মাসিক শেষে কনফিউশন হলে
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার প্রশ্ন হল, ২-৩ বেলা বাদ দিয়ে হঠাৎ করে এরকম স্রাব দেখা গেলে তাহলে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? সে ক্ষেত্রে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব কিনা বুঝতে পারছি না। পুরোপুরি সাদাস্রাব ১৩ ১৪ তম দিনে আসে হয়তো। এর আগে কিছু বের না হলেও সাদা স্রাব আসে না, তিন চার বেলা বাদ দিয়ে হঠাৎ করে হালকা হলুদ স্রাব দেখা যায়। এক্ষেত্রে পবিত্রতা কিভাবে অর্জন করব? খুব কনফিউশনে থাকতে হয় সব সময়। গুনাহের ভয় হয়। প্রত্যেকবারই এরকমটা দেখা যায়। খুব আর্জেন্ট দয়া করে তাড়াতাড়ি জানাবেন
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, মাসিকের ৬ষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৭-১০ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ শুকনো বা সাদা/স্বচ্ছ স্রাব থাকে না, বরং হঠাৎ করে হালকা হলুদ বা বাদামি স্রাব দেখা যায়, যা ১৩-১৪ দিন পর্যন্ত চলতে থাকে এবং পরে ধীরে ধীরে সাদা হয়।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুসারে জবাবঃ
৬ষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হলে পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসার ব্যপারে আপনি নিশ্চিত না হলে সেক্ষেত্রে ৬ষ্ঠ দিনেই গোসল করে পবিত্র হোন।
- **৭-১০ দিনের মধ্যে যে হলুদ/বাদামি স্রাব আসলে সেটিকে হায়েজ ধরে পুনরায় ফরজ গোসল করবেন।
**৬ষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হলে পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসার ব্যপারে আপনি নিশ্চিত হলে সেক্ষেত্রে আপনি অপেক্ষা করবেন।
পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসা যখন বন্ধ হবে,তখন ফরজ গোসল করবেন।
*১০ম দিনেও যদি এই হলুদ/বাদামি স্রাব বন্ধ না হয়,বরং ১১ তম দিনেও আসে,সেক্ষেত্রে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে এই মাসে হায়েজ ধরবেন।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "যদি কোনো মহিলার রক্ত ১০ দিনের কম সময়ে বন্ধ হয় এবং তারপর সাদা স্রাব না আসে, তবে তার জন্য গোসল করা ওয়াজিব।" (১/২৮৪)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "মাসিকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ দিন। এর বেশি রক্ত ইস্তিহাজা।" (১/৩৮)
- বেহেশতি জেওর (মুফতি মুহাম্মদ শফি): "পবিত্রতার জন্য সাদা স্রাব দেখা জরুরি নয়; বরং রক্ত বন্ধ হলেই গোসল করে নামাজ শুরু করবে।" (পৃষ্ঠা ৪২)
সারসংক্ষেপ:
- ৬ষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হলে পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসার ব্যপারে আপনি নিশ্চিত না হলে সেক্ষেত্রে ৬ষ্ঠ দিনেই গোসল করে পবিত্র হোন।
- **৭-১০ দিনের মধ্যে যে হলুদ/বাদামি স্রাব আসলে সেটিকে হায়েজ ধরে পুনরায় ফরজ গোসল করবেন।
**৬ষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হলে পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসার ব্যপারে আপনি নিশ্চিত হলে সেক্ষেত্রে আপনি অপেক্ষা করবেন।
পরবর্তীতে হলুদ/বাদামি স্রাব আসা যখন বন্ধ হবে,তখন ফরজ গোসল করবেন।
*১০ম দিনেও যদি এই হলুদ/বাদামি স্রাব বন্ধ না হয়,বরং ১১ তম দিনেও আসে,সেক্ষেত্রে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে এই মাসে হায়েজ ধরবেন।
- গুনাহের ভয় না করে শরিয়তের এই সহজ বিধান অনুসরণ করুন।
প্রয়োজনীয় দোয়া:
اللهم اغفر لي وتب عليّ إنك أنت التواب الرحيم
(হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি অধিক তওবা কবুলকারী, দয়ালু।)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।