মল বের হওয়ার সন্দেহে আগের নামাজের হুকুম কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3089
Questioner: Keu ekjon
Question Asked: 24 Jul 2026, 11:01 PM
Reviewed & Published: 24 Jul 2026, 11:08 PM
Views: 30
Tokens: 4,789
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি বাথরুমে গিয়ে দেখি মলদ্বার দিয়ে সামান্য মল বের হয়ে ছিল। তবে তা আমার জামায় না লাগাতে বুঝতে পারি নি। এটা কখন বের হয়েছে আমি জানি না। এরই মাঝে আমি আসর মাগরিব এশা আদায় করেছি। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।

Answer

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম: বাথরুমে গিয়ে মলদ্বার দিয়ে সামান্য মল বের হওয়া দেখেছেন, কিন্তু তা কখন বের হয়েছে আপনি জানেন না। ইতিমধ্যে আপনি আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েছেন। এখন কী করবেন?

হানাফি ফিকহের আলোকে সমাধান:

হানাফি মতে, মল (নাজাসাত) বের হওয়া অযু ভঙ্গকারী কারণ। সামান্য হলেও কোনো পরিমাণই অযু ভঙ্গ করে। (রদ্দুল মুহতার ১/২৮২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১)

যেহেতু আপনি নিশ্চিত যে মল বের হয়েছে, কিন্তু কখন বের হয়েছে তা জানেন না, তাই আপনাকে ফিকহি নীতি অনুসরণ করতে হবে। নীতি হলো: “ইয়াক্বীন (নিশ্চিত) সংশয় দূর করে না।” আপনাকে এমন সময় ধরে নিতে হবে যখন আপনি অযু অবস্থায় নিশ্চিত ছিলেন। সর্বশেষ যে সময় আপনি অযু অবস্থায় নিশ্চিত ছিলেন, তা হলো আসর নামাজের আগে (যদি আসরের অযু করেন)। তারপর থেকে মল বের হওয়ার কারণে আপনার অযু নষ্ট হয়েছে বলে গণ্য হবে। যেহেতু আসর, মাগরিব ও এশা—এই তিন নামাজই ওই অযু দিয়েই পড়া হয়েছে, তাই প্রতিটি নামাজই অযু ছাড়া পড়া হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে এবং সেগুলো পুনরায় পড়া (ক্বাযা) আবশ্যক।

বিস্তারিত দলিল:

১. রদ্দুল মুহতার (৪/২৩): “যদি নামাজের পর নাজাসাত দেখা যায় এবং জানা না যায় এটি কখন ঘটেছে, তাহলে নামাজি যদি নিশ্চিত হয় যে নাজাসাত বের হয়েছে, তাহলে সে শেষবার যেভাবে পবিত্র ছিল সেটাই ধর্তব্য হবে। অর্থাৎ, সে যদি নিশ্চিত না হয় যে কখন ঘটেছে, তাহলে মনে করবে এটি সর্বপ্রথম সম্ভাব্য সময়ে ঘটেছে, যাতে পূর্বের সব নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।”

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৪): “যদি কেউ নামাজের পর নিজের কাপড়ে বা শরীরে নাজাসাত দেখে এবং জানে না তা কখন লেগেছে, তাহলে যদি সে নিশ্চিত হয় যে তার থেকে নাজাসাত বের হয়েছে (যেমন পেশাব বা পায়খানা), তাহলে সে সর্বশেষ অযুর সময় থেকে হিসাব করে বাকি নামাজ পুনরায় পড়বে।”

৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪৫): “যে ব্যক্তি নামাজের পর পেশাব বা পায়খানার চিহ্ন দেখে এবং নিশ্চিত যে তা বের হয়েছে, কিন্তু কখন বের হয়েছে স্মরণ নেই, তাহলে সে ওয়াক্ত হওয়া সব নামাজ পুনরায় আদায় করবে। কারণ অযু ভঙ্গ হওয়া নিশ্চিত, এবং কখন ভঙ্গ হয়েছে তা অজানা থাকায় সবচেয়ে পুরনো সময়কে ধর্তব্য করা হয়।”

আপনার জন্য করণীয়:

  • আসর, মাগরিব ও এশা—এই তিন নামাজ পুনরায় আদায় করুন (ক্বাযা করুন)। ধরে নিন এগুলো অযু ছাড়াই পড়েছেন।
  • ভবিষ্যতে নামাজের আগে ভালোভাবে ইস্তিঞ্জা করে পাক-পবিত্রতা নিশ্চিত করুন।
  • কোনো সন্দেহ হলে পুনরায় অযু করে নিন। তবে অহেতুক ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে বাঁচুন।

উল্লেখ্য: যদি আপনি আসরের পর আবার অযু করে মাগরিব এবং মাগরিবের পর আবার অযু করে এশা পড়ে থাকেন, তাহলে শুধু সেই নামাজগুলোই নষ্ট হবে যা মল বের হওয়ার পর পড়েছেন। কিন্তু যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই নিরাপদ সমাধান হলো তিনটিই পুনরায় পড়া।

আল্লাহ তাআলা আপনার তওবা ও ইবাদত কবুল করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.