স্বামী যদি বলেন যে, "cheating করলে তালাক হয়ে যাবে" — এতে কি শর্তযুক্ত তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 3418
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 02 Aug 2026, 05:17 PM
Reviewed & Published: 02 Aug 2026, 05:23 PM
Views: 13
Tokens: 8,259
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী আমাকে বলেছিলেন micro cheating বা cheating মানে উনাকে ধোঁকা বা না জানিয়ে কিছু করলে দিলে বাকি দুইটা হয়ে যাবে বা বাকি দুইটা তালাক হয়ে যাবে নিয়ত করে রাখলাম । মানে আমি যদি ভবিষ্যতে ওইরকম কিছু করি তাহলে উনি সরাসরি তালাক দিলে তখন হবে এটা বুঝিয়েছেন অটোমেটিক্যালি হবে এমন বলেন নি উনি পরে সরাসরি দিলে হবে ।কালকে আমার একটা ক্লাসমেট এর সাথে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছিলাম কলে ৩/৪ মিনিট কথা বলার সময় আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যার জন্য কিছু চিন্তা চলে আসে মনের মধ্যে ইচ্ছাকৃত ছিলোনা মনের অজান্তে চলে আসে আমি পরীক্ষা আর আমাদের সহপাঠীদের ব্যাপারে কথা বলছিলাম romantic বা নেগেটিভ কোনো কথা হয় নি মনের মধ্যে চিন্তা আসার জন্যে কোন সমস্যা হবেকি স্বামী এই ব্যাপারটি জানেন আর আমার একটি সমস্যা আছে কোনো বিষয় না ঘটলেও মনে হয় হয়তো ঘটেছে মনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। আমার স্পস্ট মনে আছে যে আমার ওই ক্লাসমেটকে আমি নেগেটিভ কিছু বলিনি তারপরেও সন্দেহ হচ্ছে কথা বলার সময় আমার পরিবারের একজন সদস্য আমার সামনে ছিলেন উনি বলেছেন যে না এমন কিছু ঘটেনি মানে আমি নেগেটিভ কিছু বলিনি যার জন্য সমস্যা হবে । মনে কোনো চিন্তা আসার জন্য কি কোনো সমস্যা হবে। স্বামী আমাকে কোনো শর্তযুক্ত তালাক দেন নি নিয়ত ও ছিলোনা শুধু মাত্র আমাকে ভয় দেখানোর জন্য রাগ করে বলেছেন যেনো সাবধানে থাকি উনি আমাকে ঝগড়ার সময় চুপ করানোর জন্যে বলেন স্বামী নিশ্চিত করেছেন যে উনি কোনো শর্তযুক্ত তালাক দেন নি কখনো। সত্যি সত্যি কোন শর্তযুক্ত তালাক দেন নি।হুজুর আমার স্বামী বলেছেন যে আমার দ্বারা শর্তপূরণ হয়নি আর উনি শর্তযুক্ত কোনো তালাক দেন নি । আরেকটা কথা cheating করলে তালাক হয়ে যাবে নিয়ত ছাড়া ভয় দেখানোর জন্যে বললে শর্ত পূরণ না হলে কি তালাক হয়ে যেত বা শর্ত পূর্ণ হলে কি তালাক হয়ে যাবে নিয়ত ছাড়া সাবধানে রাখার জন্যে বলে থাকলে ।উনি বলেছেন উনি শর্ত দেন নি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন এবং সেটাও মন থেকে বলেন নি এবং পরে উনি উঠিয়ে নিয়েছিলেন সেদিনেই। যেহেতু নিয়ত ছাড়া বলেছেন তাই উঠিয়ে না নিলে কি কোনো সমস্যা হবে । উনি আমাকে শাসন করার জন্যে বলেছেন তালাকের কোনো নিয়ত ছিলো না আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে ওসিডি ট্রিটমেন্ট চলছে।

Answer

উত্তর

প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনার প্রশ্নটি মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে:

  1. স্বামী কর্তৃক শর্তযুক্ত তালাক দেওয়ার বিষয়টি
  2. মনের মধ্যে খেয়াল/চিন্তা আসার কারণে তালাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
  3. ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) ও OCD সমস্যার কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি

১. শর্তযুক্ত তালাকের বিধান

আপনার স্বামী যদি বলেন যে, "cheating করলে তালাক হয়ে যাবে" — এটি একটি শর্তযুক্ত তালাক (তালাক معلق)। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

ক) নিয়তের গুরুত্ব:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)

আপনার স্বামী যদি নিয়ত ছাড়া শুধু ভয় দেখানোর জন্য বা রাগের মাথায় বলে থাকেন, এবং তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শর্তযুক্ত তালাক দেননি, তাহলে সে ক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হবে না

খ) শর্ত পূরণ না হলে:

যেহেতু আপনি কোনো cheating করেননি, তাই শর্ত পূরণ হয়নি। শর্ত পূরণ না হলে তালাক কার্যকর হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

গ) শর্ত পূরণ হলে:

যদি শর্ত পূরণ হতো (অর্থাৎ আপনি সত্যিই cheating করতেন), তাহলে নিয়তের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত হতো। যেহেতু স্বামীর নিয়ত ছিল না, তাই তালাক কার্যকর হতো না।

ঘ) উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়:

যেহেতু স্বামী সেদিনই উঠিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তার নিয়ত ছিল না, তাই কোনো সমস্যা নেই।


২. মনের মধ্যে চিন্তা আসার বিধান

আপনি বলেছেন যে, ক্লাসমেটের সাথে কথা বলার সময় মনের মধ্যে কিছু চিন্তা চলে এসেছে, যা ইচ্ছাকৃত ছিল না।

এ বিষয়ে ইসলামের স্পষ্ট বিধান:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা কথা বলে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"মনের খেয়াল-খুশাল ও ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো গুনাহ হয় না, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় এবং কাজে পরিণত হয়।"

সুতরাং, আপনার মনের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে আসা চিন্তার কারণে কোনো গুনাহ হবে না, তালাক তো দূরের কথা।


৩. ওয়াসওয়াসা (OCD) সম্পর্কিত নির্দেশনা

যেহেতু আপনি OCD ট্রিটমেন্ট নিচ্ছেন, এটি একটি মানসিক রোগ। ইসলামে এ ধরনের রোগীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

শাইখ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"ওয়াসওয়াসা একটি রোগ, এবং এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তার ওপর এ রোগের কারণে সৃষ্ট সন্দেহের কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে না।"

আপনার জন্য বিশেষ নির্দেশনা:

  1. ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, "যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করবে, তা দূর হয়ে যাবে।"

  2. চিকিৎসা চালিয়ে যান: OCD একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। আপনার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

  3. স্বামীর সাথে কথা বলুন: আপনার স্বামীকে আপনার OCD সমস্যা সম্পর্কে জানান, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে আপনার মনের চিন্তাগুলো রোগের কারণে হয়, ইচ্ছাকৃত নয়।


৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. স্বামী শর্তযুক্ত তালাক দেননি — তিনি নিজেই তা নিশ্চিত করেছেন
  2. তার নিয়ত ছিল না — শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন
  3. তিনি সেদিনই তা উঠিয়ে নিয়েছেন
  4. আপনি কোনো cheating করেননি
  5. আপনার মনের চিন্তা ইচ্ছাকৃত ছিল না

সুতরাং, আপনার তালাক কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে।


৫. ওয়াসওয়াসা দূর করার দোয়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ ওয়াসওয়াসা দূর করার জন্য বলেছেন:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ "আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই"

এবং বলেছেন:

آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ "আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি" (সহীহ মুসলিম: ১৩৪)


সংক্ষেপে: আপনার কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ। তালাক কার্যকর হয়নি এবং হবে না। আপনার ওয়াসওয়াসার কারণে সৃষ্ট সন্দেহগুলো উপেক্ষা করুন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যান। আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ "আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.