সোনা লেনদেনে কম মূল্য পরিশোধ ও অতিরিক্ত সোনার ধাবীঃ করণীয় কি হতে পারে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর
আপনার প্রশ্নটি দুটি লেনদেনের সাথে সম্পর্কিত:
১. সোনা বিক্রির সময় কম মূল্য পরিশোধ (আপনার কাছ থেকে ২২০০ টাকা বেশি নেওয়া)
২. সোনা বানানোর সময় অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট সোনার দাবি (৫৯০০ টাকা ও বাকি ৩০০ টাকা)
নিম্নে উভয় বিষয়ে শরয়ী বিধান দেওয়া হলো:
১. সোনা বিক্রির সময় কম মূল্য পরিশোধ
আপনি যখন আংটি ও দুল বিক্রি করেছেন, তখন ক্রেতা (যিনি স্বর্ণকার) আপনার কাছ থেকে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনে ২১ ক্যারেটের দাম দিয়েছেন, অথচ তিনি স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই করে নিয়েছেন। এটি প্রতারণা ও জুলুমের শামিল। শরীয়তে কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ"
"তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
হাদীসে এসেছে:
"মুসলিম মুসলিমের ভাই। কারো জন্য তার ভাইয়ের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৪৮৫০)
সুতরাং, উক্ত ব্যক্তি আপনার কাছ থেকে ২২০০ টাকা বেশি নিয়েছে, যা তার জন্য হারাম এবং আপনি তা ফেরত চাইতে পারেন। তবে আপনি তখন হিসাব বুঝতে না পারায় কিছু বলেননি। এখন আপনি তার কাছে দাবি করতে পারেন। এ টাকা পরিশোধ করা আপনার জন্য জরুরি নয়; বরং উল্টো তার উচিত আপনার পাওনা ফেরত দেওয়া।
২. সোনা বানানোর সময় অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট সোনার দাবি
আপনি যখন সোনা বানাতে দিয়েছিলেন, তখন কারিগর বলেছেন যে, ২ পয়েন্ট সোনা বেশি লেগেছে। কিন্তু তিনি কোনো মেমো দেননি এবং মেরামতের মেমো হয় না বলে জানিয়েছেন। শরীয়তে মেমো বা লিখিত দলিল জরুরি নয়, তবে প্রমাণের জন্য তা উত্তম।
আপনার বক্তব্য: আপনি সন্দেহ করছেন যে, তিনি আগেও প্রতারণা করেছেন, তাই হয়তো এখনও সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কারিগরের দাবি: তিনি প্রকৃতপক্ষে ২ পয়েন্ট বেশি সোনা ব্যবহার করেছেন।
শরয়ী নীতি:
- সাধারণত, কারিগর যদি দাবি করে যে, অতিরিক্ত সোনা লেগেছে, তাহলে তার কথা প্রমাণ বা শপথের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হবে।
- কিন্তু যেহেতু তিনি আগে প্রতারণা করেছেন, তাই তার দাবি সন্দেহজনক। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, তিনি মিথ্যা বলছেন, তাহলে তার দাবি মানা জরুরি নয়।
- তবে, আপনি যদি পুরোপুরি নিশ্চিত না হন, তাহলে আপস-নিষ্পত্তি উত্তম। আপনি চাইলে কিছু টাকা কমিয়ে দিতে পারেন।
৩০০ টাকার বাকি দাবি:
এটি যদি প্রকৃতপক্ষে মেরামতের অতিরিক্ত খরচ হয় এবং আপনি সম্মত হয়ে থাকেন, তাহলে তা পরিশোধ করা জরুরি। কিন্তু যেহেতু তিনি মেমো দেননি এবং আপনার সন্দেহ আছে, তাই এটাও আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা ভালো।
পরামর্শ
১. আপনি তার সাথে বসে পুরো হিসাব মিলিয়ে নিন। তাকে বোঝান যে, তিনি প্রথম লেনদেনে ২২০০ টাকা বেশি নিয়েছেন। এটি ফেরত দেওয়া তার জন্য ধর্মীয় দায়িত্ব।
২. দ্বিতীয় লেনদেনে যদি তিনি সত্যিই অতিরিক্ত সোনা দিয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রমাণ চান। তিনি যদি প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে তা পরিশোধ করুন। আর যদি না পারেন, তাহলে শপথের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।
৩. উভয় পক্ষের স্বার্থে মীমাংসা (আপস) উত্তম। আপনি তাকে বলতে পারেন: ২২০০ টাকার বিপরীতে আপনি ৩০০ টাকা না দিয়ে বাকি হিসাব মিটিয়ে দিতে চান। অর্থাৎ, আপনি তাকে ২২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেটে ১৯০০ টাকা দাবি করতে পারেন।
৪. যদি তিনি না মানেন, তাহলে স্থানীয় আলেম বা সালিশি কমিটি (মধ্যস্থতাকারী) এর মাধ্যমে সমাধান করুন।
সংক্ষেপে উত্তর
- আপনার ২২০০ টাকা ফেরত পাওয়া আপনার অধিকার। আপনি তা দাবি করতে পারেন।
- কারিগরের বাকি ৩০০ টাকা যদি প্রকৃত অতিরিক্ত সোনার মূল্য হয় এবং আপনি নিশ্চিত হন, তাহলে তা দিন। অন্যথায়, আপস করুন বা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন।