মেয়ের ছবি অন্যদের কাছে থাকলে এখন গুনাহ কার হবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
মেয়েটির ওপর সে সময় গুনাহ হয়েছে যখন তিনি ছবি তোলার সময় পর্দা করছিলেন না। বর্তমানে সেই ছবি নন-মাহরামের কাছে থাকলেও মেয়েটির ওপর নতুন করে কোনো গুনাহ হচ্ছে না – যদি তিনি তা অপসারণের চেষ্টা করে থাকেন বা তার পক্ষে তা সম্ভব না হয়। তবে যদি তিনি সক্ষম হন (যেমন নিজের ছবি ডিলিট করানো) এবং তা না করেন, তাহলে গুনাহগার হবেন।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
ইসলামী শরিয়তে নারীদের জন্য অ-মাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ। কুরআনে বলা হয়েছে:
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
(সূরা আন-নূর ২৪:৩১)
অর্থ: "মুমিন নারীদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া।"
যখন একটি মেয়ে পর্দা না করে ছবি তোলে এবং তা নন-মাহরামের কাছে যায়, তখন নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনায় আসে:
১. ছবি তোলার সময়কার গুনাহ
মেয়েটি যখন ছবি তোলার সময় পর্দা করেনি, তখনই সে গুনাহ করেছে। এটি একটি স্বতন্ত্র পাপ এবং এর জন্য তাকে তওবা করতে হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফী ইমামগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য্য পোষণ করেন যে, অ-মাহরামের সামনে পর্দা না করা কবিরা গুনাহ।
২. বর্তমানে ছবি বিদ্যমান থাকায় গুনাহ
এ বিষয়ে হানাফী ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) ও ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) তে বলা হয়েছে:
- যে ব্যক্তি নিজের ছবি অ-মাহরামের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে, সে তার জন্য দায়ী।
- কিন্তু যদি ছবিটি তার অনুমতি ছাড়া বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যদের কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে সে শুধুমাত্র প্রথমবারের (তোলার সময়) গুনাহের জন্য দায়ী। পরবর্তীতে অন্যরা দেখলে তার ওপর নতুন গুনাহ হবে না, যতক্ষণ না সে সেটি অপসারণে সক্ষম হয় এবং চেষ্টা না করে।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) মাআরিফুল কুরআন-এ বলেন:
"মেয়েটি যদি বর্তমানে পর্দা করে এবং তার ছবি পূর্বে তোলা অবস্থায় নন-মাহরামের কাছে থাকে, তবে তার কর্তব্য হলো যতদূর সম্ভব সে ছবিটি সরানোর চেষ্টা করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সে এর জন্য দায়ী হবে না। তবে তাকে অতীতের গুনাহের জন্য তওবা করতে হবে।"
৩. যদি মেয়েটি এখন পর্দা করে
বর্তমানে যদি মেয়েটি পর্দা করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার অতীতের তওবা কবুল করবেন। কিন্তু যদি তার ছবি এখনও নন-মাহরামের কাছে থেকে যায় এবং সে তা সরানোর কোনো চেষ্টা না করে, তাহলে সে প্রতিবার যখন জানবে যে তার ছবি কেউ দেখছে, এবং সে তা অপসারণে সক্ষম, তখন সে গুনাহগার হবে। (যেমন ফাতাওয়া হিন্দিয়া ও ইমদাদুল ফাতাওয়ায় উল্লেখ আছে)
৪. হানাফী স্কলারদের মতামত
| বিবরণ | উদ্ধৃতি | |--------|---------| | পর্দাহীন অবস্থায় ছবি তোলা গুনাহ | ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী) | | অ-মাহরামের কাছে ছবি থাকলে তার দায়িত্ব | ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) – খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮৫ | | বর্তমানে সক্ষম হলে অপসারণ করা ওয়াজিব | রদ্দুল মুহতার – খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৭১ | | তওবা করলে অতীত ক্ষমা, কিন্তু ছবি থাকলে চেষ্টা করা জরুরী | বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী) – দশম অধ্যায় |
উপসংহার
মেয়েটির জন্য:
- তার অতীতের গুনাহ (ছবি তোলার সময় পর্দা না করার) আছে। আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং পুনরায় এমন না করার সংকল্প করতে হবে।
- বর্তমানে যদি সে জানে যে তার ছবি নন-মাহরামের কাছে আছে এবং সে তা অপসারণ করতে সক্ষম (যেমন নিজের ফোন থেকে ডিলিট করা, বা সম্পর্কিত ব্যক্তিকে মুছে ফেলতে বলা), তাহলে তা অপসারণ করা তার ওপর ওয়াজিব। অন্যথায় সে নতুন করে গুনাহগার হবে।
- যদি তার পক্ষে অপসারণ সম্ভব না হয় (যেমন অপরিচিত কারো কাছে ছবি চলে গেছে, বা তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই), তাহলে তার আর কোনো গুনাহ নেই। সে কেবল অতীতের জন্য তওবা করবে।
সারমর্ম: "এখন কি মেয়েটার গুনাহ হবে?" – না, অতীতের গুনাহ রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে শুধু তখনই গুনাহ হবে যদি সে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ছবি অপসারণ না করে। অন্যথায় গুনাহের বোঝা ওই ব্যক্তির ওপরই যার কাছে ছবি আছে এবং যে তা দেখছে।
আল্লাহ তাওবা কবুল করুন।