হায়েজ শেষ হওয়া ভেবে সহবাসের কাফফারা
Taharah Purity · Hanafi
Question
বিকাল ৪ টার দিকে আমার স্ত্রী সহবাসের জন্য আগ্রহ দেখায়। আমি বলি, আজকেই শেষ হয়েছে যেহেতু তাই রিস্ক না নিয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এতে সেও রাজি হয়ে যায়।
এরপর ঘুমিয়ে পড়ি। বিকাল ৫ টার দিকে ঘুম ভেঙে যায় আর আমি উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলি। এরপর কেমন যেন সন্দেহ তৈরি হয়। স্ত্রী কে বললে সে বলে সমস্যা নেই। রক্ত তো আসা বন্ধই হয়েছে।
কিন্তু সন্ধ্যা ৬ টার দিকে আবার ১ ফোটা রক্ত দেখতে পায়।
এখন, হায়েজ অবস্থায় সহবাসের তো ভয়ংকর হাদিস এসেছে। স্বর্ণ সদকার কথা বলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন
Answer
উত্তর: হায়েজ অবস্থায় সহবাসের গুনাহ ও করণীয়
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: আপনার স্ত্রীর হায়েজের রক্ত সকালে বন্ধ হয়ে যায়, তিনি দুপুরে গোসল করেন। বিকালে ঘুমন্ত অবস্থায় উত্তেজিত হয়ে আপনি সহবাস করেন। পরে সন্ধ্যায় আবার এক ফোঁটা রক্ত দেখা যায়।
শর‘ঈ বিধান:
১. হায়েজ অবস্থায় সহবাস করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
“যে ব্যক্তি হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, সে একটি দীনার বা অর্ধ দীনার সদকা করবে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২১৬৮; তিরমিযী, হাদীস: ১৩৭; নাসাঈ, হাদীস: ২৮৯)
তবে হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এই সদকা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব (উত্তম)। (ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৪; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪২২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪৪)
২. আপনাদের ঘটনায় স্ত্রী তখনও হায়েজ অবস্থায় ছিলেন। কারণ হায়েজ বন্ধ হয়ে গোসল করলেও যদি ১০ দিনের মধ্যে পুনরায় রক্ত আসে, তবে পূর্বের বিরতি একটি সাময়িক বিরতি (সুকুন) গণ্য হবে এবং পুরো সময়টাই হায়েজ বলে গণ্য হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৭; হেদায়া, ১/৩৪)
সুতরাং আপনার সহবাস হায়েজ অবস্থায়ই হয়েছে।
করণীয়:
১. তওবা ও ইস্তিগফার: আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করুন, গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং ভবিষ্যতে এমন না করার দৃঢ় সংকল্প করুন। দুই রাক‘আত সালাতুত তওবা পড়া উত্তম।
২. স্ত্রীর গোসল ও নামায:
- স্ত্রীর জন্য সন্ধ্যায় দেখা রক্তটি যদি আর না আসে এবং তিনি নিশ্চিত হন যে হায়েজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে, তাহলে তিনি গোসল করে নামায পড়তে পারবেন। কিন্তু যদি ১০ দিনের মধ্যে পুনরায় রক্ত আসে, তবে সেটা হায়েজই থাকবে।
- উভয় অবস্থায়, হায়েজ শেষ হওয়ার পর পূর্ণ একবার গোসল করাই যথেষ্ট।
৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা:
- হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর অন্তত একবার পূর্ণ দিন (২৪ ঘণ্টা) রক্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা সুন্নত। অনেক আলিম এক দিনের পবিত্রতা (তুহর) অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে সন্দেহ দূর হয়। (বেহেশতী জেওর, ১/১২০)
- উত্তেজিত অবস্থায় সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং স্ত্রীর হায়েজ চক্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখা জরুরি।
মোটকথা: আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং আগামীতে দ্বীনি জ্ঞান অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ক্ষমাশীল।
সূত্র ও নির্ভরযোগ্য কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন), ১/২৯৩-২৯৪
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী), ১/৪২১-৪২২
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানবী), ১/২৪৪
- ফাতাওয়া আলমগীরী (হানাফী), ১/৩৭
- বেহেশতী জেওর (মুফতি কারী মুহাম্মদ তায়েব), ১/১২০-১২১
- মা‘আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী), সূরা বাকারা: ২২২-এর তাফসীর
আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।