ওযুর পানি ব্যবহৃত হয় কখন, পাত্রে হাত ডুবিয়ে ওযু করা কি জায়েজ?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3126
Questioner: Tahmina Akter
Question Asked: 26 Jul 2026, 12:49 AM
Reviewed & Published: 26 Jul 2026, 02:52 AM
Views: 27
Tokens: 9,753
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

https://ifatwa.info/807/?fbclid=IwVERDUATR4QlleHRuA2FlbQIxMABzcnRjBmFwcF9pZAwzNTA2ODU1MzE3MjgAAR4eM4a9Kp0dj0LHdJhaC3NzQdsRXqgZEz1xyQW3UtOZeEQOJKtxOziJW3_bMg_aem_uEQx1r0U57qnP_ZgOg3eT

নরমালি নাকি ব্যাবহৃত পানি দারা ওযু হয় না।তবে ব্যাবহৃত পানির চেয়ে অব্যাহত পানি বেশি থাকলে হয়ে যায়।এ উপরের ফতোয়া বলা ছোট পাত্র থেকে ওজু করার জন্য হাত দারা চিল্লু ভরে পানি নেয়ার পর সে পানি দিয়ে ওজু গোছল যায়েজ আছে।কোন পাত্রে এক আঙুল বা কয়েক আঙুল ডুবালে তখন এর দারা সারা পাত্র ব্যাবহৃত হবে না।বরং ঐ পানিই নাকি ব্যাবহৃত বলে গন্য হবে যা আঙুলের সাথে লেগে গিয়ে আবার টপকে পড়ে গিয়েছে। এছাড়া অবশিষ্ট পানি অব্যাহত হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।
তো আমি ওযু করার সময় নরমালি হাতের কবজি পর্যন্ত মগে ডুকিয়েই ধুই বা ভেজাই। হয়তো একটু পানি বের করে উপরের অংশ ধুই। পরে বাকি পানি দিয়ে ওযুর বাকি কাজ করি।যদিও হাতের কবজি ভেজাইছি বাট মগ থেকে বের করার পর তো এত পানি টপকে পড়ে নাই তাই ওযু হবার কথা। কিন্তু
https://www.ifatwa.info/58570/?fbclid=IwVERDUATR4LJleHRuA2FlbQIxMABzcnRjBmFwcF9pZAwzNTA2ODU1MzE3MjgAAR7rHQPAgdzAqr0ckgemN-gUxUP_9YNbYm18c6ZMx_A56pmTqSqPo6Vsya5veg_aem_1nVxG4wKq6n2DGv0ewNkkQ

এই ফতোয়া মতে আবার বলছে তিনবার কবজি পর্যন্ত মগে থাকা অবশিষ্ট পানি দিয়েই ওযুর বাকি কাজ সম্পন্ন করেছে একজন যেন সব অংশে পানি পৌছায়।তাই এই পানি ব্যাবহৃত হয়ে গেছে। এ পানি দারা ওযুর বাকি কাজ সম্পন্ন করলে, ওযু হবে না।
সব বিবেচনায় আমার ওজু ঐ ভাবে যেগুলো করছি তা কি একেবারেই হয় নি।এভাবে ওযু করার পর যে নামাজগুলো পড়ছি তার কি হবে?কত বার এভাবে করছি মনেও নেই। আমি তো জানতামও না এই গুলো।এখন কি হবে? কি করব?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি ওযুর পানি ব্যবহারজনিত একটি জটিল মাসআলা নিয়ে। সংক্ষেপে বলব, হানাফি মতে ওযুর পানি ব্যবহারের (মুস্তা‘মাল) হওয়ার মূলনীতি হলো: যখন কোনো অঙ্গ ধোয়ার পানি অঙ্গ থেকে পৃথক হয়ে পড়ে, তখন ওই পানি ‘ব্যবহৃত’ (মুস্তা‘মাল) গণ্য হয়। আর পাত্রের ভেতরে থাকা পানি ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যবহৃত থাকে, যতক্ষণ না অঙ্গটি পাত্রের ভেতরেই ধোয়া হয়।


প্রথম ফতোয়া (ifatwa.info/807)

এই ফতোয়া অনুসারে, পাত্রে আঙুল ডুবানোর পর শুধু আঙুলের সাথে লেগে থাকা ও টপকে পড়া পানি ব্যবহার হয়; পাত্রের বাকি পানি অব্যবহৃত থাকে। এটি হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রদ্দুল মুহতার (১/১৭২)-এ এসেছে:

الْمُسْتَعْمَلُ مَا انْفَصَلَ عَنْ الْعُضْوِ بَعْدَ غَسْلِهِ، فَمَا بَقِيَ فِي الْإِنَاءِ لَيْسَ بِمُسْتَعْمَلٍ إلَّا إذَا غَسَلَ يَدَهُ فِيهِ
অর্থ: মুস্তা‘মাল পানি ওই পানি যা অঙ্গ ধোয়ার পর অঙ্গ থেকে পৃথক হয়। পাত্রে অবশিষ্ট পানি মুস্তা‘মাল নয়, যতক্ষণ না কেউ পাত্রের ভেতরে তার হাত ধুয়ে ফেলে।

নূরুল ইযাহ ও তার ব্যাখ্যা মারাকিল ফালাহ-তেও একই কথা বলা হয়েছে।


দ্বিতীয় ফতোয়া (ifatwa.info/58570)

এই ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কেউ যদি তিনবার কবজি পর্যন্ত হাত পাত্রে ডুবিয়ে (অর্থাৎ পাত্রের ভেতরেই হাত ধুয়ে) সেই পানি দিয়েই ওযুর বাকি কাজ সম্পন্ন করে, তাহলে ওই পানি মুস্তা‘মাল হয়ে যাবে এবং তা দিয়ে ওযু সহীহ হবে না। কারণ এখানে হাত পাত্রের ভেতরে ধোয়া হয়েছে। সুতরাং পাত্রের সবটুকু পানি মুস্তা‘মাল গণ্য। এটি হানাফি মাজহাবের দ্বিতীয় একটি মত, যা ইবনে আবেদীন (রহ.) গ্রহণ করেছেন।


আপনার পদ্ধতির বিচার

আপনি বলেছেন, ওযুর সময় হাতের কবজি পর্যন্ত মগে ডুবিয়ে হাত ভেজান বা ধুয়ে নেন, তারপর মগ থেকে হাত বের করে কিছু পানি নিয়ে উপরের অংশ ধুয়ে নেন এবং বাকি পানি দিয়ে ওযুর অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেন।

দুইটি সম্ভাবনা:

১. যদি আপনি কেবল হাত ভেজানোর জন্য ডুবিয়েছেন (ধোয়া ছাড়া) – তাহলে প্রথম ফতোয়া অনুযায়ী পাত্রের বাকি পানি অব্যবহৃত থাকে। আপনার ওযু সহীহ।
২. যদি আপনি পাত্রের ভেতরেই হাত ঘষে-মেজে ধুয়ে ফেলেন – তাহলে দ্বিতীয় ফতোয়া অনুযায়ী পাত্রের সব পানি মুস্তা‘মাল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ওই পানি দিয়ে ওযুর বাকি কাজ করলে ওযু সহীহ হবে না।

আপনার বর্ণনা থেকে পরিষ্কার নয় যে আপনি পাত্রের ভেতরেই হাত ঘষে ধুয়েছেন, নাকি শুধু ভিজিয়ে বের করে এনে বাইরে ধুয়েছেন। আপনি বলেন: “হয়তো একটু পানি বের করে উপরের অংশ ধুই।” এটি থেকে বোঝা যায় যে আপনি হাত বের করে কিছু পানি নিয়ে উপরের অংশ ধুয়েছেন – কিন্তু পাত্রের ভেতরে হাত ধোয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।


আপনার অতীত ওযু ও নামাজের বিধান

  • আপনি যদি প্রথম ফতোয়ার মত অবগত ছিলেন বা কোনো আলেমের পরামর্শে এভাবে করতেন, তাহলে আপনার ওযু ও নামাজ সহীহ will। কেননা ইজতিহাদ ও অজ্ঞতার কারণে ভুল করলে তা ধর্তব্য হয় না।
  • আর যদি এখন নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনি পাত্রের ভেতরেই হাত ধুয়ে ফেলতেন (যাতে পানি মুস্তা‘মাল হয়ে যেত), তাহলে অতীতের নামাজগুলো পুনরায় পড়া জরুরি নয়, কারণ আপনার জানা ছিল না। তবে ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়া উচিত।
  • হাদিসের আলোকে আল্লাহ বলেন:

    رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا (সূরা বাকারাহ: ২৮৬)
    “হে আমাদের রব! আমাদেরকে পাকড়াও করো না যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি।”


ভবিষ্যতের জন্য সমাধান

ওযু করার সময় পাত্রের ভেতরে হাত না ডুবিয়ে বরং হাতের সাহায্যে পানি নিয়ে আলাদাভাবে ধোয়া উচিত। এটি সর্বাধিক নিরাপদ পদ্ধতি। যদি ছোট পাত্র থেকে ওযু করেন, তাহলে পানি হাতে নিয়ে ঢেলে ধুয়ে নিন। অথবা একটি আলাদা ছোট গ্লাসে পানি নিয়ে তা দিয়ে ওযু করুন।


উপসংহার

  • আপনার বর্তমান পদ্ধতি যদি শুধু হাত ভেজানোর জন্য মগে ডোবানো হয় (ধোয়া ছাড়া), তাহলে ওযু সহীহ।
  • যদি আপনি পাত্রের ভেতরেই হাত ঘষে-মেজে ধুয়ে ফেলেন, তাহলে দ্বিতীয় ফতোয়া অনুযায়ী ওযু সহীহ হয়নি। তবে অজ্ঞতাবশত ওই ওযুর নামাজগুলো পুনরায় পড়তে হবে না। ভবিষ্যতে সতর্ক হোন।
  • মাসআলার জটিলতা এড়াতে ওযুতে পাত্রের পানি সরাসরি ব্যবহার না করে হাতে নিয়ে ধোয়াই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনার ইবাদত কবুল করুন এবং সহজ পথ দেখান।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.