স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে Cetearyl Alcohol ব্যবহার কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট যেমন ফেসওয়াস, ময়েশ্চারাইজার, লোশন,সোপ/শাওয়ার জেল ইত্যাদি প্রোডাক্ট হালাল সার্টিফাইড কেনা হয়েছে সেখানে আবার এলকোহল(cetearyl Alcohol) উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে কি এটা ব্যবহার করা জায়েজ হবে?
আবার ভেগান সার্টিফাইড প্রোডাক্ট এও এই এলকোহল উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে কি ভেগান সার্টিফাইড প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যাবে?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট (ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, লোশন, সোপ, শাওয়ার জেল) যেগুলো হালাল সার্টিফাইড এবং তাতে Cetearyl Alcohol (সিটিরাইল অ্যালকোহল) উপাদান হিসেবে উল্লেখ আছে, সেগুলো ব্যবহার করা জায়েজ। কারণ:
১. Cetearyl Alcohol কী?
Cetearyl Alcohol একটি ফ্যাটি অ্যালকোহল (Fatty Alcohol), যা সাধারণত উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন: নারিকেল তেল) বা পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত হয়। এটি ইথানল (مُسْكِر) নয়, বরং এটি একটি ইমালসিফায়ার এবং ঘনকারী (Thickener) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি পানীয় বা নেশা সৃষ্টিকারী নয়।
২. ইসলামী বিধান ও ফিকহী নীতি
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যে বস্তু پینے سے نشہ آور (পানে নেশা সৃষ্টিকারী) নয়, বরং তা প্রক্রিয়াজাত করে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তা পাক (পবিত্র) এবং হারাম নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২২৪; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৩৫৮)
- Cetearyl Alcohol কে "Alcohol" নাম দেওয়া হলেও এটি خمر (মদ) বা مسكر (নেশা সৃষ্টিকারী) নয়। তাই এটি বাহ্যিক ব্যবহারে (বডি ওয়াশ, ক্রিম ইত্যাদিতে) জায়েজ। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২২১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩৪)
- হালাল সার্টিফিকেট থাকা মানেই হলো, নির্ভরযোগ্য ইসলামিক সংস্থা কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে প্রোডাক্টটি শরীয়াহ সম্মত বলে সনদপ্রাপ্ত। তাই সেটি ব্যবহার করা আরো বেশী গ্রহণযোগ্য।
৩. ভেগান সার্টিফাইড প্রোডাক্ট
ভেগান সার্টিফাইড প্রোডাক্টে Cetearyl Alcohol থাকলেও তাতে কোনো হারাম উপাদান (যেমন: হারাম পশুর চর্বি, রক্ত ইত্যাদি) নেই বিধায়— সেটি ব্যবহার করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো, প্রোডাক্টের অন্যান্য উপাদানও হালাল ও পবিত্র হতে হবে।
৪. কুরআন ও হাদীসের দলীল
-
সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৯০):
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ
অর্থ: "হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো শয়তানের কাজের ন্যায় অপবিত্র।"
(ব্যাখ্যা: এখানে خمر (মদ) বলতে শুধু নেশা সৃষ্টিকারী পানীয়কেই বোঝানো হয়েছে, ফ্যাটি অ্যালকোহলকে নয়।) -
সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২০০৩):
كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
অর্থ: "প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই মদ, এবং প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।"
(ব্যাখ্যা: Cetearyl Alcohol নেশা সৃষ্টিকারী নয়, তাই এটি হারাম পর্যায়ভুক্ত নয়।)
৫. হানাফী ফিকহের মূলনীতি
- ফাতাওয়া শামী (১/২২৫):
"الْأَصْلُ فِي الْأَعْيَانِ الْإِبَاحَةُ حَتَّى يَثْبُتَ دَلِيلُ التَّحْرِيمِ"
অর্থ: "প্রত্যেক বস্তুর মূল বিধান হলো হালাল যতক্ষণ না হারামের প্রমাণ আসে।"
যেহেতু Cetearyl Alcohol হারাম প্রমাণিত নয়, তাই এটি ব্যবহার জায়েজ।
সৎ উপদেশ
আপনি যে প্রোডাক্টগুলো হালাল সার্টিফাইড বলেছেন, সেগুলো ব্যবহারে কোনো আপত্তি নেই। বরং, হালাল সার্টিফিকেট থাকা একটি অতিরিক্ত নিশ্চয়তা। ভেগান প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। তবে সর্বদা হালাল ও পবিত্র উপাদানযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারের চেষ্টা করুন এবং সংশয় থাকলে নির্ভরযোগ্য আলিম বা ফাতাওয়া বিভাগের সাথে যোগাযোগ করুন।
আল্লাহু তায়ালা সর্বোত্তম জানেন।