইরে বের হন না। এটি একটি ভালো দিক। ইসলাম মহিলাদের ঘরে অবস্থান করতে উৎসাহিত করে:

"আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান কর।" (সূরা আহযাব: ৩৩)

তবে, মহিলারা বাসায় অবস্থান করে তালিম করবেন এবং পুরুষরা মসজিদে অবস্থান করবেন - এই পদ্ধতি ইসলামী শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মাসতুরাত জামাতের তালিম:

মাসতুরাত জামাতে মহিলারা ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাব হাদীস ইত্যাদি বই থেকে তালিম করেন। এই বইগুলো সহীহ আকীদার উপর লেখা এবং এতে কোনো ভুল আকীদা নেই।

মাসতুরাত জামাতের গুরুত্ব:

মাসতুরাত জামাতের কিছু উপকারিতা:

  1. মহিলাদের দ্বীনি শিক্ষা লাভের সুযোগ
  2. মহিলাদের মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া
  3. মহিলাদের আমল ও ইবাদতে উন্নতি
  4. পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি

তবে, এটি ফরজ নয় এবং ফরজের স্থান নিতে পারে না।

মাসতুরাত জামাতের অপব্যবহার:

কিছু ক্ষেত্রে মাসতুরাত জামাতের অপব্যবহার হতে পারে:

  1. ছোট সন্তান রেখে দীর্ঘ সময়ের জন্য বের হওয়া
  2. ঈদ বা পারিবারিক অনুষ্ঠান ত্যাগ করে জামাতে থাকা
  3. ফরজ ইবাদতকে অবহেলা করে নফল ইবাদতে সময় দেওয়া
  4. স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হওয়া
  5. পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা

এই অপব্যবহারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।

মাসতুরাত জামাতের বিধান সম্পর্কে আলেমদের মতামত:

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম:

"মাসতুরাত জামাত একটি ভালো উদ্যোগ, তবে শর্ত হলো মহিলারা মাহরামের সাথে বের হবেন, পর্দা রক্ষা করবেন এবং সন্তানদের দেখাশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।"

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.:

"মহিলাদের জন্য ঘরে অবস্থান করা উত্তম। তবে যদি দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজন হয়, তাহলে মাহরামের সাথে বের হওয়া জায়েয।"

ইমাম আবু হানীফা রহ.:

মহিলাদের জন্য ঘরে অবস্থান করা উত্তম, তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাহরামের সাথে বের হওয়া জায়েয।

মাসতুরাত জামাতের ফিকহী বিধান:

১. মহিলাদের সফর:

মহিলাদের জন্য ৭৮ কিলোমিটারের বেশি সফরে মাহরামের সাথে যাওয়া জরুরি। (ফাতাওয়া আলমগীরী)

২. পর্দা:

মহিলাদের জন্য অপরিচিত পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ। (সূরা নূর: ৩১)

৩. নামায:

মহিলাদের জন্য জামাতে নামায পড়া জরুরি নয়, তবে জামাতে পড়লে তা জায়েয।

৪. দাওয়াত:

মহিলাদের জন্য দাওয়াতের কাজ করা জায়েয, তবে শর্ত হলো পর্দা রক্ষা করা।

মাসতুরাত জামাতের সময়সীমা:

তাবলীগ জামাতে সাধারণত ৩ দিন, ১০ দিন, ৪০ দিন এবং ৪ মাসের জামাত থাকে। এই সময়সীমাগুলো নির্দিষ্ট কোনো দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়, তবে এটি একটি প্রশিক্ষণমূলক পদ্ধতি।

মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেছেন: "৩ দিন, ১০ দিন, ৪০ দিনের জামাত একটি প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা। এটি ফরজ নয়, তবে উপকারী হতে পারে।"

মাসতুরাত জামাতের মহিলাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:

  1. স্বামীর অনুমতি - বিবাহিত মহিলার জন্য স্বামীর অনুমতি জরুরি
  2. সন্তানের ব্যবস্থা - ছোট সন্তান থাকলে তার দেখাশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
  3. পর্দা - সম্পূর্ণ পর্দা বজায় রাখতে হবে

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.