থাকবোনা বললে তালাক হবে কি??

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3458
Questioner: ruhani binte
Question Asked: 03 Aug 2026, 10:07 PM
Reviewed & Published: 03 Aug 2026, 10:47 PM
Views: 7
Tokens: 3,777
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে বলেছে উনি আমার সাথে থাকবেনা।অনেকবার বলেছে তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি এসব কি বলেন। উনি বলে কেন স্বামী স্ত্রী কি আলাদা থাকেনা?? তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি কি ঐ উদ্দেশ্যে বলেছেন( মানে আমি তালাকের উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করেছি যদি মুখ দিয়ে বলিনি)? উনি বলেছেন হ্যা ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি জানি না উনি বুঝে বলেছেন কিনা। পরে উনাকে আবার জিজ্ঞাসা করলে উনি বলে স্বামী স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছে।তখন আমি বলি আমি তো ঐ বলতে তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি। তখন উনি বলে তুমি কোন উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করছো তা জানার দরকার আছে??
এখানে কি তালাক হবে??

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা ঘটনাটি বিশ্লেষণ করছি:

ঘটনার বিবরণ:

  • আপনার স্বামী বলেছেন, "আমি তোমার সাথে থাকবো না" (অনেকবার)
  • আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন, "আপনি কি তালাকের উদ্দেশ্যে বলেছেন?"
  • তিনি বলেছেন, "হ্যাঁ, ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি"
  • পরে আবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, "আমি স্বামী-স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছি"
  • আপনি বলেছেন, "আমি তো তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি"
  • তখন তিনি বলেছেন, "তুমি কোন উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করছো তা জানার দরকার আছে?"

শরী‘আতের বিধান:

এই ঘটনায় তালাক পতিত হবে না। কারণ:

১. "আমি তোমার সাথে থাকবো না" - এই বাক্যটি সরাসরি তালাকের শব্দ নয়। এটি একটি অস্পষ্ট (কিনায়া) শব্দ। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ত (ইচ্ছা) শর্ত।

২. আপনার স্বামী প্রথমে বলেছেন "হ্যাঁ, তালাকের উদ্দেশ্যেই বলেছি" - কিন্তু পরে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছেন, তালাকের কথা নয়। অর্থাৎ তার নিয়ত ছিল আলাদা থাকা, তালাক নয়।

৩. যখন আপনি তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি বলেছেন "তুমি কোন উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করছো তা জানার দরকার আছে?" - এটি তার পক্ষ থেকে তালাকের নিয়তের স্পষ্ট স্বীকৃতি নয়।

হানাফী ফিকহের নীতিমালা:

  • কিতাবুল আছল (ইমাম মুহাম্মদ)-এ আছে: কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না। (কিতাবুল আছল, ৩/১৬৬)
  • রদ্দুল মুহতার-এ আছে: কিনায়া শব্দে তালাকের জন্য নিয়ত বা দালালাতুল হাল (পরিস্থিতির ইঙ্গিত) প্রয়োজন। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯০)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ-তে আছে: "لا اخرج معك" (আমি তোমার সাথে বের হবো না) - এটি কিনায়া। নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ১/৩৭৩)

আপনার স্বামীর বক্তব্যের বিশ্লেষণ:

  • প্রথমে "হ্যাঁ, তালাকের উদ্দেশ্যে বলেছি" - এটি একটি অস্পষ্ট উত্তর ছিল। কিন্তু পরে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা থাকা।
  • যেহেতু তিনি পরে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার নিয়ত তালাকের ছিল না, তাই তালাক পতিত হবে না।
  • তবে যদি তিনি সত্যিই তালাকের নিয়তে বলে থাকেন এবং পরে অস্বীকার করেন, তাহলে সেটি আল্লাহর কাছে জিম্মাদারির বিষয়। কিন্তু শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী, যেহেতু তিনি এখন বলছেন তার নিয়ত তালাকের ছিল না, তাই তালাক পতিত হবে না।

ফাতাওয়া উসমানী-তে আছে: "কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না। আর নিয়তের ব্যাপারে স্বামীর কথাই বিশ্বাসযোগ্য।" (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৪৫)

সুতরাং, এই ঘটনায় তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে।

উপদেশ:

  • আপনারা উভয়ে এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন। ভবিষ্যতে এমন অস্পষ্ট কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন।
  • প্রয়োজনে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে মীমাংসা করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের সম্পর্ককে সুন্দর করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.