গোসলের পানি মেঝেতে পড়লে কি পুরো মেঝে নাপাক হয়?
Taharah Purity · Hanafi
Question
প্রশ্ন হলো, ওই নাপাক পানি পরিষ্কার করতে কি আমার পুরো ফ্লোর পরিষ্কার করা আবশ্যক? নাকি ওই তরল নাপাকি দূর হওয়া নিশ্চিত হওয়াই যথেষ্ট?
আমার এই প্রশ্নের কারণ হলো, ওই গোসলের পানি নাপাক হলে তো ওই পুরো পানিটাই নাপাকির মধ্যে পড়ে এবং ফ্লোরের যে যে জায়গায় তা পড়ে তা পরিষ্কার করা আবশ্যক হয়ে যায় না?
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার প্রশ্ন: গোসলের সময় যদি মেঝেতে আগে থেকে তরল নাপাকি থাকে অথবা গোসলরত অবস্থায় শরীর থেকে তরল নাপাকি (যেমন- পেশাব, বীর্য) নির্গত হয়, তাহলে সেই পানি নাপাক হয়ে যায়। এখন সেই নাপাক পানি মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করতে পুরো মেঝে ধোয়া জরুরি, নাকি শুধু মূল নাপাকি দূর করাই যথেষ্ট?
হানাফি মতে উত্তর
হ্যাঁ, পুরো মেঝে পরিষ্কার করা জরুরি নয়, তবে যেখানে নাপাক পানি পৌঁছেছে সেই জায়গাগুলো অবশ্যই ধুতে হবে। শুধুমাত্র মূল নাপাকি দূর করাই যথেষ্ট নয়। কারণ নাপাক পানি নিজেও নাপাক এবং এটি যেখানেই পড়েছে, সেটিকে নাপাক করে দিয়েছে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী:
-
পানি নাপাক হওয়া: অল্প পরিমাণ পানি (যেমন ১০x১০ হাতের কম) নাপাকির সংস্পর্শে এলে তা নাপাক হয়ে যায়। গোসলের পানি সাধারণত কম পরিমাণ হয়, তাই তা নাপাক হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/১৯৯)
-
নাপাক পানির প্রভাব: এই নাপাক পানি মেঝেতে পড়লে মেঝের ঐ অংশ নাপাক হয়ে যায়। শুধু মূল নাপাকির স্থান নয়, বরং যেখানে নাপাক পানি ছড়িয়েছে, সব জায়গা নাপাক গণ্য হবে। (বাহিশতি জেওর, পবিত্রতা অধ্যায়)
-
পরিষ্কারের পদ্ধতি: মেঝে পরিষ্কার করতে হবে নাপাক পানির সংস্পর্শে আসা প্রতিটি জায়গা। সাধারণত টাইলস বা মসৃণ মেঝের ক্ষেত্রে:
- পেশাবের মতো নাপাকির জন্য একবার পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলা যথেষ্ট, তবে নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) না থাকা পর্যন্ত ধুতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪০)
- বীর্যের মতো নাপাকি শুকিয়ে গেলে ঘষে তুললেই পবিত্র হয়, কিন্তু তরল অবস্থায় পানি ঢেলে ধুতে হবে। (হেদায়া, ১/২৩)
- পানি যেখানে ছিটকে পড়েছে, সেই জায়গাগুলো পানি ঢেলে ধুয়ে দিতে হবে। পুরো মেঝে ধোয়ার প্রয়োজন নেই যদি পানি পুরো মেঝেতে না ছড়ায়।
আপনার যুক্তির জবাব
আপনি ঠিকই বলেছেন: নাপাক পানি যেখানে পড়ে, সেই জায়গাগুলো নাপাক হয়। তাই শুধু মূল নাপাকি সরিয়ে ফেললেই ওই জায়গাগুলো পবিত্র হবে না, কারণ নাপাক পানি নিজেই নাপাকি বহন করে। তাই আপনাকে নাপাক পানি ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি স্থান ধুতে হবে।
ব্যবহারিক সমাধান
- প্রথমে নাপাক পানির বিস্তার লক্ষ্য করুন। যদি পুরো মেঝে ভিজে থাকে, তাহলে পুরো মেঝে ধুতে হবে।
- যদি শুধু কিছু অংশ ভিজে থাকে, তাহলে শুধু সেই অংশ ধুলেই যথেষ্ট।
- মেঝে শুকানোর আগে নাপাক পানি অন্যত্র সরিয়ে ফেললে (যেমন নালায় ফেলে দিলে) সেই অংশ নাপাক হবে না। কিন্তু তা করার পরেও যেখানে পানি লেগেছে, তা ধুতে হবে।
প্রাসঙ্গিক হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি
- রদ্দুল মুহতার (১/১৯৯): "পানি নাপাক হওয়ার শর্ত হলো, নাপাকির প্রভাব পানিতে স্থানান্তরিত হওয়া। অল্প পানির ক্ষেত্রে এক ফোঁটা নাপাকিও পুরো পানি নাপাক করে।"
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৪০): "যদি নাপাক পানি মেঝেতে পড়ে, তবে মেঝের ঐ অংশ ধুতে হবে। পানি প্রবাহিত হলে যেখানে থেমেছে, সেখান পর্যন্ত ধুতে হবে।"
- বাহিশতি জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়): "নাপাক পানি পড়লে সেটি নাপাক স্থান থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং ঐ জায়গা তিনবার বা একবার ধুতে হবে (নাপাকির ধরন অনুসারে)।"
উপসংহার
আপনার জন্য করণীয়:
- নাপাক পানি যেখানে পড়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
- প্রতিটি জায়গায় পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলুন (একবার যথেষ্ট, যদি চিহ্ন না থাকে)।
- শুধু মূল নাপাকি সরানো যথেষ্ট নয়; নাপাক পানি ছড়িয়ে পড়া জায়গাগুলোও ধুতে হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।