ফরজ গোসলের পর বাথরুমের ফ্লোরে জমে থাকা পানি কি নাপাক?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন: ফরজ গোসলের পর বাথরুমের ফ্লোরে জমে থাকা পানি কি নাপাক?
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
ফরজ গোসল করার পর বাথরুমের ফ্লোরে যে পানি জমে থাকে, তা সাধারণত নাপাক নয়। কারণ ফরজ গোসলের পানি নিজে পাক, এবং মেঝে যদি আগে থেকে নাপাক না থাকে, তাহলে ওই পানি পাকই থাকে। তবে মেঝে যদি নাপাক থাকে বা গোসলের সময় শরীর থেকে কোনো নাপাকি (যেমন পেশাব, পায়খানা, বীর্য ইত্যাদি) মেঝেতে পড়ে, তাহলে ওই পানি নাপাক হয়ে যেতে পারে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ফরজ গোসলের পানি পাক। কারণ গোসলের উদ্দেশ্য হলো পবিত্রতা অর্জন করা, এবং গোসলের পানি নিজে পাক। শুধুমাত্র যদি পানি নাপাকির সংস্পর্শে আসে বা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়, তাহলে তা নাপাক হয়।
রদ্দুল মুহতার (১ম খণ্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা) এবং ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১ম খণ্ড, ২৩ পৃষ্ঠা) অনুযায়ী:
- যে পানি দিয়ে গোসল করা হচ্ছে, তা যদি পাক হয় এবং গোসলের সময় শরীর থেকে নাপাকি (যেমন বীর্য বা পেশাব) মেঝেতে না পড়ে, তাহলে মেঝেতে জমে থাকা পানি পাক।
- কিন্তু যদি মেঝে আগে থেকে নাপাক ছিল বা গোসলের সময় শরীর থেকে কোনো নাপাকি মেঝেতে পড়ে, তাহলে ওই পানি মিশে নাপাক হয়ে যাবে।
ফ্লোর নাপাক হলে পরিষ্কার করার পদ্ধতি
যদি মেঝে নাপাক হয় (যেমন পেশাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি লেগে থাকে), তাহলে:
- ভেজা নাপাকি থাকলে: পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। নাপাকি সম্পূর্ণ দূর না হওয়া পর্যন্ত পানি ঢালতে হবে এবং পানি নিষ্কাশন করতে হবে।
- শুকনো নাপাকি থাকলে: নাপাকি স্থানটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর না হওয়া পর্যন্ত ধুতে হবে।
ইমদাদুল ফাতাওয়া (১ম খণ্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা) ও বেহেশতি জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়) অনুযায়ী:
- নাপাক মেঝে পাক করতে হলে তিনবার পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলা উত্তম। তবে একবার ভালোভাবে ধুয়ে নাপাকির চিহ্ন দূর হলে একবারই যথেষ্ট।
- পানি ব্যবহারের পর মেঝে যদি পানি শোষণ করে (যেমন মাটির মেঝে), তাহলে মেঝে শুকিয়ে গেলে পাক বলে গণ্য হবে।
পানি শুকিয়ে গেলে করণীয়
যদি নাপাক পানি মেঝেতে পড়ে শুকিয়ে যায়, তাহলে:
- নাপাকির চিহ্ন থাকলে: (যেমন দাগ, গন্ধ, স্বাদ) - মেঝে এখনও নাপাক। চিহ্ন দূর না হওয়া পর্যন্ত ধুতে হবে।
- নাপাকির চিহ্ন না থাকলে: মেঝে পাক বলে গণ্য হবে। তবে সতর্কতা হিসেবে একবার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উত্তম।
ফাতাওয়া উসমানি (২য় খণ্ড, ৭৯ পৃষ্ঠা) অনুযায়ী: নাপাকি শুকিয়ে গেলে এবং চিহ্ন না থাকলে মেঝে পাক ধরা যাবে, কারণ নাপাকি বিলীন হয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
- সাধারণত বাথরুমের মেঝেতে পাক-নাপাকি নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করা উচিত নয়। যতক্ষণ নিশ্চিত না হন যে নাপাকি লেগেছে, ততক্ষণ পাক ধরে নিন।
- ফরজ গোসলের পর মেঝেতে জমে থাকা পানি সাধারণত পাক, কারণ এটি গোসলের পানি যা পাক। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে মেঝে নাপাক ছিল, তাহলে সেটি পরিষ্কার করে নিন।
- ইসলামে সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা (শয়তানি প্ররোচনা) থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত পাক-নাপাকি নিয়ে চিন্তা না করে সহজভাবে জীবনযাপন করুন।
কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স
১. কুরআন: "আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য সংকীর্ণতা চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্রতা ও স্বাচ্ছন্দ্য চান।" (সূরা বাকারা: ১৮৫)
২. হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পানি পাক এবং তা কাউকে নাপাক করে না।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬৬; তিরমিজি, হাদিস: ৬৬)
৩. ইবনে আবidin (রদ্দুল মুহতার) বলেছেন: "যে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়, তা নিজে পাক এবং অন্যদের পাক করে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)
চূড়ান্ত ফতোয়া
বাথরুমের ফ্লোরে জমে থাকা পানি সাধারণত পাক। যদি নিশ্চিত হন যে মেঝে নাপাক ছিল বা গোসলের সময় নাপাকি পড়েছে, তাহলে পরিষ্কার করে নিন। নাপাকি শুকিয়ে চিহ্ন না থাকলে মেঝে পাক। অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকুন।